
শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে কলেজ বন্ধ থাকার কথা জানিয়ে কবি নজরুল সরকারি কলেজের রিডিং রুম থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে কলেজের শহীদ মিনারে বসে পড়াশোনা শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কলেজের দুই কর্মচারী রিডিং রুমে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কক্ষ ছেড়ে চলে যেতে বলেন। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ দিন রিডিং রুম বন্ধ থাকবে বলেও তাদের জানানো হয়।
পরে বিষয়টি নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে সরকারি ছুটির কারণে রিডিং রুমও বন্ধ থাকবে বলে জানান তিনি। এ সময় শিক্ষার্থীদের বাসা, রাস্তা কিংবা পার্কে গিয়ে পড়াশোনা করার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে ফিরে আসার কিছুক্ষণ পর অধ্যক্ষ, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. ইউসুফ রিডিং রুমে আসেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। রিডিং রুম ছেড়ে যেতে বলা হলে শিক্ষার্থীরা অস্বীকৃতি জানান। পরে অধ্যাপক মো. ইউসুফ তাদের বইপত্র দিয়ে মারতে উদ্যত হন এবং পুলিশ ডেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা রিডিং রুম থেকে বের হয়ে যান।
কলেজের রিডিং রুমে নিয়মিত পড়তে আসা ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জহুরুল ইসলাম বলেন, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় অধ্যক্ষের নির্দেশে দুই কর্মচারী রিডিং রুমে এসে আমাদের কক্ষ ছেড়ে চলে যেতে বলেন। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ দিন রিডিং রুম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে বলে জানান তারা।
২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী এরশাদুল হক বলেন, আমরা প্রতিদিনের মতো দুপুর থেকে পড়াশোনা শুরু করেছিলাম। পরে সন্ধ্যায় প্রিন্সিপাল স্যার এসে আমাদের রুম থেকে বের করে দেন। আমরা জানিয়েছিলাম, সামনে আমাদের একাডেমিক পরীক্ষা। স্যার আমাদের কথা না শুনে পুলিশের ভয় দেখিয়ে রিডিং রুম থেকে বের করে তালা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের পাশের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রিডিং রুম রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে। রিডিং রুম থেকে বের করে দেওয়ার প্রতিবাদে আমরা ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারে পড়তে বসেছি।
অভিযোগের বিষয়ে কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. ইউসুফ বলেন, ক্যাম্পাসে এই মুহূর্তে সরকারি ছুটির কারণে দীর্ঘ বিরতি চলছে। সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ। আমাদের যে কয়েকজন কর্মচারী আছেন, তারাও ছুটিতে বাড়ি যাবেন। এই অবস্থায় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান করলে তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কে নেবে? আমরা তাদের স্বাভাবিকভাবেই ক্যাম্পাস থেকে চলে যেতে বলেছি। তাদের সঙ্গে কোনো চিৎকার-চেঁচামেচি করা হয়নি। পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দেওয়ার কথা বলে ভয় দেখানোর প্রশ্নই আসে না।
কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ওটা আসলে নির্দিষ্ট লাইব্রেরি নয়; শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য রিডিং রুম হিসেবে খোলা রাখা হয়। এ মুহূর্তে কলেজ বন্ধ রাখার বিষয়ে আমাদের দাপ্তরিক নির্দেশনা রয়েছে। তাই কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের আপাতত ক্যাম্পাসে অবস্থান না করতে বলেছে। যেহেতু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা চলছে, পাশাপাশি কলেজের পাশেই শাঁখারীবাজার এলাকা, তাই নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। আগামী রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকে তারা যথারীতি রিডিং রুম ব্যবহার করতে পারবেন।
এ বিষয়ে কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় শিক্ষার্থীদের ডেকে বুঝিয়ে বলেছি, আগামী তিন-চার দিন ছুটির সময় তারা যেন নিজ নিজ বাসায় গিয়ে পড়াশোনা করেন। যেহেতু একটি বড় উৎসব চলছে, তাই এ মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। তা ছাড়া নতুন গেট নির্মাণের জন্য পুরোনো গেট ভেঙে ফেলা হয়েছে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই তাদের আপাতত রিডিং রুমে অবস্থান না করার অনুরোধ করেছি।
তিনি আরও বলেন, ওটা লাইব্রেরি নয়, একটি শ্রেণিকক্ষ। বিশেষ বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের সেখানে পড়াশোনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কলেজ খোলা থাকলে আমি নিজে উপস্থিত থেকে তাদের সুবিধা-অসুবিধা দেখভাল করতে পারি। কিন্তু বন্ধের সময় তা সম্ভব নয়।
পূজার ছুটি শেষে ক্যাম্পাস খুললে শিক্ষার্থীরা আবার স্বাভাবিক নিয়মে পড়াশোনা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন বলে জানান অধ্যক্ষ।
আরটিভি/জেএমএ


