ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

যেসব খাবার খেলে কমে যাবে শুক্রাণু, গবেষণায় যা মিলল

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
প্রতীকী ছবি

সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করলে বেশির ভাগ সময় নারীর স্বাস্থ্য নিয়েই বেশি আলোচনা হয়ে থাকে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্ধ্যাত্বের প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রেই বর্তমানে পুরুষের বিভিন্ন সমস্যাও ভূমিকা রাখতে পারে।

পুরুষের প্রজননক্ষমতা ভালো রাখতে কী করা উচিত, সে বিষয়ে বেশ কিছু পরিচিত পরামর্শ রয়েছে। যেমন খুব টাইট অন্তর্বাস না পরা, কোলে ল্যাপটপ রেখে দীর্ঘ সময় কাজ না করা কিংবা যত দ্রুত সম্ভব ধূমপান ছেড়ে দেওয়া। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পাশাপাশি আরও একটি সহজ বিষয়েও নজর দেওয়া দরকার, আর সেটি হলো প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস।

ওয়েক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটির ইউরোলজি বিভাগের মেনস হেলথ ক্লিনিকের পরিচালক ডা. রায়ান টারলেকির মতে, গত কয়েক দশকে পুরুষদের প্রজননক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ কারণে অনেক পুরুষই জানতে চান, কীভাবে স্বাভাবিকভাবে উর্বরতা বাড়ানো যায়।

ডা. টারলেকি বলেন, অনেক পুরুষই জানেন না যে প্রতিদিনের খাবারও শুক্রাণুর স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায়ও একই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা খাবার শুক্রাণুর সংখ্যা, গঠন এবং চলাচলের সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

শুক্রাণুর স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সাধারণত তিনটি বিষয়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়। এগুলো হলো শুক্রাণুর সংখ্যা, শুক্রাণুর স্বাভাবিক গঠন এবং ডিম্বাণুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বা গতিশীলতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস এই তিনটি ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

স্বাস্থ্যকর খাবার যেমন প্রজননস্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে, তেমনি কিছু খাবার অতিরিক্ত খেলে শুক্রাণুর সংখ্যা, গতি ও গুণগত মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, কোনো একটি খাবার একাই বন্ধ্যাত্বের কারণ হয় না, আরও বিভিন্ন কারণও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

চলুন জেনে নিই পুরুষের প্রজননক্ষমতা ভালো রাখতে কোন কোন খাবার এড়িয়ে চলা ভালো।

প্রক্রিয়াজাত মাংস
সসেজ, সালামি, বেকন, হ্যাম ও পেপারোনির মতো প্রক্রিয়াজাত মাংস নিয়মিত বেশি খেলে শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমে যেতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

এর পরিবর্তে মাছ, মুরগি বা উদ্ভিজ্জ প্রোটিন বেছে নেওয়া ভালো।

ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার
ডিপ ফ্রাই করা খাবার, কিছু বেকারি পণ্য, কেক, বিস্কুট, কুকিজ ও ফাস্ট ফুডে ট্রান্স ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণ শুক্রাণুর সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি স্থূলতার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। স্থূলতাও পুরুষের প্রজননক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ।

কোমল পানীয় ও এনার্জি ড্রিংক
অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালোরিযুক্ত কোমল পানীয় এবং এনার্জি ড্রিংক নিয়মিত পান করলে শুক্রাণুর গতি ও সংখ্যা কমে যেতে পারে বলে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে।

এ ছাড়া অতিরিক্ত চিনি শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়াতে পারে, যা শুক্রাণুর ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

উচ্চ পারদযুক্ত মাছ
সব মাছ ক্ষতিকর নয়। বরং বেশির ভাগ মাছই স্বাস্থ্যকর।

তবে সোর্ডফিশ, কিং ম্যাকারেল, টাইলফিশ এবং কিছু বড় আকারের টুনা মাছে পারদের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। অতিরিক্ত পারদ প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে কম পারদযুক্ত মাছ, যেমন স্যামন, সারডিন বা অন্যান্য নিরাপদ মাছ পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উপকারী হতে পারে।

অতিরিক্ত সয়া জাতীয় খাবার
সয়াবিন ও সয়া দিয়ে তৈরি খাবারে আইসোফ্লাভোন নামের উদ্ভিজ্জ যৌগ থাকে, যা শরীরে ইস্ট্রোজেনের মতো কিছু প্রভাব ফেলতে পারে।

