ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

পর্যটকের তোলা ছবিতে মিলল ১২ কোটি বছর আগের ডাইনোসরের পায়ের ছাপ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডে বেড়াতে গিয়ে এক পর্যটকের তোলা ছবিতে মিলেছে প্রায় ১২ কোটি বছর আগের ডাইনোসরের পায়ের ছাপ। ঘটনাটি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিজ্ঞানী ও প্রত্নতত্ত্ববিদদের মধ্যে। সাধারণ একটি ছবি তুলতে গিয়ে যে এত বড় আবিষ্কারের সাক্ষী হবেন, তা কল্পনাও করতে পারেননি ওই পর্যটক।

পরিবারের সঙ্গে থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ফু ফ্রাবাত ন্যাশনাল পার্কে বেড়াতে গিয়েছিলেন ৩২ বছর বয়সী ওই যুবক। ঘোরাঘুরির সময় একটি প্রায় শুকিয়ে যাওয়া পাহাড়ি নদীর পাশে পাথরের ওপর অস্বাভাবিক কিছু পায়ের ছাপ দেখতে পান তিনি। কৌতূহলবশত সেগুলির ছবি তুলে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন।

ওই ছবি নজরে আসে বিশেষজ্ঞদের। ছবিটি খতিয়ে দেখে তারা বুঝতে পারেন, পাথরের ওপর থাকা ছাপগুলি আসলে এক প্রজাতির দ্বিপদী ডাইনোসরের পায়ের ছাপ। সেখানে মোট ছয়টি এমন পায়ের ছাপের সন্ধান পাওয়া যায়।

ছবির সূত্র ধরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিশেষজ্ঞদের একটি দল। জায়গাটি পরীক্ষা করার পর তারা অনুমান করেন, পায়ের ছাপগুলি প্রায় ১২ কোটি বছর আগের। সে সময় ওই অঞ্চলে দ্বিপদী মাংসাশী ডাইনোসরের বিচরণ ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। আবিষ্কারের গুরুত্ব বিবেচনা করে জায়গাটি ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডের মাটিতে দ্বিপদী ডাইনোসরের বিচরণের প্রমাণ অবশ্য এর আগেও পাওয়া গিয়েছে। তবে পর্যটকের তোলা এই ছবি নতুন করে ওই অঞ্চলের প্রাগৈতিহাসিক ইতিহাস নিয়ে আগ্রহ তৈরি করেছে।

থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ব্যাংকক পোস্ট-এ প্রকাশিত হয়েছে এই খবর।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টিন সার্টিফিকেট বাতিল করতে কোথায় যাবেন, কীভাবে করবেন?
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ঋণ নেওয়া কিংবা ফেসবুকের মনিটাইজেশন সুবিধা চালু করতে অনেকেই ই-টিন সার্টিফিকেট করেছেন। তবে পরবর্তী সময়ে আয় বন্ধ হয়ে গেলেও কিংবা করযোগ্য আয় না থাকলেও টিন সার্টিফিকেটের কারণে আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থেকে যেতে পারে।
টিন সার্টিফিকেট বাতিল করতে কোথায় যাবেন, কীভাবে করবেন?
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্ষায় সাংবাদিকদের পাহারাদারের ভূমিকা জরুরি: ডা. সারওয়ার আলী
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্ষায় সাংবাদিকদের পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের  ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্ষায় সাংবাদিকদের পাহারাদারের ভূমিকা জরুরি: ডা. সারওয়ার আলী
বছরে ১৬০ রাত বিদ্যুতের ঝলকানি, কোথায় দেখা যায় প্রকৃতির এই বিস্ময়?
রাতের আকাশজুড়ে একের পর এক বিদ্যুতের ঝলকানি। কখনও কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে, কখনও আবার এক মিনিটে কয়েক ডজন বার। প্রকৃতির এমনই এক বিস্ময়কর দৃশ্যের দেখা মেলে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায়। মারাকাইবো হ্রদের ওপর সংঘটিত এই বিরল প্রাকৃতিক ঘটনাটি পরিচিত ‘কাটাতুম্বো বজ্রপাত’ নামে। বছরে প্রায় ১৪০ থেকে ১৬০ রাত এই অঞ্চলে বজ্রঝড়ের দেখা মেলে বলে গবেষকদের পর্যবেক্ষণ। কোথায় দেখা যায় এই বিরল দৃশ্য? ভেনেজুয়েলার মারাকাইবো হ্রদের পশ্চিম দিকে, কাটাতুম্বো নদী যেখানে হ্রদে মিশেছে, সেই আশপাশের জলাভূমি অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এই বজ্রপাত। স্থানীয় বারি জনগোষ্ঠীর ভাষায় ‘কাটাতুম্বো’ শব্দের অর্থ ‘বজ্রের ঘর’। নামের সঙ্গে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের রয়েছে অদ্ভুত মিল। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কোনও কোনও রাতে প্রায় নয় ঘণ্টা ধরে আকাশে বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যায়। এক মিনিটে ১৬ থেকে ৪০ বার পর্যন্ত বজ্রপাতের ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। স্যাটেলাইটভিত্তিক পরিসংখ্যানেও এই অঞ্চলকে বিশ্বের অন্যতম বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেন এত ঘন ঘন বজ্রপাত হয়? এই অস্বাভাবিক ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে অঞ্চলের বিশেষ ভূপ্রকৃতি ও বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি। মারাকাইবো হ্রদ ও সংলগ্ন জলাভূমি থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প বাতাসে মিশে যায়। অন্য দিকে, আন্দিজ়-সহ আশপাশের পর্বতশ্রেণি স্থানীয় বায়ুপ্রবাহকে প্রভাবিত করে। উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাসের সঙ্গে তুলনামূলক ঠান্ডা বাতাসের সংঘাতে বায়ুমণ্ডলে অস্থিরতা তৈরি হয়। এর ফলে গড়ে ওঠে শক্তিশালী বজ্রঝড়। ঝড়ের মেঘের মধ্যে বৈদ্যুতিক চার্জ জমতে থাকলে ঘন ঘন বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যায়। এই অঞ্চলে বজ্রপাতের বড় অংশই মেঘের অভ্যন্তরে ঘটে। তবে কাটাতুম্বোতেই কেন এমন ঘটনা এত বেশি ঘটে, তার সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা এখনও মেলেনি। স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, ঋতু পরিবর্তন এবং এল নিনোর মতো বৃহত্তর জলবায়ুগত প্রভাব এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করেন গবেষকেরা। কখন বেশি দেখা যায় এই বজ্রপাত? সারা বছর সমান তীব্রতায় বজ্রপাত হয় না কাটাতুম্বো অঞ্চলে। ঋতু ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে এর ঘনত্বও ওঠানামা করে। ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এই অঞ্চলে বজ্রপাত উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গিয়েছিল। সে সময়ে খরার প্রভাবকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এমনকি এই প্রাকৃতিক ঘটনা স্থায়ী ভাবে বন্ধ হয়ে গেল কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছিল। পরে অবশ্য আবার বজ্রপাতের ঘটনা দেখা যায়। গবেষকদের মতে, স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ ও বৃহত্তর জলবায়ুগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে কয়েক মাস আগেও এই অঞ্চলে বজ্রপাতের সম্ভাবনা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া সম্ভব। তবে নির্দিষ্ট কোনও রাতে কতটা বজ্রপাত হবে, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। ‘মারাকাইবোর বাতিঘর’ নাম কেন? কাটাতুম্বো বজ্রপাতের ইতিহাস বহু পুরনো। ঔপনিবেশিক আমলের বিভিন্ন বিবরণেও এই প্রাকৃতিক ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। ১৮২৬ সালে প্রুশীয় প্রকৃতিবিদ ও অভিযাত্রী আলেকজান্ডার ভন হামবোল্ট এবং ১৮৪১ সালে ইতালীয় ভূগোলবিদ অগাস্টিন কোডাজ্জিও এই অঞ্চলের বিদ্যুতের ঝলকানির বর্ণনা দেন। রাতের আকাশে বহু দূর থেকেও এই আলো দেখা যেত বলে একসময় একে ‘মারাকাইবোর বাতিঘর’ বলা হত। নাবিকদের কাছে এই দৃশ্য ছিল পরিচিত। ভেনেজুয়েলার জুলিয়া রাজ্যের সংস্কৃতি ও প্রতীকেও এই বজ্রপাতের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। স্থানীয় ওয়ায়ু, ইউকপা ও বারি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি এবং বিশ্বাসের সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে এই প্রাকৃতিক ঘটনা। পর্যটকদের কাছে কেন আকর্ষণীয়? রাতের অন্ধকারে হ্রদের জলরাশির ওপর একের পর এক বিদ্যুতের ঝলকানি, দূরের জলাভূমি আর ঝড়ের মেঘ সব মিলিয়ে কাটাতুম্বো অঞ্চলের দৃশ্য অনন্য। প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের কাছে তাই এই অঞ্চল বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র। তবে বজ্রঝড়ের সময় সেখানে অবস্থান করা বিপজ্জনক। এই দৃশ্য দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস, নিরাপত্তা নির্দেশিকা এবং অভিজ্ঞ গাইডের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি। প্রকৃতি ও ভূপ্রকৃতির বিশেষ সমন্বয়ে কী ভাবে তৈরি হতে পারে এমন বিস্ময়কর দৃশ্য, তারই এক অনন্য উদাহরণ ভেনেজুয়েলার কাটাতুম্বো বজ্রপাত। বছরের পর বছর ধরে রাতের আকাশে এই বিদ্যুতের খেলা মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবীতে এখনও এমন অনেক প্রাকৃতিক রহস্য রয়েছে, যা বিজ্ঞানীদের কাছেও গবেষণার বিষয়। আরটিভি/এসকে
বছরে ১৬০ রাত বিদ্যুতের ঝলকানি, কোথায় দেখা যায় প্রকৃতির এই বিস্ময়?
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
জমি কিনে দলিল করার আগে যাচাই জরুরি ৭ বিষয়
জমি কেনাকে নিরাপদ একটি বিনিয়োগ মনে করেন অনেকেই। তবে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়া দলিল তৈরি বা নিবন্ধন করলে এই নিরাপদ বিনিয়োগই ভবিষ্যতে হয়ে ওঠে কান্নার কারণ; আইনি জটিলতার পাশাপাশি সম্মুখীন হতে হয় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির।
জমি কিনে দলিল করার আগে যাচাই জরুরি ৭ বিষয়
আরও পড়ুন
‘নানি’ হলো ৯ শাবক জন্ম দেওয়া থাইল্যান্ডের সেই বাঘিনী
থাইল্যান্ডে মোটরস্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপে দ্বিতীয় বাংলাদেশের সারওয়ার
থাইল্যান্ডে হঠাৎ বন্যায় পানিবন্দি শতাধিক পরিবার
থাইল্যান্ডের ই-ভিসার আবেদন ৩ দিন বন্ধ থাকবে