ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

গোপন যে তিনটি অভ্যাসের কথা জানালেন ১১১ বছর বয়সী এই প্রবীণ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ জীবন ও সুস্থতার রহস্য নিয়ে গবেষণা ও কৌতূহলের শেষ নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ১১১ বছর বয়সী লুইস কানো জানিয়েছেন, তার দীর্ঘ জীবনের পেছনে কোনো জটিল সূত্র নয় বরং কয়েকটি সহজ জীবনধারাই মূল কারণ।

১৯১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া লুইস কানো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির লিন্ডেনে বসবাস করছেন। শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তিনি নানা ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছেন। একসময় তিনি কলম্বিয়ার সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন এবং পরে একটি বাস কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় অবদান রাখেন।

ফক্স ৫ নিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কানো জানান, তার দীর্ঘ জীবনের প্রধান তিনটি অভ্যাস হলোঃ

* জীবনে কখনোই ধূমপান বা মদ্যপান না করা

* নিয়মিত পর্যাপ্ত ও ভালো ঘুম নিশ্চিত করা

* মানুষের সঙ্গে সদাচরণ ও ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখা।

তার মতে, এই সহজ নিয়মগুলোই তাকে সুস্থভাবে দীর্ঘ জীবন কাটাতে সাহায্য করেছে।

কানোর খাদ্যাভ্যাসেও ছিল শৃঙ্খলা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সবজি-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করে আসছেন, যার মধ্যে রয়েছে শিম, মরিচ, অ্যাভোকাডো ও পেঁয়াজ। তিনি ১০৫ বছর বয়স পর্যন্ত বাগানের কাজ করতেন এবং মাছ ধরা, বোলিং ও বিলিয়ার্ডসের মতো শারীরিক ও মানসিকভাবে সক্রিয় রাখে এমন কাজে যুক্ত ছিলেন।

কানো ১০ সন্তানের জনক। বর্তমানে তিনি দুই সন্তানের সঙ্গে বসবাস করছেন এবং তার রয়েছে ১১ জন নাতি-নাতনি ও পরবর্তী প্রজন্মের সদস্যরা। তার স্ত্রী ২০০৪ সালে মারা যান।

পরিবারের মতে, তিনি এখন স্থানীয়ভাবে একজন পরিচিত ও প্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। প্রতি বছর তার জন্মদিনে এলাকাবাসী গাড়ির হর্ন বাজিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। এমনকি স্থানীয় মেয়রও একাধিকবার তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তার জীবনকে সম্মান জানিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন।

