
ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যাঙ ও গিরগিটির শরীরে থাকা ব্যাক্টেরিয়া ব্যবহার করে নতুন সম্ভাবনার কথা জানালেন জাপানের গবেষকেরা। জাপান অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, নির্দিষ্ট ধরনের সংক্রামক ব্যাক্টেরিয়া টিউমার কোষ ধ্বংস করতে সক্ষম।
গবেষণাটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন অধ্যাপক ইজিরো মিয়াকো। তাঁর নেতৃত্বে গবেষকেরা জানিয়েছেন, জাপানি ট্রি-ফ্রগ (ড্রায়োফাইটস জ্যাপোনিকাস) ও গ্রাস লিজার্ড প্রজাতির গিরগিটির শরীরে জন্মানো এক ধরনের ব্যাক্টেরিয়া— ইউইংগেলা আমেরিকানা— টিউমার কোষ ধ্বংস করতে পারে।
ইঁদুরের ওপর চালানো পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই ব্যাক্টেরিয়া শরীরে প্রবেশ করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দ্রুত সংখ্যায় বৃদ্ধি পায় এবং দলবদ্ধভাবে টিউমার কোষ আক্রমণ করে। ফলে টিউমার কোষের বিভাজন ও বিস্তার কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
গবেষকদের দাবি, প্রচলিত কেমোথেরাপি বা রেডিয়োথেরাপির তুলনায় এই ব্যাক্টেরিয়া আরও দ্রুত ক্যানসার কোষ নষ্ট করতে সক্ষম। পরীক্ষায় আরও দেখা গেছে, ব্যাক্টেরিয়ার উপস্থিতিতে ইঁদুরের শরীরে রোগ প্রতিরোধী টি-কোষ, বি-কোষ ও নিউট্রোফিল সক্রিয় হয়ে ওঠে। এ সময় ‘টিএনএফ-আলফা’ ও ‘আইএফএন-গামা’ নামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন উৎপন্ন হয়, যা টিউমার কোষ ধ্বংসে ভূমিকা রাখে।
তবে ব্যাক্টেরিয়া-ভিত্তিক এই চিকিৎসা পদ্ধতি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। সংক্রামক ব্যাক্টেরিয়ার বিষাক্ততা কমিয়ে মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যদিও গবেষকদের দাবি, পরীক্ষাকালে ইঁদুরের সুস্থ কোষের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং দুই মাস পর্যবেক্ষণের পরও কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এই ব্যাক্টেরিয়া স্তন ক্যানসার ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। মানুষের শরীরে এই ব্যাক্টেরিয়া থেরাপির কার্যকারিতা প্রমাণিত হলেই ক্যানসার চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে।
সূত্র: আনন্দবাজার
আরটিভি/এসকে




