ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

রুয়েটে কোডিং পদ্ধতি চালুর প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা

রুয়েট সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
ছবি: আরটিভি

পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) বহুল প্রতীক্ষিত ‘ইউনিক কোডিং পদ্ধতি’ চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ দেখা যায়নি। পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি বিভাগে এ পদ্ধতি চালুর কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের কাছে প্রতিশ্রুতিটি এখনো অধরাই রয়ে গেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ১২ দফা দাবির অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল উত্তরপত্রে রোল নম্বরের পরিবর্তে কোড প্রবর্তন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২ মে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের (২৫ সিরিজ) তিনটি বিভাগ—কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট (বিইসিএম) এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং (ইসিই)—এ পরীক্ষামূলকভাবে কোডিং পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নির্ধারিত তিনটি বিভাগে সফলভাবে এ পদ্ধতি বাস্তবায়নের পর পর্যায়ক্রমে সব বর্ষ ও বিভাগে তা সম্প্রসারণ করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু বিভাগ তিনটির প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষায় এ পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটেনি বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সূত্রে কোডিং পদ্ধতির প্রাথমিক বাস্তবায়ন না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিকে দেশের অন্যান্য উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকটিতে ইতোমধ্যে কোডিং পদ্ধতি চালুর দৃশ্যমান অগ্রগতির তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, দেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) পরীক্ষার উত্তরপত্রে কোডিং পদ্ধতি চালু রয়েছে।

অন্যদিকে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিকভাবে ছয়টি বিভাগে এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ইতিহাস ও ইংরেজি বিভাগে এ পদ্ধতির আওতায় পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়েছে। এ ছাড়া যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) সব পরীক্ষায় কোডিং পদ্ধতি চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এ ক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেও রুয়েটের মতো একটি শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এমন স্থবিরতায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

কোডিং পদ্ধতি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হওয়ার বিষয়ে রুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. তৌহিদ আরিফ খান চৌধুরী জানান, কোডিং পদ্ধতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কমিটির চেয়ারম্যানকে দিয়েছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন ইতোমধ্যে কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে পরীক্ষামূলকভাবে এ পদ্ধতি চালুর বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ও নির্ধারিত ফরম্যাট পেলে টপশিট প্রস্তুত, কোডিং-ডিকোডিং এবং ফলাফল প্রক্রিয়াকরণের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে এ প্রসঙ্গে রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, ‘কোডিং পদ্ধতি বাস্তবায়নের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কোথাও জটিলতা থাকলে তা ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা হবে।’ পাশাপাশি পরীক্ষা ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতিতে প্রশ্ন প্রণয়ন, মডারেশন ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের সঙ্গে একাধিক শিক্ষক যুক্ত থাকেন। এ ছাড়া উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের (রিভিউ) সুযোগ থাকায় কোনো শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র এককভাবে অবমূল্যায়িত হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশেই কম।

প্রশাসনের বক্তব্যের বিপরীতে শিক্ষার্থীরা জানান, উত্তরপত্র মূল্যায়নে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা প্রতিষ্ঠা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে কোডিং পদ্ধতির বিকল্প নেই। দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে দ্রুত আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি এবং সব বিভাগে কোডিং পদ্ধতি কার্যকর করার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটনব্যবস্থার বিকল্প নেই: ইবি উপাচার্য
প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটনব্যবস্থার বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘Digital Agenda and Artificial Intelligence to Redesign Tourism’। উপাচার্য বলেন, পর্যটন এখন আর শুধু আনন্দ-বিনোদন কিংবা অবকাশযাপনের বিষয় নয়; এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা তৈরি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের রয়েছে সমুদ্রসৈকত, নদী, বন, পাহাড়, চা-বাগান, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এসব সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে পর্যটন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, সেবার মানের ঘাটতি, যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাব ও নিরাপত্তাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটনব্যবস্থার বিকল্প নেই। বিশ্ব পর্যটন খাতে ইতোমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুরু হয়েছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, স্মার্ট পরিকল্পনা, তথ্য-উপাত্তভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল বিপণন এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক ভ্রমণ-অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এআই পর্যটন খাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনছে। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার বাংলাদেশের পর্যটনসেবাকে আরও আধুনিক, পর্যটকবান্ধব ও বৈশ্বিক জনগোষ্ঠীর জন্য সহজলভ্য করতে পারে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এআই-নির্ভর পর্যটন হবে আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক, কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। ছোট উদ্যোক্তা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোও আন্তর্জাতিক পর্যটনবাজারে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা, দায়িত্বশীল পর্যটন আচরণ এবং সাংস্কৃতিক ও মানবিক মূল্যবোধকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, এআই, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, ডিজিটাল বিপণন ও স্মার্ট আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে পর্যটনবিষয়ক গবেষণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটাতে হবে। তাদের উদ্ভাবনী গবেষণা ও উদ্যোগ টেকসই পর্যটনের বিকাশ, প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। উপাচার্য বলেন, বিশ্ব পর্যটন দিবস শুধু উদ্‌যাপনের দিন নয়; এটি পর্যটন খাতের উন্নয়নে নতুন করে অঙ্গীকার করার দিন। প্রযুক্তি, সৃজনশীলতা ও মানবিকতার সমন্বয়ে একটি আধুনিক, সেবামুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পর্যটনশিল্প গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রযুক্তি যেন কখনো মানুষের বিকল্প হয়ে না ওঠে; বরং মানুষের সেবা, আতিথেয়তা ও মানবিকতাকে আরও কার্যকর করার মাধ্যম হিসেবে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করতে হবে। ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম জুয়েলের সভাপতিত্বে সেমিনারে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী এবং রহিমাফরোজ বাংলাদেশ লিমিটেডের গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়াজ রহিম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড রুরাল বেসড অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক ইরফান আহমেদ। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুস শাহীদ মিয়া, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন সেলিম, এনজিও দিশার নির্বাহী পরিচালক মো. রবিউল ইসলাম এবং গোয়িংফ্লাইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক ইরফান আহমেদ বলেন, পর্যটন খাতের সামগ্রিক রূপান্তর ও টেকসই উন্নয়নে প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দিন দিন অপরিহার্য হয়ে উঠছে। আধুনিক বিশ্বব্যবস্থায় শিল্পবিপ্লব থেকে প্রযুক্তিগত বিপ্লবের দিকে অগ্রসর হতে ডিজিটাল কর্মপরিকল্পনা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। এআইয়ের সঠিক প্রয়োগ একজন পর্যটকের গন্তব্য নির্বাচন, তথ্য অনুসন্ধান, ভ্রমণ পরিকল্পনা, সহজে বুকিং, ভাষান্তর এবং ভ্রমণ-অভিজ্ঞতাকে অনন্য করে তোলার পাশাপাশি ফিরতি যাত্রাও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলতে পারে। তিনি বলেন, হোটেল-রিসোর্ট ব্যবস্থাপনা, স্বল্প সময়ে উদ্ভাবনী ভ্রমণ প্যাকেজ তৈরি এবং সরকারি পর্যায়ে পর্যটকদের জন্য সঠিক তথ্য শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি সঠিক পরিকল্পনা ও গবেষণাভিত্তিক তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও ব্যবসায়িক খাতকে সমৃদ্ধ করে টেকসই পর্যটন নিশ্চিত করতেও এআই ও ডিজিটাল কর্মপরিকল্পনা যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটনব্যবস্থার বিকল্প নেই: ইবি উপাচার্য
বিরল আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেলেন রাবির প্রফেসর ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. অরুন কুমার 
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সংগঠন আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির (এপিএস) ২০২৬ সালের ফেলো নির্বাচিত হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার বসাক।
বিরল আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেলেন রাবির প্রফেসর ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. অরুন কুমার 
ইবিতে স্তন ক্যান্সার সচেতনতায় ‘গোলাপী সড়ক শোভাযাত্রা’