বর্তমানে কানো সময় কাটান বিমান উড্ডয়ন দেখে এবং নিজের দীর্ঘ জীবনের স্মৃতিচারণ করে। তার ভাষায়, এগুলোই তার “জীবনের অর্জন”।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
রাবির মনোমুগ্ধকর প্যারিস রোড; যেখানে প্রতিদিনই লেখা হয় নতুন গল্প
সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর পেরিয়ে বিকেল, সময় বদলের সঙ্গে বদলে যায় দৃশ্যপট। সকালের নরম আলোয় গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে রোদ এসে পড়ে পথের ওপর। ব্যস্ত পায়ে শিক্ষার্থীরা ছুটে যায় ক্লাসে। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে গল্পে মেতে ওঠে, কেউ আবার প্রিয়জন কিংবা ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সময় কাটায়।  প্যারিস রোড রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট থেকে শেরে বাংলা ফজলুল হল পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার প্রলম্বিত এ রাস্তা। দৈর্ঘ্যে খুব বেশি না হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের শত স্মৃতির সাক্ষী এই প্যারিস রোড। ভালোবাসা-বন্ধুত্ব, জীবন-মৃত্যু, হাসি-কান্না, একাকিত্ব-নিঃসঙ্গতায় যুগের পর যুগ ধরে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার সাক্ষী রাস্তাটি।  সবুজের বিস্তীর্ণ প্রান্তর, ছায়াঘেরা পথ আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাস। দুই পাশে সারি সারি গাছ, প্রশস্ত পথ, নির্মল পরিবেশ আর শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্যে প্রতিদিনই যেন নতুন রূপে ধরা দেয় এই সড়ক। এখানে পথ শুধু গন্তব্যে পৌঁছে দেয় না, বরং তৈরি করে অসংখ্য স্মৃতি ও গল্প। বিকেল নামতেই প্যারিস রোড যেন আরও প্রাণ ফিরে পায়। ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীদের আড্ডা, বন্ধুদের হাসি-ঠাট্টা, ছবি তোলা কিংবা নিছক হাঁটাহাঁটিতে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। কেউ আসে মনের কথা বলতে, কেউ আসে দিনের ক্লান্তি দূর করতে। আবার কারও কাছে এই পথ একান্তই নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর জায়গা। বর্ষার বৃষ্টিতে প্যারিস পায় নতুন আবহ। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দে মেতে ওঠেন, কেউ আবার দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন বৃষ্টির সৌন্দর্য। কখনো হঠাৎ নেমে আসা বৃষ্টিতে পথচারীদের ছোটাছুটি, আবার কখনো ইচ্ছা করেই বৃষ্টিতে ভিজে চলা—সব মিলিয়ে বর্ষায় প্যারিস রোড হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীদের বৃষ্টিবিলাসের অন্যতম ঠিকানা। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নানা বয়সী মানুষের পদচারণায় প্রতিদিন সরব থাকে প্যারিস রোড। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা অনেকের কাছেই এটি ক্যাম্পাসের অন্যতম আকর্ষণ। অতিথিরা যেমন এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন, তেমনি শিক্ষার্থীদের কাছেও এটি হয়ে ওঠে স্মৃতি জমিয়ে রাখার একটি বিশেষ জায়গা। প্যারিস রোডের সৌন্দর্যের বড় অংশজুড়ে রয়েছে এর সবুজ আবহ। ঋতু বদলের সঙ্গে গাছপালার রং ও প্রকৃতির বৈচিত্র্যও বদলে যায়। বর্ষায় ভেজা পাতার সবুজ, শরতে নির্মল আকাশ, শীতে কুয়াশার আবরণ কিংবা বসন্তে ফুলের রঙ—প্রতিটি ঋতুতেই প্যারিস রোড যেন নতুন কোনো গল্প নিয়ে হাজির হয়। ক্যাম্পাসের অনেক শিক্ষার্থীর কাছে এই পথের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য ব্যক্তিগত স্মৃতি। প্রথমবার বন্ধুর সঙ্গে হাঁটা, ক্লাস শেষে দীর্ঘ আড্ডা, কোনো বিশেষ দিনের ছবি কিংবা নিছক বিকেলের হাঁটাহাঁটি, ছোট ছোট এসব মুহূর্তই সময়ের সঙ্গে হয়ে ওঠে মূল্যবান স্মৃতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন শেষ হয়ে গেলেও প্যারিস রোডের কথা তাই সহজে ভুলে যাওয়ার নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন বলেন, প্যারিস রোডে হাঁটলে মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ততার মাঝেও একটু নিজের মতো করে সময় কাটানো যায়। বন্ধুদের সঙ্গে এখানে কাটানো সময়গুলো পরে হয়তো সবচেয়ে বেশি মনে পড়বে।  রাজশাহীর রাজপাড়া থেকে ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, প্যারিস রোড শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বাইরের দর্শনার্থীদের জন্যও আকর্ষণীয় একটি জায়গা। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে গাছপালা আর ভেজা রাস্তার দৃশ্যটা অসাধারণ লাগে। এখানে কিছু সময় কাটালে শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি থাকার অনুভূতি পাওয়া যায়।  