খুব বেশি পরিমাণে সয়া খেলে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ও শুক্রাণুর মানে প্রভাব পড়তে পারে বলে কিছু গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সাধারণ পরিমাণে সয়া খাওয়ার ক্ষতি নিয়ে এখনো নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই অতিরিক্ত গ্রহণ না করাই ভালো।

ক্যানজাত খাবার
কিছু ক্যানজাত খাবারের আবরণে বিসফেনল এ বা BPA নামের একটি রাসায়নিক থাকতে পারে। এই রাসায়নিককে হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

যদিও বর্তমানে অনেক নির্মাতা BPA-মুক্ত প্যাকেজিং ব্যবহার করছেন, তবু সম্ভব হলে তাজা খাবার বেছে নেওয়া ভালো।

অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ফুল-ফ্যাট দুধ, চিজ বা অন্যান্য উচ্চ চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার বেশি খেলে শুক্রাণুর গতি ও সংখ্যা কমতে পারে। তবে এ বিষয়ে গবেষণার ফল একেবারে চূড়ান্ত নয়।

তাই পরিমিত পরিমাণে এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

অ্যালকোহল
নিয়মিত বা অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমাতে পারে এবং শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা বা যতটা সম্ভব কমিয়ে দেওয়াই ভালো।

শুধু খাবার নয়, যেসব অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ
পুরুষের প্রজননক্ষমতা ভালো রাখতে বিশেষজ্ঞরা আরও কিছু বিষয়ে গুরুত্ব দেন।

  • স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা
  • নিয়মিত ব্যায়াম করা
  • প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানো
  • ধূমপান ও মাদক এড়িয়ে চলা
  • পর্যাপ্ত ফল, শাকসবজি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া
  • জিঙ্ক, সেলেনিয়াম ও ওমেগা ৩ সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা

চিকিৎসকের পরামর্শ কি দরকার
যদি এক বছর নিয়মিত অসুরক্ষিত সহবাসের পরও সন্তান না আসে, অথবা আগে থেকেই শুক্রাণুর সমস্যা, হরমোনজনিত রোগ বা অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে, তাহলে একজন ইউরোলজিস্ট বা বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে বীর্য পরীক্ষা এবং অন্যান্য মূল্যায়নের মাধ্যমে কারণ নির্ণয় করা হয়।

আরও পড়ুন

কোনো একটি খাবার খাওয়ার কারণে পুরুষ বন্ধ্যাত্ব হয় না। তবে দীর্ঘদিন অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি, ট্রান্স ফ্যাট ও অ্যালকোহল গ্রহণ শুক্রাণুর স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে শুধু একটি খাবার বাদ দেওয়ার বদলে স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং ভালো জীবনযাপনকে গুরুত্ব দেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সূত্র: প্রিসটিন কেয়ার