স্তন ক্যান্সার সচেতনতার মাস উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘গোলাপী সড়ক শোভাযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইবিতে স্তন ক্যান্সার সচেতনতায় ‘গোলাপী সড়ক শোভাযাত্রা’
রুয়েটে ফার্স্ট এইড ও ইমার্জেন্সি রেসপন্স ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলাবিষয়ক ‘নিরব ফার্স্ট এইড ও ইমার্জেন্সি রেসপন্স ওয়ার্কশপ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেশন হাবে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। রুয়েটের ব্লাড ডোনেশন ক্লাব নিরাপদ রক্তের বন্ধন (নিরব) এবং ব্লাড কেয়ার ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সঠিকভাবে সাড়া দেওয়া এবং প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় কৌশল হাতে-কলমে শেখানো হয়। প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও বর্ষের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। কর্মশালায় প্রাথমিক চিকিৎসার মৌলিক ধারণা, শ্বাসনালিতে কোনো বস্তু আটকে গেলে করণীয়, শকের ক্ষেত্রে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ, আহত ব্যক্তিকে নিরাপদে স্থানান্তর এবং পোড়া ও হাড় ভাঙার ক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ ছাড়া রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ এবং হৃদ্‌যন্ত্র ও শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গেলে প্রাথমিক পর্যায়ে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) দেওয়ার পদ্ধতিও শেখানো হয়। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্লাড কেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ। তিনি প্রাথমিক চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নিরবের সভাপতি ও আইপিই বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নওশাদ হোসেন রাকিব। বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কর্মশালাটি প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক হয়ে ওঠে। অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন খেলাধুলা ও অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বিষয়গুলো শেখানো হয়। এতে প্রশিক্ষণটি শিক্ষার্থীদের কাছে আরও উপভোগ্য ও কার্যকর হয়ে ওঠে। এ ধরনের আয়োজনের জন্য ব্লাড কেয়ার ফাউন্ডেশন, আমন্ত্রিত অতিথি, প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রশিক্ষণার্থীরা। আকস্মিক দুর্ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কার্যকরভাবে সাড়া দিতে রুয়েটের শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের। কর্মশালার শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়। এতে তাঁদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে অবস্থান নির্ধারণ করা হয় এবং কৃতিত্ব অর্জনকারীদের উপহার দেওয়া হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণের মাধ্যমে এ শিক্ষণীয় আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। আরটিভি/টিআর
রুয়েটে ফার্স্ট এইড ও ইমার্জেন্সি রেসপন্স ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত
হাবিপ্রবিতে আয়োজিত হলো চিঠি উৎসব ও ডাকটিকিট প্রদর্শনী
বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) চিঠি উৎসব ও ডাকটিকিট প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, দিনাজপুরের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নওশের ওয়ান, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুল হাসান এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. এস এম এমদাদুল হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর ডাক বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. রশিদুল হাসান। আলোচনা পর্বে বক্তারা ডাক বিভাগের ইতিহাস ও বর্তমান সময়ে এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে কথা বলেন। উপাচার্য ডাকসেবা টিকিয়ে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং অতীতের স্মৃতিচারণ করেন। ডাক বিভাগের প্রতিনিধিরা জানান, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভাগের সেবার ধরন বদলাচ্ছে। সম্প্রতি দিনাজপুর থেকে প্রচুর লিচু ডাকের মাধ্যমে সারা দেশে পাঠানো হয়েছে।’ এতে স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কৃষকেরা উপকৃত হয়েছেন বলেও তাঁরা জানান। উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল চিঠি লেখা। মাত্র ১০ টাকায় শিক্ষার্থীরা বিশেষ ডাকসেবার মাধ্যমে প্রিয়জনদের কাছে চিঠি পাঠান। ডিজিটাল যোগাযোগের এ সময়ে হাতে লেখা চিঠির অভিজ্ঞতা পেয়ে অনেকেই আগ্রহী হয়ে ওঠেন। প্রদর্শনীতে বিভিন্ন সময়ের ঐতিহ্যবাহী ও স্মারক ডাকটিকিট প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ছিল ১, ২, ৩, ৪, ৫, ১০ ও ২০ টাকা মূল্যমানের ডাকটিকিট। তরুণ প্রজন্মকে ডাকটিকিটের ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার এ উদ্যোগ প্রশংসা পেয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে স্থাপিত বিভিন্ন স্টলে পাটের ব্যাগ, ডায়েরি, ক্যালেন্ডার এবং ছোট-বড় লেটার বক্স বিক্রি করা হয়। পোস্টার ও ব্যানারে অভ্যন্তরীণ ডাক, রেজিস্ট্রি চিঠি, স্পিড পোস্ট, পার্সেল, বৈদেশিক ডাক, সঞ্চয় হিসাব ও সঞ্চয়পত্র, ডাক এবং ‘নগদ’ সেবা সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরা হয়। ‘এক ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ উৎসবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, প্রচলিত ডাকসেবা ও নতুন প্রযুক্তির সমন্বয়ে ডাক বিভাগ আরও সমৃদ্ধ হবে। আরটিভি/টিআর
হাবিপ্রবিতে আয়োজিত হলো চিঠি উৎসব ও ডাকটিকিট প্রদর্শনী
আরও পড়ুন
রুয়েটে ফার্স্ট এইড ও ইমার্জেন্সি রেসপন্স ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত
শিক্ষার্থীদের দাবিতে রুয়েটের হলে লিফট চালু করতে প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা
ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা দিতে রাজি হননি শিক্ষার্থী, অতঃপর...
ডেঙ্গু রোধে রুয়েট প্রশাসনের কর্মসূচি, একাধিক জরুরি নির্দেশনাও জারি