
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) স্বাধীনতা হলে সিট বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসন বরাদ্দ দিতে পারেনি হল প্রশাসন। বিগত ছয় মাসে হলের সিট নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশ করা হলেও যেন আশ্বাসেই শেষ, এখন পর্যন্ত সিট বরাদ্দের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি হল প্রশাসনকে। বরং সিনিয়রদের বাদ দিয়ে জুনিয়রদের সিট বরাদ্দের অভিযোগ শিক্ষার্থীদের
এদিকে সিট বরাদ্দ নিয়ে হল প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রতার কারণে বৈধভাবে সিটের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীরা মাসের পর মাস আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে, বরাদ্দ না হওয়ার সুযোগে ফাঁকা আসনগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব ও সুবিধার ভিত্তিতে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে আবাসিক শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীসহ কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী তাদের অনুসারী জুনিয়রদের হলের বিভিন্ন কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও সিনিয়র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতা হলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সিট বরাদ্দের অপেক্ষায় থাকলেও হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত এপ্রিল মাসে স্বাধীনতা হলে সিট বরাদ্দের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। হল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সে সময় প্রায় ৮০টি ফাঁকা আসন শনাক্ত করে বরাদ্দের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ছিল, মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই নতুন শিক্ষার্থীদের আবাসিকতা দেওয়া সম্ভব হবে। তবে অদৃশ্য কারণে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো সেই সিট বরাদ্দের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অনাবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা বর্তমানে সবচেয়ে সিনিয়র ব্যাচগুলোর একটি। অথচ দুঃখজনক বিষয় হলো, এখনো হলে বৈধভাবে সিট পাচ্ছি না। আমরা আশায় আছি, দ্রুত অ্যালটমেন্ট দেওয়া হলে সিট পাব। কিন্তু হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখছি না। আমাদের জুনিয়র অনেক শিক্ষার্থী রাজনৈতিক সুবিধায় অবৈধভাবে বিভিন্ন সিটে অবস্থান করছে। অথচ এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি চোখে পড়ছে না।
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, হল প্রশাসনের উচিত অতিদ্রুত শূন্য আসনগুলো যোগ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া। প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রতার কারণে আমরা যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও বৈধভাবে হলে উঠতে পারছি না। অথচ দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেক জুনিয়র শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে হলে অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে হল প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
এ বিষয়ে স্বাধীনতা হলের প্রভোস্ট মো. আল ফাহাদ ভূঁইয়া বলেন, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির কিংবা ইনকিলাব মঞ্চ কোনো সংগঠনেরই বৈধতা নেই হলের কক্ষে কক্ষে গিয়ে খালি আসন যাচাই করার। মূলত একটি কারিগরি জটিলতার কারণে আমি এখনো আসন বরাদ্দ দিতে পারছি না। স্বাধীনতা হলের গণরুমে থাকা ১১ জন শিক্ষার্থীর নতুন আবাসিক ঠিকানা হিসেবে জুলাই ৬ হল নির্ধারিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জুলাই ৬ হলে তাদের আবাসনের ব্যবস্থা না হওয়ায় এই ১১ জনের বিষয়টি এখনো সুরাহা হয়নি। ফলে তাদের আবাসন সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত স্বাধীনতা হলে নতুন করে আসন বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বিষয়টি প্রায় এক মাস আগেই জুলাই ৬ হলের প্রভোস্টকে জানানো হয়েছে। তিনি বিষয়টি দেখছেন। এই জটিলতা নিরসন হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসন বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া অনেক শিক্ষার্থী আসন বাতিলের আবেদন না করেই ক্যাম্পাস ছেড়েছেন। এর ফলে যেসব আসন খালি রয়েছে, সেগুলোতে এভাবে জুনিয়র শিক্ষার্থীরা উঠে যাচ্ছেন। তবে আমি আশা করছি, নতুন করে আর কেউ অবৈধভাবে হলে অবস্থান করতে পারবেন না।
আরটিভি/এমএম