দিন শেষে যখন ক্যাম্পাসের ব্যস্ততা ধীরে ধীরে কমে আসে, তখনও প্যারিস রোড তার নিজস্ব সৌন্দর্যে দাঁড়িয়ে থাকে। গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে আসা শেষ বিকেলের আলো, পথের ওপর দীর্ঘ ছায়া আর নীরবতার মধ্যে হেঁটে যাওয়া কয়েকজন মানুষ, সব মিলিয়ে তখন তৈরি হয় অন্যরকম এক আবহ। এত বিশেষত্ব থাকলেও প্যারিস রোডের জন্মের ইতিহাস কিন্তু অনেকটা সাদামাটা। ১৯৬৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধিকরণের লক্ষ্যে ক্যাম্পাসের এই গগন শিরীষ গাছ লাগানো হয়। তৎকালীন উপাচার্য এম শামসুল হক ফিলিপাইন থেকে কিছু গাছ নিয়ে আসেন। তিনি এ গাছগুলো রোপণের দায়িত্ব দেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের তৎকালীন সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী মোহাম্মাদ ইউনুসকে। তার হাত ধরেই লাগানো হয় গাছগুলো। তখন এটি ছিল নেহাৎ বৃক্ষরোপণের একটি উদ্যোগ। জনশ্রুতি আছে, একবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের কিছু ছবি তুলে তার এক বন্ধুর কাছে পাঠায়। বন্ধু দেখে বিস্মিত হয়ে বলে এটি কোন দেশের ছবি। সেই শিক্ষার্থী তখন বলে দেয় এটা আমাদের ক্যাম্পাসের। তার মধ্যে অন্যতম ছিল প্যারিস রোডের ছবিটিও। এরকম আরও অনেক গল্প রয়েছে।  এছাড়াও জনশ্রুতি আছে ১৯৮০-র দশকে ‘রোড টু সোয়াদ’ কিংবা ‘রোড টু প্যারিস’ নামের চলচ্চিত্রগুলোতে যে রাস্তা দেখানো হয়, সেসব রাস্তার সঙ্গে এই রাস্তাটির মিল থাকায় এর নাম হয় প্যারিস রোড। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য স্থাপনা ও দর্শনীয় স্থানের মধ্যে প্যারিস শুধু একটি রাস্তা নয়। এটি ক্যাম্পাস জীবনের এক নীরব সাক্ষী। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এর ওপর দিয়ে হেঁটে যায়, কিন্তু প্রত্যেকের গল্প আলাদা। কারও কাছে এটি বন্ধুত্বের স্মৃতি, কারও কাছে ভালো লাগার জায়গা, আবার কারও কাছে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সবচেয়ে সুন্দর বিকেলগুলোর ঠিকানা। সময় এগিয়ে যায়, শিক্ষার্থীরা আসে-যায়, প্রজন্ম বদলায়। কিন্তু প্যারিস রোড থেকে যায় একইভাবে নতুন মানুষকে স্বাগত জানিয়ে, নতুন গল্পের অপেক্ষায়। হয়তো এ কারণেই রাবির প্যারিস রোড শুধু একটি পথ নয়; এটি এমন এক ক্যানভাস, যেখানে প্রতিদিনই লেখা হয় নতুন নতুন গল্প।  লেখক : ইসমাইল হোসেন সায়েম  শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আরটিভি/ এসকেডি
রাবির মনোমুগ্ধকর প্যারিস রোড; যেখানে প্রতিদিনই লেখা হয় নতুন গল্প
এবার নতুন ট্রেন্ড: পারফিউম নয়, ঘামের গন্ধেই প্রেমে পড়বেন নারীরা
ডেটে যাওয়ার আগে পরিচ্ছন্ন পোশাক, গোসল এবং সুগন্ধি এতদিন এটাই ছিল প্রচলিত প্রস্তুতি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নতুন এক প্রবণতা যেন সেই ধারণাকেই উল্টে দিয়েছে।
এবার নতুন ট্রেন্ড: পারফিউম নয়, ঘামের গন্ধেই প্রেমে পড়বেন নারীরা
জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ছেলে-মেয়ের আচরণে পার্থক্য, নতুন গবেষণায় চমক
জন্মের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ছেলে ও মেয়েশিশুর আচরণে সূক্ষ্ম পার্থক্য দেখা দিতে পারে এমনই ইঙ্গিত মিলেছে নতুন এক গবেষণায়। গবেষণায় দেখা গেছে, খেলনার তুলনায় মানুষের মুখের দিকে মেয়েশিশুরা ছেলেশিশুদের চেয়ে গড়ে বেশি সময় তাকিয়ে থাকে।
জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ছেলে-মেয়ের আচরণে পার্থক্য, নতুন গবেষণায় চমক
মানি প্ল্যান্ট গাছকে কেন মানি প্ল্যান্ট বলা হয়?
ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে ইনডোর প্ল্যান্ট হিসেবে মানি প্ল্যান্টের জনপ্রিয়তা বেশ। বসার ঘরের কোণ, পড়ার টেবিল কিংবা ব্যালকনি কম যত্নেই এই গাছ বেড়ে ওঠে। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, কেন এই গাছের নাম ‘মানি প্ল্যান্ট’? সত্যিই কি এই গাছ বাড়িতে থাকলে বাড়ে ধন-সম্পত্তি, নাকি নামটির পেছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ?
মানি প্ল্যান্ট গাছকে কেন মানি প্ল্যান্ট বলা হয়?
৩০ বছর চৌকাঠে ব্যবহার হওয়া বস্তুটি বিরল উল্কাপিণ্ড, মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা
বাগানে কুড়িয়ে পাওয়া একটি ধাতব খণ্ডকে ৩০ বছর ধরে বাড়ির দরজার চৌকাঠ হিসেবে ব্যবহার করেছেন এক ব্যক্তি। এতদিন পর জানা গেল, সাধারণ দেখতে সেই বস্তুটি আসলে একটি বিরল উল্কাপিণ্ড। যার সম্ভাব্য মূল্য ১ লাখ ডলার বা প্রায় ১ কোটি টাকা।
৩০ বছর চৌকাঠে ব্যবহার হওয়া বস্তুটি বিরল উল্কাপিণ্ড, মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা
আরও পড়ুন
৯১ বছর বয়সে দুর্গম ‘অ্যাপালেচিয়ান ট্রেইল’ জয়
প্রবীণ সাংবাদিক ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল মারা গেছেন
না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন অভিনেতা ভরত কাপুর
সাংবাদিকদের অবসর ভাতা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী