
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) পুরাতন ক্যাম্পাসে দুই দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব শেষ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ক্লাবের আয়োজনে ‘কালচারাল ফেস্ট ২.০— আন্তবিভাগ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০২৬’ শীর্ষক এ উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন সংগীতশিল্পী বখতিয়ার হোসাইন, যিনি ‘বখতিয়ার–দ্য আর্টম্যান’ নামে পরিচিত।
এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাশরুর এনান, যিনি ‘কেটো ভাই’ নামে পরিচিত, নাজিব নিনাদ ও ফারহান পিরোম।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ক্যাম্পাসে উৎসবের শেষ দিনের আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থী ও অতিথিদের অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা তুলে ধরা, সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানো এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি জোরদার করাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
উৎসবে নৃত্য, সংগীত, আবৃত্তি ও চিত্রকলা— এই চারটি বিভাগে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিটি বিভাগে বিজয়ীদের জন্য ছিল ক্রেস্ট, বৃত্তি ও সনদ। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে ২০টির বেশি পণ্যের স্টল বসে। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি এসব স্টল ঘিরেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহ আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ক্লাব এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে অন্যান্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও ডিআইইউর আয়োজন সম্পর্কে আগ্রহী হচ্ছে। এ অগ্রগতির পেছনে ক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সদস্য, প্রধান উপদেষ্টা, অন্যান্য উপদেষ্টা ও পরামর্শকদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্তরিক প্রচেষ্টা রয়েছে।
দুই দিনব্যাপী আয়োজনের প্রশংসা করে অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহ আলম চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে ২০টির বেশি স্টল বসেছে। এসব স্টলের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং এর সাংস্কৃতিক ক্লাব সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাঁরা নিজেদের পরিচিতজনদের কাছেও বিশ্ববিদ্যালয়টির কথা তুলে ধরতে পারবেন, যা এর পরিচিতি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, পয়লা বৈশাখ, ঈদ পুনর্মিলনীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ক্লাব। তাঁর মতে, সংস্কৃতি একটি জাতির পরিচয়, ঐতিহ্য ও আত্মার প্রতিচ্ছবি। সাংস্কৃতিক চর্চা শুধু গান, কবিতা, নাচ কিংবা অভিনয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব, মানবিকতা ও আত্মবিশ্বাস বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি অসাম্প্রদায়িক চেতনা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতেও সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এবং সব হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বলেন, উৎসবে বাইরের শিল্পীদের অংশগ্রহণ আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করবে এবং দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়াবে বলে তিনি আশা করেন। একই সঙ্গে অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সেদিকে সবার নজর রাখা প্রয়োজন। তিনি উৎসবের সার্বিক সফলতা কামনা করেন এবং শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ, সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসার এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে শেষ হয় দুই দিনব্যাপী এ আয়োজন।
আরটিভি/এসআর


