
জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় চলচ্চিত্রের নায়ক ও প্রযোজক আলী মর্তুজা পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । তিনি চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস অভিনীত ‘শিকারী’ সিনেমার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
জানা যায়, সম্প্রতি নেপালে ‘শিকারী’ সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে ভয়াবহ ভূমিধসের কবলে পড়ে পুরো শুটিং ইউনিট। ওই ইউনিটে ছিলেন অপু বিশ্বাস, পলাশ মর্তুজাসহ সিনেমাটির সংশ্লিষ্টরা। শুটিং শেষে নেপাল থেকে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে আলী মর্তুজা পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের একটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় আলী মর্তুজা পলাশকে আসামি করা হয়। মামলায় তার বিরুদ্ধে নাশকতা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই ঘটনায় নিহত সবুজ নামের এক ব্যক্তির বাবা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন বলে জানা গেছে।
মামলার ভিত্তিতে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর পুলিশ আলী মর্তুজা পলাশকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এরপর আদালতে হাজির করা হলে তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
পলাশের বিরুদ্ধে মাদক-অস্ত্র ব্যবসা ও অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের নানা তথ্য সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশ ভাইরাল।
তবে আলী মর্তুজা পলাশের পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, ব্যবসা ও অভিনয় থেকে অর্জিত অর্থেই তার সম্পদ গড়ে উঠেছে এবং মাদক-অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
সাম্প্রতিক সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পারভেজ ব্যাপারী হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে মর্তুজা পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, নেপাল থেকে দেশে ফেরার সময় ২৮ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর রিমান্ড শেষে সিআইডি আদালতকে জানায়, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং অন্য পলাতক আসামিদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সেদিনই বিমানবন্দর থেকে পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি অদৃশ্য কারণে এত দিন প্রকাশ্যে আসেনি। হঠাৎ করে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে প্রকাশ্যে আসা শুরু করে তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি। সোশ্যাল মিডিয়া সহ দেশের অধিকাংশ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় পলাশের গ্রেপ্তারের বিষয়ে সংবাদ।
মর্তুজা পলাশের পৈতৃক বাড়ি মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার জমদুয়ারা এলাকায়। বর্তমানে তিনি ঢাকার মিরপুরে বসবাস করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
মর্তুজা পলাশের সঙ্গে ঘিওরের ওমর ফারুকের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও স্থানীয়ভাবে আলোচিত। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ঘিওরের বৈন্যাপ্রসাদ এলাকা থেকে ওমর ফারুককে সেনাবাহিনী আটক করে। তার কাছ থেকে একটি ৯ এমএম বিদেশি পিস্তল, ১৪ পিস ইয়াবা ও ২৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের কথা জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় এবং অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওমর ফারুক মর্তুজা পলাশের বাল্যবন্ধু এবং তার মাধ্যমে অস্ত্রের কারবার পরিচালিত হতো। তবে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় মর্তুজা পলাশের সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মর্তুজা পলাশ বর্তমানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ের পারভেজ ব্যাপারী হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত মাদক, অস্ত্র, নারী পাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অন্যান্য অভিযোগের সত্যতা এখন আইনগত তদন্ত ও প্রমাণের ওপর নির্ভর করছে।
তবে মামলায় আনা অভিযোগের বিষয়ে আলী মর্তুজা পলাশের ছোট ভাই হাসিবুল হাসান বলেন, আমার ভাইয়ের কোনো রাজনৈতিক পদ নাই এমনকি জনসাধারণ পর্যন্ত বলবে আমাদের রাজনীতিক কোনো সম্পৃক্ততা নাই। আপনি এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন আমরা কেমন পরিবার আর আমার ভাই কেমন। আমার বাবা পীর সাহেব ছিলেন আমাদের বাড়ি আগে থেকেই উরশসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়। সেই অনুষ্ঠানে সরকার দলের এমপি মন্ত্রীরা আসবে স্বাভাবিক সেই ছবি নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছয়লাব।
আমার ভাই ব্যবসায়িক কাজে কম করে হলেও ৩০ বারের উপরে দেশের বাইরে গেছে আবার এসেছে। সে যদি অপরাধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকতো? তাহলে কি দেশের বাইরে গিয়ে আবার আসতো?
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পলাশের কিছু মেসেজের স্ক্রিনশট ভাইরাল হয় যেখানে পলাশ লিখেছেন,শোন আমার সমস্যা হবেনা মিডিয়া আমার অনেক বড় সাপোর্ট, সিনেমা একবার বের হয়ে গেল আমাকে আর কারো সাধ্যও নাই ধরার, আমার সাথে নেতাদের কথা চলতেছে, নির্বাচণ এর আগে কয়েকটা লাশ ফেলতে হবে আবার, প্রশাষন আমি দেখবো তোরা সাবধান থাক।
এই স্ক্রিনশট এর বিষয়ে তার ভাই জানান, আপনি স্ক্রিনশটটা ভালোমতো লক্ষ্য করুন যার সাথে কথা বলছে তার কোন ছবি কিংবা নাম নেই তার মানে বোঝা যাচ্ছে এটি ফেইক।
অপু বিশ্বাসের সাথে শিকারি সিনেমার নায়কের চরিত্রে অভিনয়ের কারণে এমনটা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তার ভাই জানান, এটাও একটা কারণ হতে পারে । তবে আমাদের নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আগে থেকেই আপনারা বিত্তশালী নাকি হঠাৎ করে এতো টাকা পয়সার মালিক হয়েছেন? এমন প্রশ্নের তিনি বলেন, আমার বাবা কে চিনতেন সবাই। আপনি খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন তার জনপ্রিয়তা ছিল কতটুকু।আর আমাদের পরিবারতো দরিদ্র পরিবার না!
উল্লেখ্য, সীমান্তবর্তী এলাকার গল্প নিয়ে থ্রিলার ঘরানার সিনেমা ‘শিকার’ নির্মিত হচ্ছে। আবদুল্লাহ জহির বাবুর চিত্রনাট্যে ছবিটিতে মর্তুজা পলাশ ও অপু বিশ্বাসের পাশাপাশি অভিনয় করছেন মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, সুমন আনোয়ার এবং পশ্চিমবঙ্গের খরাজ মুখোপাধ্যায়, রজতাভ দত্ত ও শ্যাম ভট্টাচার্য।
আরটিভি/এসকে




