
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন টেক্সাস ওয়াটার রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের (টিডব্লিউআরআই) পরিচালিত ‘মিলস এনডাওমেন্ট গ্রান্ট’ পেয়েছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষক মিফতাহুল মবিন চৌধুরী শাব্দিক। ২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য নির্বাচিত ছয়জন গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনি বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি। পানি সম্পদ বিষয়ক গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ অনুদান দেওয়া হয়েছে।
টেক্সাস ওয়াটার রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট তাদের ওয়েবসাইটে ২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষের অনুদান প্রাপ্ত ছয় শিক্ষার্থীর নাম ও গবেষণার বিষয় প্রকাশ করেছে। এ অনুদানের আওতায় প্রতিটি গবেষণা প্রকল্পের জন্য এক বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার দেওয়া হয়। টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয় এবং টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি অ্যাট গ্যালভেস্টনের স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পানি সম্পদ বিষয়ক গবেষণায় সহায়তা করতে প্রতিবছর প্রতিযোগিতা মূলক ভাবে এ অনুদান দেওয়া হয়।
মিফতাহুল মবিন রুয়েট যন্ত্রকৌশল বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন এবং একই বিভাগে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগে পিএইচডি করছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টির ঐ বিভাগে সামার ও ফল সেমিস্টারে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট-রিসার্চ (জিএআর) এবং গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট-টিচিং (জিএটি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার গবেষণার বিষয় ‘পিএফএএস দূরীকরণ: ন্যানো কম্পোজিট সমৃদ্ধ নন-থার্মাল প্লাজমাভিত্তিক অ্যাডভান্সড অক্সিডেশন-রিডাকশন প্রসেস (এওআরপি)’। এ গবেষণার মূল লক্ষ্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে পিএফএএস দূষণ দূরীকরণের কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন করা। পিএফএএস একধরনের দীর্ঘস্থায়ী রাসায়নিক দূষক, যা পরিবেশ ও পানির গুণগত মানের জন্য উদ্বেগের কারণ। ন্যানো কম্পোজিটের সহায়তায় নন-থার্মাল প্লাজমাভিত্তিক উন্নত জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়া ব্যবহার করে এ দূষক অপসারণের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছেন তিনি।
এবারের অনুদান প্রাপ্ত অন্য পাঁচ শিক্ষার্থী হলেন চীনের লুরুই চেন ও ইয়িনুও ঝু, ঘানার নিয়ার্কো আজিয়েই, ক্যামেরুনের রুডলফ অ্যাঞ্জেল নাঙ্গালেম এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইয়াসিন জাকি। তাদের গবেষণার বিষয়ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও পানির গুণগত মানের সঙ্গে সম্পর্কিত।
মিলস এনডাওমেন্ট গ্রান্টের মাধ্যমে পানির গুণগত মান রক্ষা, পানি সম্পদের উন্নয়ন এবং পানি সংকটের সমাধান সংক্রান্ত উচ্চ-অগ্রাধিকার মূলক গবেষণায় শিক্ষার্থীদের সহায়তা দেওয়া হয়। সাধারণত প্রতিবছর চার থেকে ছয়জন শিক্ষার্থী এ অনুদানের জন্য নির্বাচিত হন। টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয় এবং টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি অ্যাট গ্যালভেস্টনের পানি সম্পদ বিষয়ক গবেষণায় নিয়োজিত স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচির আওতায় আবেদন করতে পারেন।
ডব্লিউ. জি. মিলসের স্মরণে ১৯৬৭ সালে ‘ডব্লিউ. জি. মিলস মেমোরিয়াল এনডাওমেন্ট’ নামে এ স্থায়ী তহবিল গঠন করা হয়। বর্তমানে টেক্সাস ওয়াটার রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট তহবিলটি পরিচালনা করছে। ২০০১ সালে মিলস স্কলারস কর্মসূচি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত বিষয়টিতে গবেষণায় যুক্ত টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৩ জনের বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীকে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলারের বেশি অনুদান দেওয়া হয়েছে।
মিফতাহুল মবিন চৌধুরীর এ অর্জন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীদের গবেষণা সাফল্যের আরেকটি দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে পানির গুণগত মান ও পরিবেশ সুরক্ষায় উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর গবেষণায় তার অংশগ্রহণ দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ গবেষকদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরটিভি/ এসকেডি


