
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে রাশিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধিদলে ছিলেন রাশিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা সমন্বয় বিভাগ’-এর উপ-পরিচালক জার্মান দিমিত্রিভিচ জুবোভিচ এবং ‘আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কেন্দ্র’-এর উপদেষ্টা আলেকজান্ডার ভ্যাসিলিভিচ পারকিন।
এ সময় ঢাকাস্থ রাশিয়া দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ও রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেকজান্দ্রা এ. খেলভনয়, সাংস্কৃতিক কর্মসূচি বিভাগের প্রধান প্রশান্ত কুমার বর্মণ এবং দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চলমান যৌথ শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া রাশিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে নয় মাস মেয়াদি বিনামূল্যে রুশ ভাষা শিক্ষা কোর্স চালুর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন তারা।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ‘রাশিয়ান টিচার্স অ্যাব্রড’ প্রকল্পের আওতায় আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে রুশ ভাষা শিক্ষাদানের জন্য রাশিয়া থেকে প্রশিক্ষক বা নেটিভ স্পিকার পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ প্রকল্প রুশ ভাষার প্রসারের পাশাপাশি বাংলাদেশে নতুন রুশ ভাষার শিক্ষক তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।
তারা জানান, এ প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি বৃত্তির আওতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। পাশাপাশি রুশ ভাষায় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীরা রাশিয়ায় ভালো বেতনে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ব্যাপারেও উভয় পক্ষ ঐকমত্য প্রকাশ করে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান। শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে এ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী। এ লক্ষ্যে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আরও বেশি যৌথ একাডেমিক ও গবেষণা কর্মসূচি গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করায় অতিথিদের ধন্যবাদ জানান উপাচার্য।
আরটিভি/আইএম