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মানহীন মেডিকেল কলেজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
রাজনৈতিক চাপ কিংবা প্রভাবশালী মহলের প্রভাব খাটিয়ে মানহীন কোনো মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বুধবার (৪ নভেম্বর) বুধবার রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল (বিএমইএসি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘অ্যাসেসর ট্রেনিং’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা শিক্ষার আন্তর্জাতিক মান এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমরা নতুন কোনো বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দিইনি। এতে প্রভাবশালী বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে চাপ আসছে। কিন্তু মান ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করে কাউকে মেডিকেল কলেজ করতে দেওয়া হবে না। হাসপাতাল ছাড়া মেডিকেল কলেজ হবে আর রোগী না দেখে কেউ চিকিৎসক হয়ে যাবে, এমন পরিস্থিতি চলতে পারে না। দেশে চিকিৎসা শিক্ষার বৈষম্য ও ভৌগোলিক অসম বণ্টন তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজই ঢাকা বিভাগে পুঞ্জীভূত। অথচ বাকি সাতটি বিভাগে ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট। সংসদ বা রাজনৈতিক বক্তৃতায় যখন-তখন নিজ জেলা বা উপজেলায় মেডিকেল কলেজ চাওয়ার মতো জনপ্রিয় হওয়ার প্রবণতা পরিহার করে পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্য কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের নিয়ম মেনে অ্যাক্রিডিটেশন অর্জন না করলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিকিৎসকদের বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে পড়বে। চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা ও আস্থা ফেরাতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এখন বাধ্যতামূলক। বিদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, সম্প্রতি বিদেশ থেকে পাস করে আসা চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় মাত্র ৩০ শতাংশ উত্তীর্ণ হয়েছেন। সন্তানদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে বিদেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান যাচাই করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আরটিভি/টিআর
মানহীন মেডিকেল কলেজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
পেছালো মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা
আগামী ৪ ডিসেম্বর নির্ধারিত মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ২০২৬-২৭ সেশনের এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। আরও কিছুদিন পিছিয়ে পরীক্ষাটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীন। অধ্যাপক রুবীনা ইয়াসমীন বলেন, পূর্বনির্ধারিত তারিখে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে এখনও নতুন তারিখ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, এইচএসসি ও সমমানের পুনঃপরীক্ষায় (সাপ্লিমেন্টারি) অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত কী হবে, তার ওপর নির্ভর করছে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার নতুন তারিখ। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের এডিজি রুবীনা ইয়াসমীন বলেন, সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা বর্তমানে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ পাবে কিনা, এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।  এ ছাড়া এখনও ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি। সেটি চূড়ান্ত হলেও আমরা সে অনুযায়ী পরীক্ষা নিতে পারব। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারি বা বিশেষ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে সরকার। এ বছর পরীক্ষায় প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।  এমন পরিস্থিতিতে প্রথমবারের মতো ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এ পরীক্ষা নেওয়া এবং একই মাসের শেষে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা চলতি শিক্ষাবর্ষেই উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পাবেন। আরটিভি/টিআর
পেছালো মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা
ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১৮৬৬
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৬৬ জন। বুধবার (৪ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৭৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৪ জন রোগী। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৫ হাজার ৯৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী।  এছাড়া চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে মোট ৪৪৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি রয়েছে ঢাকা বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৮৬৮ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ঢাকা বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮ হাজার ২৮৪ জনে এবং মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১২ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ২১৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে এবং ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার ফলে মোট আক্রান্ত বেড়ে ২১ হাজার ৪৪৭ জনে এবং মোট মৃত্যু ৮২ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হলেও এই সময়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে এই বিভাগে এখন পর্যন্ত মোট ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার ৮৮৬ জন। রাজশাহী বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৭১ জন (মৃত্যু নেই), মোট আক্রান্ত ১১ হাজার ৫২ জন এবং মোট মৃত্যু ২৯ জন। অন্যদিকে রংপুর বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যেখানে মোট আক্রান্ত ৪ হাজার ৯৮০ জন এবং এ পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বরিশাল বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২০৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, ফলে এই বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ হাজার ৭১২ জনে এবং মোট মৃত্যু ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। তুলনামূলক কম আক্রান্ত হওয়া সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩ জন, এবং এ পর্যন্ত এই বিভাগে মোট ৯১২ জন আক্রান্ত ও ৪ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। আরটিভি/টিআর
ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১৮৬৬
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
দেশে হাম ও হাম-সংশ্লিষ্ট উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৫ শিশু এবং উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৬৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬৯ জনে। বুধবার (৪ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৩২৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ১৪৮ জনে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা ২৪ হাজার ১৫০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৭৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হাম উপসর্গে মোট ১ হাজার ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০৫ জনের। বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৬ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪ জন, সিলেট বিভাগে ১ জন এবং খুলনা বিভাগে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা জেলাতেই সর্বোচ্চ ৪ জনের মৃত্যু নিবন্ধিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫২০ জন নতুন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ২৩১ জন, বরিশালে ১৫৮ জন, সিলেটে ১৪৪ জন, খুলনায় ৯৭ জন, ময়মনসিংহে ৯১ জন এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে ৪২ জন করে রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৮ হাজার ৬৩৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৯৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২০৬ জন এবং ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ১৪২ জন। আরটিভি/টিআর
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
বাংলাদেশ-সৌদি ‘ভাসমান হাসপাতাল’র সেবা পেয়েছেন ৬ লাখেরও বেশি রোগী
সৌদি আরবের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সরকারের এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের ফলে অবহেলিত গড়ইখালী ও আশপাশের অঞ্চলের দুস্থ মানুষের দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য বঞ্চনার অবসান হতে চলেছে।
বাংলাদেশ-সৌদি ‘ভাসমান হাসপাতাল’র সেবা পেয়েছেন ৬ লাখেরও বেশি রোগী
আরও পড়ুন
জেফরি এপস্টিনের নিজের শুক্রাণু সংরক্ষণ ঘিরে নতুন রহস্য
পুরুষের বন্ধ্যাত্ব নির্মূলে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে এআই প্রযুক্তি 
পুরুষের ধূমপান ও নেশার অভ্যাসেই বাড়ে গর্ভপাতের ঝুঁকি!   
ওজন কমানোর ওষুধ বাড়াচ্ছে বন্ধ্যাত্বে‌র ঝুঁকি, কী করবেন?