
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ১০ শিক্ষার্থীকে চার মাসের আবাসন বৃত্তি দেওয়ার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার ইনিশিয়েটিভ’ (এসডব্লিউআই)। প্রথম ধাপে ২০৬টি আবেদন যাচাই করে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের এসব শিক্ষার্থীকে বৃত্তির জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা ঘোষণা করেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ১০ শিক্ষার্থীকে সহায়তার মধ্য দিয়ে শুরু হলেও ভবিষ্যতে এ উদ্যোগের পরিধি আরও বড় হতে পারে। একসময় এর মাধ্যমে হাজারো শিক্ষার্থী উপকৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আর্থিক সংকট যেন কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেটিই এ ধরনের উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন উপাচার্য। উদ্যোগটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি এর ধারাবাহিকতা ও বিস্তৃতি কামনা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ‘স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার ইনিশিয়েটিভ’ বন্ধুর ভূমিকা পালন করতে পারে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যক্তিগত, দলগত, শ্রেণিভিত্তিক কিংবা শিক্ষার্থীদের নিজেদের উদ্যোগ—সব ধরনের প্রচেষ্টাই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দাতা ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরাও এগিয়ে এলে শিক্ষার্থীদের সমস্যা অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও পরিকল্পনা তুলে ধরে স্লাইড উপস্থাপন করেন নাদিম মাহমুদ উল্লাস। আয়োজকেরা জানান, আবাসনের পাশাপাশি স্কিল ডেভেলপমেন্ট, চিকিৎসাসেবা ও প্রাণীসেবা—এই চারটি ক্ষেত্রকে সামনে রেখে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
আবাসন সহায়তার প্রথম ধাপে মোট ২০৬টি আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই শেষে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ১০ শিক্ষার্থীকে বেছে নেওয়া হয়। তাদের প্রত্যেককে চার মাসের জন্য আবাসন ব্যয় নির্বাহে বৃত্তি দেওয়া হবে। তবে শুধু সাময়িক আর্থিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ না থেকে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের আবাসন ব্যয় নিজেরাই বহন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে সংগঠনটির।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন। আরও বক্তব্য দেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হোসেন, কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ড. আমির মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলের প্রভোস্ট এ.জি.এম নিয়াজ উদ্দিন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শারমিন আক্তার এবং চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে নির্বাচিত ১০ শিক্ষার্থীর হাতে আবাসন বৃত্তির অর্থ তুলে দেন উপাচার্যসহ অতিথিরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরটিভি/টিআর



