ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

হাবিপ্রবিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

হাবিপ্রবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত। ছবি: আরটিভি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়।সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক হয়ে অডিটোরিয়াম-১-এর সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা তার বাণীতে বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেদিন সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করে।৭ নভেম্বরের চেতনায় উজ্জিবীত হয়ে ‘নব্বই এর স্বৈরাচার’ বিরোধী আন্দোলন এবং ‘চব্বিশ এর ফ্যাসিষ্ট বিরোধী গণ-অভ্যুত্থান’ সংঘটিত হয়। তাই, দ্বিধাহীনভাবে বলতে পারি স্বৈরাচার ও ফ্যাসিষ্ট সরকারের পতনের চেতনাই ছিল ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার রেখে যাওয়া আদর্শ। কাজেই দেশে গণতন্ত্রের বিকাশ ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব চিরস্থায়ী করার ভূমিকায় ৭ নভেম্বর এক অবিস্মরণীয় দিন।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় জীবনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে সচেতন থাকতে হবে।

মুখ্য আলোচক অধ্যাপক ড. মো. মহিদুল হাসান ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তৎকালীন ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন। রক্ষীবাহিনীর প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতা ও ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে রক্ষীবাহিনী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে বঞ্চিত করে রক্ষীবাহিনীকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। তারা যখন যাকে ইচ্ছা তুলে নিয়ে যেতে পারত, নির্যাতন করতে পারত, এমনকি গুমও করতে পারত। বাহিনীটি সরাসরি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল। তাদের কোনো আইনের মুখোমুখি হতে হতো না। হোয়াট আ সেলুকাস! রক্ষীবাহিনীর নেতৃত্বে তৎকালীন সময়ে জাসদের প্রায় ৩০ থেকে ৬০ হাজার নেতাকর্মী নির্যাতন, গুম ও হত্যার শিকার হন।

মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী অস্ত্র হস্তান্তরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র উদ্ধার করা হলেও সেসব অস্ত্র বাংলাদেশের হাতে না এসে সরাসরি ভারতে চলে যায়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নওশের ওয়ান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুল হাসান খান, পোস্টগ্র্যাজুয়েট অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হাসানুজ্জামান এবং রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু হাসান। সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মহিদুল হাসান। এতে সভাপতিত্ব করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. এস. এম. এমদাদুল হাসান।

এছাড়া আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করা হচ্ছে।
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন
মাভাবিপ্রবিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। 
মাভাবিপ্রবিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন
‘আজ যা কিছু সুন্দর, যা কিছু সফল; সমস্ত অবদান জিয়াউর রহমানের’
‘আজ যা কিছু সুন্দর, যা কিছু সফল, তার সমস্ত অবদান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।  তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর না ঘটলে বাংলাদেশ নামের দেশটির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব থাকত না। এমনকি বাংলাদেশ হয়ত অন্য কোনো দেশের প্রদেশ হিসেবে পরিচিত হতো।  শনিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ছাত্রদলের দুই দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। উপাচার্য বলেন, ৭ নভেম্বর না ঘটলে বাংলাদেশ নামক দেশটির স্বাধীনতা থাকত না। সার্বভৌমত্ব থাকত না এবং একই সাথে এটি অন্যের প্রদেশের অন্য দেশের দেশ হিসেবে হয়ত আমাদের পরিচিত হতে হতো। মাওলা রাব্বুল আলামীনের কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। সেই দিনটি আজকে ৭ নভেম্বর। আজকে সেই বিপ্লব এবং সংহতি দিবস। জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্রের দায়িত্বে বসানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পরিবর্তন সূচিত হয়। ওই সময় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। দেশি-বিদেশি আধিপত্যবাদ, পাল্টাপাল্টি অভ্যুত্থান এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে ৩ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দেশ চরম দুর্বিষহ সময় পার করেছে। তিনি আরও বলেন, তৎকালীন সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বন্দি করা হয়েছিল। পরে সিপাহি ও জনতা একসঙ্গে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে এবং জাতির প্রয়োজনে রাষ্ট্রের দায়িত্বে বসায়। অনেকে ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি ছিল সিপাহী জনতার বিপ্লব এবং সবাই সংহতি প্রকাশ করে সবাই মিলে এক কাজে কাঁধ মিলে তাকে নিয়ে আসে। সেটি ছিল ৭ নভেম্বর। জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। এই পরিচয়ের মধ্যে বাঙালির পাশাপাশি চাকমা, মারমা, মগ, মুরং, গারো ও খাসিয়াসহ দেশের সব জাতিগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম আরও বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে উন্নয়নের শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করেছেন। তার হাত ধরেই তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতার পথে এগিয়েছে। দেশের বর্তমান উন্নয়নের পেছনেও তার অবদান রয়েছে। জিয়াউর রহমানের হাত ধরে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরে এসেছে। তার মতে, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের রাজনীতির সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল। ৭ নভেম্বরকে জাতীয় ঐক্য ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এই দিনটিকে ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। এই দিনটি আমাদেরকে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখতে হবে। এই দিনটি একটি দিন না। এই দিনটি একদিন মনে রাখলে হবে না। এই দিনটি প্রতিটি মুহূর্তে মনে রাখতে হবে। বাংলাদেশ আমার সবার আগে বাংলাদেশ।’ বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।  আরটিভি/এসকে
‘আজ যা কিছু সুন্দর, যা কিছু সফল; সমস্ত অবদান জিয়াউর রহমানের’
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ইবি জিয়া পরিষদের শুভেচ্ছা
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশবাসী, সরকার, বাহিনী ও সাধারণ জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা জিয়া পরিষদ।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ইবি জিয়া পরিষদের শুভেচ্ছা
শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য-আদর্শে ইবিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কাজ চলছে: উপাচার্য
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই মূল লক্ষ্য ও আদর্শে বিশ্ববিদ্যালয়কে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান।
শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য-আদর্শে ইবিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কাজ চলছে: উপাচার্য
আরও পড়ুন
৭ নভেম্বর ছিল স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ঐতিহাসিক দিন: রিজভী
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন
মাভাবিপ্রবিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন
শোভাযাত্রার জন্য নয়াপল্টনে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা