
দূর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকরভাবে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (বিডিআরসিএস) স্বাস্থ্য বিভাগের ‘Pathways to Healing (P2H)’ প্রকল্পের আওতায় তিন দিনব্যাপী ‘বেসিক ফার্স্ট এইড অ্যান্ড সাইকোলজিক্যাল ফার্স্ট এইড’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের কনফারেন্স রুমে প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জবি উপাচার্য ও রেড ক্রিসেন্ট ইয়ুথ, জবি ইউনিটের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। অনুষ্ঠানে বিডিআরসিএসের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. মো. ফারহান সাদিক খান এবং ইউথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগের হেল্থ রিপ্রেজেন্টেটিভ মেহেদী হাসান উপস্থিত ছিলেন। পরে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন উপাচার্য।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হলেও কর্মের মাধ্যমে সবাই এ মর্যাদার যথার্থতা প্রমাণ করতে পারেন না। মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকেরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেই দায়িত্ব পালন করছেন। দুর্যোগের সময় জীবন রক্ষা, জরুরি সহায়তা প্রদান ও মানবিক সেবা নিশ্চিত করতে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষার্থীদের আত্মমর্যাদা ও দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নিজেদের সম্মান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। এ ধরনের উদ্যোগ জরুরি মুহূর্তে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সক্ষমতা বাড়াবে। ভবিষ্যতে আরও প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দুর্যোগ মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুতি ও দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করতে পারবেন।
রেড ক্রিসেন্ট ইয়ুথ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মতো এ ইউনিটকেও দ্রুত নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জবি রেড ক্রিসেন্ট ইয়ুথের টিচার ইন-চার্জ ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহ্মুদুল হাসান ফৈজী।
উল্লেখ্য, তিন দিনের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান, মানসিক সংকটে তাৎক্ষণিক সহায়তা এবং বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের বিভিন্ন কৌশল শেখানো হয়। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা এবং মানবিক সেবা প্রদানের বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আরটিভি/ এসকেডি




