
জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের টোকিও কার্যালয়ে ছয় মাসের ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরি হয়েছে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীদের জন্য। ২০২৭ সালের বসন্তকালীন এ কর্মসূচিতে নির্বাচিত ব্যক্তিরা জাতিসংঘের কার্যক্রম, গবেষণা, নীতিনির্ধারণ, যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কাজে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১ নভেম্বর ২০২৬।
জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয় পরিচালিত এ কর্মসূচির নাম ‘জুনিয়র ফেলো ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম’। জাপানের টোকিওতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান কার্যালয়ে মূলত সরাসরি কাজ করতে হবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে দূর থেকে কাজ করার সুযোগও থাকবে। ২০২৭ সালের বসন্তকালীন কর্মসূচিতে জাপানে এবং জাপানের বাইরে অবস্থানরত—উভয় ধরনের আবেদনকারীকেই বিবেচনা করা হবে।
ইন্টার্নশিপের মেয়াদ ও সুযোগ-সুবিধা
এ কর্মসূচির মেয়াদ প্রায় ছয় মাস বা ২৪ সপ্তাহ। ২০২৭ সালের ১ মার্চ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত এটি চলার কথা রয়েছে। নির্বাচিত ইন্টার্নরা প্রতি মাসে জীবনযাত্রার ব্যয়ের একটি অংশ মেটাতে আর্থিক সহায়তা পাবেন। তবে সহায়তার নির্দিষ্ট পরিমাণ দায়িত্ব পালনের স্থান অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
ইন্টার্নরা সপ্তাহে পাঁচ দিন, সোমবার থেকে শুক্রবার, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কাজ করবেন। প্রতি মাসে দেড় দিন ছুটির সুযোগ থাকবে। সরাসরি কর্মস্থলে কাজ করলে প্রয়োজনীয় অফিসের জায়গা ও সুবিধা দেওয়া হবে। দূর থেকে কাজের ক্ষেত্রে নিজের কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ও ব্যায়ামাগারের সুবিধা বিনা মূল্যে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। বিভিন্ন সম্মেলন, বক্তৃতা, কর্মশালা ও শিক্ষাবিষয়ক অনুষ্ঠানের আয়োজনেও অংশ নিতে পারবেন ইন্টার্নরা।
কী ধরনের কাজ করতে হবে
নির্বাচিত জুনিয়র ফেলোরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের বিভিন্ন কাজে সহায়তা করবেন। এর মধ্যে রয়েছে—
কর্মসূচিটির লক্ষ্য হলো তরুণ গবেষক ও পেশাজীবীদের সঙ্গে জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বাড়ানো, জাতিসংঘের কাজ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবন গড়তে আগ্রহীদের দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করা।
আবেদনের যোগ্যতা
আবেদনকারীকে স্নাতকোত্তর বা ডক্টরাল পর্যায়ে অধ্যয়নরত হতে হবে অথবা আবেদনের আগের দুই বছরের মধ্যে এ পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে পড়াশোনা করা প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পেতে পারেন।
এছাড়া আবেদনকারীর বয়স আবেদনের সময় ৩২ বছর বা তার কম হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের বেশি কাজের অভিজ্ঞতা থাকা যাবে না।
প্রার্থীদের ইংরেজিতে লেখা ও কথা বলায় দক্ষতা, গবেষণা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা, ভালো লেখার দক্ষতা, কম্পিউটার ব্যবহারে পারদর্শিতা এবং বিভিন্ন পটভূমির মানুষের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা থাকতে হবে। জাতিসংঘ ও জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের প্রতি আগ্রহও থাকতে হবে। উন্নয়নশীল দেশের আবেদনকারী ও নারীদের আবেদন করতে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে।
যেসব কাগজপত্র লাগবে
আবেদনের সময় ইংরেজিতে হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত, এক পৃষ্ঠার মধ্যে ইংরেজিতে আবেদনপত্র, নির্ধারিত আবেদন ফরম এবং অর্থায়নসংক্রান্ত ফরম জমা দিতে হবে। জীবনবৃত্তান্ত সর্বোচ্চ দুই পৃষ্ঠার হতে পারবে।
এছাড়া দুজন সুপারিশকারীর সুপারিশপত্র প্রয়োজন হবে। তাদের মধ্যে অন্তত একজনকে আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে জানা অধ্যাপক হতে হবে। সুপারিশপত্র আবেদনকারীর নিজের জমা দেওয়া যাবে না; সুপারিশকারীদের নিজ নিজ প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইল ঠিকানা থেকে [email protected] ঠিকানায় পাঠাতে হবে।
যাদের মাতৃভাষা ইংরেজি নয় এবং যারা ইংরেজি মাধ্যমে স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা করেননি বা ইংরেজি মাধ্যমে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত নন, তাদের বৈধ ইংরেজি দক্ষতার সনদ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইইএলটিএস, টোয়েফল বা টোয়েক পরীক্ষার ফল গ্রহণযোগ্য।
আবেদনের শেষ সময় ও নির্বাচনপ্রক্রিয়া
আবেদনের শেষ সময় ১ নভেম্বর ২০২৬, জাপানের স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫৯ মিনিট। নির্ধারিত সময়ের পর আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
নির্বাচনপ্রক্রিয়া তিন ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মূল্যায়ন করা হবে। সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা প্রার্থীদের দ্বিতীয় ধাপে টেলিফোন বা ভিডিও সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হবে। তৃতীয় ধাপে ইন্টার্নশিপের কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সময়সীমাবদ্ধ লিখিত বা ব্যবহারিক কাজ দেওয়া হবে, যা শেষ করতে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা লাগতে পারে।
আগ্রহী প্রার্থীরা জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা ও আবেদন লিংক দেখে আবেদন করতে পারবেন। এ কর্মসূচির জন্য কোনো আবেদন বা নিয়োগ ফি নেওয়া হয় না।
আবেদন করতে ও বিস্তারির বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
সূত্র: ইউএনইউ
আরটিভি/জেএমএ


