ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে বুটেক্সের ডাই কেম এক্সপো: প্রতিমন্ত্রী টুকু

বুটেক্স সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২০ পিএম
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু । ছবি: আরটিভি

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ওয়েট প্রসেস ক্লাবের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ‘বুটেক্স-আইটিইটি ডাই কেম এক্সপো ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ আয়োজনের সমাপ্তি হয়েছে। দ্বিতীয় দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আধুনিক ডাইং শিল্পের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, পণ্যের গুণগত মান এবং উৎপাদন ব্যয় অপটিমাইজেশন নিয়ে প্যানেল আলোচনা। সকাল সাড়ে ১০টায় ‘ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যালস ইন মডার্ন ডাইং: ইন্ডাস্ট্রি চ্যালেঞ্জেস, কোয়ালিটি অ্যান্ড কস্ট অপ্টিমাইজেশন’ শীর্ষক এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় সঞ্চালক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শেখ মো. মামুন কবির। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন মাইক্রোফাইবার গ্রুপের টেকনিক্যাল ও মার্কেটিং পরিচালক প্রকৌশলী মো. মুখলেছুর রহমান খান, আহসান গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম রেজা, এম. এন. ডাইং ও মোশাররফ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক জহিরুল ইসলাম লিটন, মাসকো গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার রেজাউল হাসান এবং ইম্পেরিয়াল-এর উপদেষ্টা তারিক উল ইসলাম। এরপর ছিল পোস্টার উপস্থাপনা আয়োজন যেখানে শিক্ষার্থীরা টেক্সটাইল কেমিস্ট্রি, পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেন।

পরে অনুষ্ঠিত হয় এক্সপোর সমাপনী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইটিইটি বাংলাদেশের সভাপতি প্রকৌশলী এনায়েত হোসেন ও মহাসচিব প্রকৌশলী এ এস এম হাফিজুর রহমান নিক্সন এবং সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আজকের এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের জন্য কেমিক্যাল শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করছে, যা তাদের কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। আমরা সবাই মিলে আমাদের দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাই এবং দেশপ্রেম বুকের মধ্যে ধারণ করে সামনে আগাতে চাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পালনে সংকল্পবদ্ধ, কারণ আমরা ক্ষমতার চেয়ে দায়বদ্ধতা এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষাকে প্রধান বলে মনে করি।

এ সময় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্বশীল শিল্পায়নের লক্ষ্যে আমার একটি বৃহত্তর দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমাদের শিল্পের উন্নয়ন এখন শুধু উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সাথে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও সাসটেইনেবল টেক্সটাইল ম্যানুফ্যাকচারিং যুক্ত করতে হবে। একাডেমিয়ার গবেষণাগুলো যেমন উৎপাদন লাইনে পৌঁছাবে, তেমনি শিল্পের সমস্যাগুলোও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার বিষয়বস্তু হয়ে উঠবে। শিক্ষার্থীদের মেধা, সততা ও পরিশ্রম করার মানসিকতাই হবে আগামী বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পের মূল ভিত্তি।

অনুষ্ঠানে প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন বলেন, আইটিইটি ভবিষ্যতেও বুটেক্সের বিভিন্ন ক্লাব, বিশেষ করে ওয়েট প্রসেসিং ক্লাবের সাথে তাদের সহযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখবে। আইইবির নেতৃবৃন্দের মতে, প্রদর্শনীটি আয়োজনের দিক থেকে আন্তর্জাতিক 'আইটিএমএ' এক্সপোর মতো জাঁকজমকপূর্ণ ও আকর্ষণীয় মনে হয়েছে।

এছাড়া বুটেক্সের নতুন নতুন উন্নয়নমূলক কাজের প্রশংসা করে উপাচার্যের যেকোনো উদ্যোগে আইটিটির পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।

এ. এস. এম হাফিজুর রহমান নিক্সন বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো শুধুমাত্র ডায়িং ও টেক্সটাইল কেমিক্যালের ওপর এই দুই দিনব্যাপী এক্সপো অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের শিল্পের সর্বশেষ উদ্ভাবন ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সরাসরি জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করবে। টেক্সটাইল প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সাথে শিক্ষার্থীদের খাপ খাওয়াতে এবং ভবিষ্যতে অগ্রসর জ্ঞান নিয়ে শিল্পে যুক্ত হতে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে এই ধরনের শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগ ও এক্সপো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সংযোগ বৃদ্ধি ও শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার উন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমদানি নির্ভরতা কমাতে ও উৎপাদন খরচ সাশ্রয়ে দেশেই ডাইস-কেমিক্যাল তৈরির জন্য একটি 'কেমিক্যাল ভিলেজ' গড়ে তোলা প্রয়োজন। বিদেশ থেকে কেমিক্যাল আমদানি না করে দেশেই ম্যানুফ্যাকচারিং করা সম্ভব হলে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। ফলে প্রতিবছর বিদেশে চলে যাওয়া কোটি কোটি ডলার সাশ্রয় করে তা দেশের অর্থনীতিতে রাখা সম্ভব হবে।

সবশেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এ এক্সপোর সমাপ্তি ঘটে। টেক্সটাইল শিল্পের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি, শিল্পের আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা প্রদান এবং টেকসই টেক্সটাইল শিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে এ এক্সপোর আয়োজন করা হয়।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কুবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৬তম বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াড
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) রসায়ন বিভাগের সহযোগী সংগঠন ‘রসায়ন সমিতি’র উদ্যোগে ১৬তম বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াডের প্রার্থমিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কুমিল্লা অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬৩৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।  শিক্ষার্থীদের রসায়নবিষয়ক জ্ঞান বৃদ্ধি, এ বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি এবং মেধার বিকাশে এ ধরনের আয়োজন কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এ অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়।  জানা যায়, প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা অঞ্চল থেকে মোট ৬৮০ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেন। তাদের মধ্যে ৬৩৮ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলার শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। প্রাথমিক পর্বের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মেধাক্রমে প্রথম থেকে দশম স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। আগামী ২৮ নভেম্বর ২০২৬ (শনিবার) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাথমিক পর্বে নির্বাচিত মেধাবী শিক্ষার্থীরা এ পর্বে অংশগ্রহণ করবে। অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ কে এম রায়হান উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুবির রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অলিম্পিয়াডের সদস্যসচিব সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। অলিম্পিয়াডে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থী মোন্তাছির ভূঁইয়া বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি কখনোই পড়াশোনায় প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় হওয়ার মতো অবস্থানে ছিলাম না। নিজেকে একজন সাধারণ শিক্ষার্থী মনে করি। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সময় ক্যাডেট কলেজের শিক্ষার্থীদের ভালো করার সম্ভাবনাই বেশি মনে হয়েছিল। নিজের অবস্থান নিয়ে খুব বেশি প্রত্যাশা ছিল না। কিন্তু ফলাফলে দ্বিতীয় হওয়ার পর অনুভূতিটা ছিল অসাধারণ। বাবা-মাকে যখন বিষয়টি জানাই, তখন আবেগ ধরে রাখতে পারিনি।’ অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘রসায়ন শুধু ল্যাবের বিভিন্ন বিক্রিয়া বা পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের সঙ্গে রসায়ন জড়িত। সকালে আমরা যে খাবার খেয়ে থাকি, তার উপাদান থেকে শুরু করে সুস্থ থাকার জন্য কী পরিমাণ খাবার গ্রহণ করা উচিত, সবকিছুতেই রসায়নের ভূমিকা রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আজকের অলিম্পিয়াডের মূল উদ্দেশ্য শুধু প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা নয়, বরং রসায়নকে জনপ্রিয় করা এবং এর ব্যবহার সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করা। এবারের অলিম্পিয়াডে কুমিল্লা অঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৬০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। এটা প্রমাণ করে, রসায়নের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ রয়েছে।’ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘রসায়নের মতো প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া খুবই প্রশংসনীয় এবং এটি মেধা বিকাশে দারুণ ভূমিকা রাখবে। তবে বর্তমান পরীক্ষার ফলাফল আসলে খুবই হতাশাজনক, যা শিক্ষাব্যবস্থার অবস্থাকেই প্রকাশ করে। বিশেষ করে মোবাইল ফোন হলো বর্তমানে পড়ালেখার প্রধান শত্রু। আমি একে “শয়তানের বাক্স” বলি। এটি পড়ালেখা ও ভালো ফলাফল থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে। শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব হলো মোবাইল ফোন ব্যবহারে সচেতন হওয়া।’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রথমে ভালো টেক্সটবই এবং দ্বিতীয়ত ভালো শিক্ষক প্রয়োজন, কারণ তাঁরা হলেন জ্ঞানের বাতিঘর। এই দুইয়ের সমন্বয় ঘটিয়ে প্রতিদিন তোমাদের নিয়মিত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পড়াশোনা করতে হবে। তবেই তোমাদের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল আসবে।’ অনুষ্ঠানে সদস্যসচিব সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মধ্যে রসায়ন ও বিজ্ঞানচর্চার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং তাদের সৃজনশীল ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তির বিকাশে কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। পাঠ্যবইয়ের প্রচলিত শিক্ষার বাইরে এসে শিক্ষার্থীরা যেন রসায়নকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারে এবং রসায়নের নতুন কিছু জানার ও আবিষ্কারের আগ্রহ অর্জন করে এ আয়োজনের মাধ্যমে আমরা সেই সুযোগ তৈরি করতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুরের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। এ আয়োজন সফল করতে বাংলাদেশ রসায়ন সমিতি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষকবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক এবং আয়োজক কমিটির সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। আমরা আশা করি, এ অলিম্পিয়াডের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার মতো মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি হবে।’ আরটিভি/এসআর  
কুবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৬তম বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াড
স্কোপাস-ইনডেক্সড গবেষণা প্রকাশনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে শীর্ষে যবিপ্রবি 
আন্তর্জাতিক গবেষণা ডাটাবেজ ‘স্কোপাস’ (Scopus)-এর ইনডেক্সড গবেষণা প্রকাশনার সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী যবিপ্রবির গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ১৩৭৪ টি। ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের শেষে স্কোপাসের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অনুসন্ধানের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী রিসার্চ হাবে প্রকাশিত তালিকা হতে এ তথ্য জানা যায়। তালিকায় দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের মোট ১৬৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এই শীর্ষ তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে দেশের সকল সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে যবিপ্রবির অবস্থান ১৬তম। এ তালিকায় সারাদেশে প্রথম স্থানে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। প্রকাশিত এ তালিকায় পাঁচটি সূচকের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্কোর নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মোট গবেষণা প্রকাশনায় ৬০ শতাংশ, মোট উদ্ধৃতিতে ২০ শতাংশ, প্রতি প্রকাশনায় গড় উদ্ধৃতিতে ১০ শতাংশ, গবেষণায় আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের হার ৫ শতাংশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক এইচ-ইনডেক্সে ৫ শতাংশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তালিকার তথ্য অনুযায়ী ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিন বছরে যবিপ্রবির গবেষকদের মোট ১৩৭৪টি গবেষণা প্রকাশনা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এসব গবেষণাপত্র মোট ১৮ হাজার ৬১৯ বার উদ্ধৃত (সাইটেশন) হয়েছে। প্রতি গবেষণাপত্রে গড় উদ্ধৃতির সংখ্যা ১৩.৬ এবং গবেষণায় আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের হার ৫৮.৬ শতাংশ। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাতিষ্ঠানিক এইচ-ইনডেক্স ৫৬। এ বিষয়ে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড.ইয়ারুল কবীর বলেন, আমাদের শিক্ষকদের প্রচেষ্টা ও গবেষণার প্রতি আন্তরিকতার কারণেই স্কোপাস ইনডেক্সড জার্নালে গবেষণা প্রকাশনার আমরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। এটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এ অর্জনের জন্য আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ‘গবেষণার অগ্রগতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি সুবিধা ও সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আমরা আশাবাদী, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও গবেষণাবান্ধব পরিবেশের মাধ্যমে আগামীতে যবিপ্রবি গবেষণায় আরও ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে।’ উল্লেখ্য, স্কোপাস হলো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক গবেষণা তথ্যভান্ডার, যেখানে বিভিন্ন বিষয়ের গবেষণাপত্র, বই ও সম্মেলনে প্রকাশিত গবেষণার তথ্য সংরক্ষিত থাকে। বৈজ্ঞানিক তথ্য ও গবেষণাসেবা প্রতিষ্ঠান এলসেভিয়ার পরিচালিত এই তথ্যভান্ডারে গবেষণাপত্রের সারসংক্ষেপ, লেখক, প্রকাশনার বিবরণ এবং সেগুলো অন্য গবেষণায় কতবার উদ্ধৃত হয়েছে, তার তথ্য পাওয়া যায়। গবেষণাপত্র প্রকাশনায় ২০২৬ সালের এই র‍্যাঙ্কিংয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নির্ধারণে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত স্কোপাসে সূচিবদ্ধ ইংরেজি ভাষার গবেষণাপত্রের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। আরটিভি/এসআর
স্কোপাস-ইনডেক্সড গবেষণা প্রকাশনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে শীর্ষে যবিপ্রবি 
যবিপ্রবির সামনে ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী ও পথচারীরা
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) দুটি প্রবেশপথের মাঝখানে সড়কের পাশে দীর্ঘ পাঁচ থেকে ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে জমে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। দিনের পর দিন জমতে থাকা এসব বর্জ্য থেকে সেখানে তৈরি হয়েছে ময়লার ভাগাড়। ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারীদের। সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথ এবং শিক্ষার্থীদের আবাসস্থলের কাছাকাছি এমন পরিস্থিতি স্বাভাবিক চলাচল ও বসবাসের পরিবেশকে ব্যাহত করছে। দুর্গন্ধের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ওই সড়ক এড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের রাস্তা ব্যবহার করছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত ময়লা অপসারণের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে ওই স্থানে আবারও ময়লার ভাগাড় গড়ে উঠতে না পারে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের বিভিন্ন হোটেলের মালিকেরা ড্রামে করে ময়লা-আবর্জনা এনে রাতের আঁধারে ওই স্থানে ফেলে যান। এ ছাড়া আশপাশের বিভিন্ন মেসে কর্মরত অনেকে বালতিতে করে গৃহস্থালি বর্জ্য সেখানে ফেলছেন। বিভিন্ন উৎস থেকে প্রতিনিয়ত বর্জ্য জমতে থাকায় ভাগাড়টি ক্রমেই বড় হচ্ছে। সেই সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ, বাড়ছে আশপাশের মানুষের ভোগান্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আকিব ইকবাল বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসের পাশে অবস্থিত ময়লার ভাগাড়ের কারণে চরম স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। এটি আমাদের প্রতিনিয়ত ভোগাচ্ছে। এমনকি দুর্গন্ধ ও পরিবেশদূষণ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। তাই শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত ময়লার ভাগাড়টি অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’ শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহ বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা বন্ধুরা ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধের কারণে পাশ দিয়ে যেতে পারি না। ফলে বাধ্য হয়ে গেটের ভেতরের রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদারকিতে ওই স্থানে ময়লা ফেলা বন্ধ করা হলে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ও নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারব।’ এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. হামিদুর রহমান বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। যেহেতু এটি পরিবেশসংক্রান্ত বিষয়, তাই পরিবেশ কমিটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে বিষয়টি পাঠিয়েছি।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল হক বলেন, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। যত দ্রুত সম্ভব ওই স্থানে যারা ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করব। যেহেতু স্থানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে, তাই সেখানে সরাসরি বল প্রয়োগ করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে স্থানটি আমাদের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত চলাচলের পথ হওয়ায় বিষয়টিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যাটি সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। আরটিভি/ এসআর
যবিপ্রবির সামনে ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী ও পথচারীরা
নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য, ডিআইইউ হাবের অ্যাডমিন আটক
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল মন্তব্য করার অভিযোগে ‘ডিআইইউ হাব’ নামের একটি ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন আশরাফকে আটক করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় তাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ডিআইইউ কালচারাল ক্লাব আয়োজিত ‘কালচারাল ফেস্ট ২.০’-এর একটি নৃত্য পরিবেশনাকে কেন্দ্র করে ‘ডিআইইউ হাব’ নামের ফেসবুক পেজ থেকে কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল পোস্ট দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পেজটির অ্যাডমিন আশরাফ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ৯৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ক্যাম্পাসের ক্যান্টিন থেকে তাকে আটক করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে প্রক্টর অফিসে বিষয়টির সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাঁকে উপাচার্যের কাছে নিয়ে যান। এ সময় উপাচার্য আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। জানা যায়, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে কয়েকটি অজ্ঞাতনামা ফেসবুক পেজ থেকে নেতিবাচক ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এসব ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। এর মধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশ্লীল মন্তব্যের অভিযোগ সামনে এলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীরা জানান, এ ধরনের মন্তব্য যৌন হয়রানি ও সাইবার বুলিংয়ের শামিল। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনা না হলে ভবিষ্যতে আরও অনেক নারী শিক্ষার্থী এ ধরনের হয়রানির শিকার হতে পারেন। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং অভিযুক্তকে স্থায়ীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান তারা। এদিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। এরপরও তাকে শাস্তির আওতায় আনতে কেন তিন কার্যদিবস সময় প্রয়োজন, তা তাদের বোধগম্য নয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম জানান, ‘ডিআইইউ হাব’ পেজের অ্যাডমিনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তাকে আগামীকাল বিকেল ৫টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপর আগামীকালই এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আরটিভি/এসআর  
নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য, ডিআইইউ হাবের অ্যাডমিন আটক
ওষুধের মূল্যকে কেন্দ্র করে রুয়েট শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, থানায় জিডি
রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) জানতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে নগরীর ‘স্নিগ্ধা ফার্মেসি’র মালিক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।  এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে রাজশাহীর রাজপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে রাজশাহী নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (ইউআরপি) বিভাগের শিক্ষার্থী।  নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার ভাষ্য, তিনি স্নিগ্ধা ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে গেলে দোকানের কর্মচারীরা প্রেসক্রিপশন দেখে অনলাইনে প্রদর্শিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম দাবি করেন। এ সময় ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) জানতে চাইলে কর্মচারীরা তা জানেন না বলে জানান। তাদের আচরণ সন্তোষজনক মনে না হওয়ায় তিনি পাশের অন্য একটি দোকানে ওষুধ কিনতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভুক্তভোগীর থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এ সময় ফার্মেসির ভেতরে থাকা দোকানমালিক তার কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলেন। এরপর কর্মচারীরা ঐ শিক্ষার্থী ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। গালির কারণ জানতে চাইলে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু হয়। একপর্যায়ে দোকানের কর্মচারী হাসু তাকে ধাক্কা দেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঘুষি মারেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসময় দোকান মালিক, অপর কর্মচারী শুভ এবং আশপাশের অন্যান্য ফার্মেসির লোকজন তাদের ঘিরে ধরে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলেও অভিযোগ করেন ঐ শিক্ষার্থী। ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর কয়েকজন বন্ধু ও জুনিয়র শিক্ষার্থী ফার্মেসির সামনে উপস্থিত হন। এ বিষয়ে রুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ২০২২–২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল ইমরান জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে ফার্মেসির মালিকপক্ষ তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় এবং ঘটনার বিস্তারিত জানানো হয়। অভিযোগের বিষয়ে ফার্মেসির কর্মচারী হাসুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভিন্ন দাবি করেন। তিনি জানান, ঐ শিক্ষার্থী যে ওষুধটি নিতে এসেছিলেন, সেটি তার ভাষায় ‘ড্রাগের মধ্যে’ পড়ে এবং ক্যানসারের ব্যথায় ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের ওষুধ দেওয়ার আগে প্রেসক্রিপশন চাওয়া হলে ঐ শিক্ষার্থী মানিব্যাগ থেকে একটি প্রেসক্রিপশন দেন। তবে ওষুধটি যে কাউকে দেওয়া যায় না জানিয়ে অপারগতা প্রকাশ করেন।  ‘এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তিনি দুপুরের খাবার খেতে বাইরে চলে গেলে প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর ৩০–৪০ জন একসঙ্গে দোকানে এসে জড়ো হন। এ সময় হাসুকে দোকান থেকে ফোন করে ঘটনার কথা জানানো হয়। পরে দোকানের মালিককে ভেতরে নিয়ে আবার বাইরে বের করে মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি করেন ঘটনার বিবাদী হাসু।’ খবর পেয়ে রাজশাহীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ এবং কয়েকজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য শোনেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে কর্মচারী হাসু (৩০), দোকানমালিক ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়েছে। এতে ঘটনার সময় ও স্থান উল্লেখ করার পাশাপাশি দুজনকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে রাজপাড়া থানার ওসি মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে অভিযোগ শোনেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি পর্যালোচনা করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে রাজপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পণ্য কেনাকাটার ক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মানজনক আচরণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, ওষুধের সঠিক মূল্য জানা একজন ক্রেতার অধিকার। এ ধরনের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে কোনো ক্রেতাকে হেনস্তা বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা অনাকাঙ্ক্ষিত। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্যতা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। আরটিভি/এসআর
ওষুধের মূল্যকে কেন্দ্র করে রুয়েট শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, থানায় জিডি
আরও পড়ুন
বুটেক্সে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ প্রকাশ
বুটেক্সের শিক্ষার্থীকে হল থেকে বহিষ্কার