ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

কাগজের ঠোঙা, পত্রিকার পাতায় খাবার খেয়ে বাড়ছে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

বাসে বসেই জানালা দিয়ে কিনে নিলেন আমড়া, শসা কিংবা পেয়ারা মাখা। আবার কোথাও হাঁটতে গিয়ে খাচ্ছেন ঝালমুড়ি, ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার। কেউ আবার অফিসের নিচে আড্ডার ছলে খাচ্ছেন চিতই পিঠা কিংবা গরম শিঙাড়া বা পুরি। কখনো কি খেয়াল করেছেন সাধারণ কাগজ, বই বা পত্রিকার পাতায় দেওয়া এসব খাবার কতখানি স্বাস্থ্যসম্মত?

কাগজের কালি এবং এতে খাবার খাওয়ার স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে কথা বলেছেন সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. হাসান মোস্তফা রাশেদ।

কাগজের ঠোঙা, সাধারণ কাগজ বা পত্রিকার পাতায় থাকা কালি খাবারের সঙ্গে মিশে কী ক্ষতি করতে পারে

ডা. হাসান মোস্তফা রাশেদ বলেন, রাস্তার আশেপাশে অনেক খাবার দোকান বা ফেরিওয়ালাকে কাগজের ঠোঙা, সাধারণ কাগজ বা পত্রিকার পাতায় খাবার পরিবেশন করতে দেখা যায়। বিভিন্ন ধরনের আচার, আমড়া, শশা, ঝালমুড়ি, ছোলা, পিঁয়াজু, বেগুনি, ফুচকা, শিঙাড়া, পুরি, জিলাপি, পরোটা বা লুচি দেওয়ার জন্য এসব ঠোঙা বা কাগজই একমাত্র ভরসা। এছাড়া অনেক সময় চামচ হিসেবে বা খাবারের গায়ে লেগে থাকা বাড়তি তেল শুষে নেওয়ার কাজেও কাগজ ব্যবহার করা হচ্ছে।

ব্যবহার করা এসব কাগজে অপরিচ্ছন্নতাজনিত সমস্যা ছাড়াও ব্যবহৃত কালির ক্ষতিকর দিক আছে। হাতে লেখা কাগজের কালি, প্রিন্টের কালি থেকে বেশ আলগা হয়। হাতের স্পর্শ বা ঘষায় সেই কালি উঠে আসে এবং এই বিষাক্ত পদার্থ অজান্তেই খাবারে মিশছে। বিশেষ করে পানি বা তেলের সংস্পর্শে এসে কাগজ যদি ভিজে যায়, সেক্ষেত্রে এই ক্ষতিকর উপাদানগুলো সহজেই ভেতরে থাকা খাবারে মিশে যায় এবং খাবার পরিবেশনের সময় খাবারের সঙ্গে মিশে আমাদের পেটে চলে যায়।

কাগজে ব্যবহৃত কালিতে ক্ষতিকর কেমিক্যালের রং ও প্রিজারভেটিভ থাকে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এসব কেমিক্যালে দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শে আমাদের ক্যানসার (বিশেষত খাদ্যনালী, পাকস্থলী, কোলন, লিভার), কিডনি ও লিভারের প্রদাহজনিত রোগ, হৃদরোগ, হরমোন ভারসাম্যহীনতা, স্নায়ুতন্ত্র ও বন্ধ্যাত্ব সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া পুরোনো কাগজে রোগ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস থাকে, যা থেকে পাকস্থলী ও অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ হতে পারে ও হজমের সমস্যা হতে পারে।

কেন ক্ষতির কারণ এটি

কাগজে ব্যবহার করা কালিতে থাকে একাধিক বায়োঅ্যাকটিভ পদার্থ, যেমন: ন্যাফথাইলামাইন, অ্যারোমাটিক হাইড্রোজেন ও কার্বন যৌগের মতো পদার্থ। এগুলো পিগমেন্ট, প্রিজারভেটিভ ও সলভেন্ট হিসেবে কালিতে থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। প্যাথজেনিক মাইক্রোঅরগ্যানিজম বা জীবাণুর উপস্থিতি তো আছেই, যা পেটের রোগের একটা বড় কারণ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এ বিষাক্ত রাসায়নিক ও জীবাণু খাবারের সঙ্গে মিশছে এবং আমাদের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে কিডনি, লিভার ও অন্ত্রের প্রদাহ করে আমাদের অসুস্থ করছে।

কী ধরনের খাবার রাখলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে এসব কাগজ

সাধারণত গরম, তেলযুক্ত বা ভেজা খাবার (শিঙাড়া, সমুচা, পরোটা, শশা, আমড়া, আচার) কাগজের ওপর রাখলে কাগজের কালি দ্রবীভূত বা নষ্ট হয়ে যায় এবং সেই কালি খাবারের সঙ্গে মিশে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। খবরের কাগজ বা সাধারণ কাগজে ব্যবহৃত কালিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও ভারী ধাতু থাকে। তেল বা পানি এই কালিকে সহজে গলিয়ে ফেলে।

কালিতে থাকা বিভিন্ন যৌগ পদার্থগুলো মূত্রাশয় ক্যানসারের অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে চিহ্নিত। এছাড়া হার্ট, কিডনি, লিভার ও ফুসফুসের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া, হাড় দুর্বল হওয়া, হরমোনের ভারসাম্যহীনতাসহ একাধিক রোগের কারণ হতে পারে। কালিতে থাকা ন্যাফথাইলামাইনের কারণে সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

কাদের জন্য এটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ

যারা নিয়মিতভাবে দীর্ঘদিন ধরে কাগজের প্যাকেটে খাবার গ্রহণ করেন, তারা এসব সমস্যার ঝুঁকির মধ্যে আছেন।

কী করা উচিত

ডা. হাসান মোস্তফা রাশেদ বলেন, কাগজ একটি মূল্যবান ও পরিবেশবান্ধব উপাদান। তাই এর ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ না করে সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত খরচ কমানোর জন্য অল্পপুঁজির ব্যবসায়ীরা এসব কাগজ ব্যবহার করে। যেসব কাগজের খাদ্য-নিরাপত্তার মান (ফুড-গ্রেড) নিশ্চিত নয়, সেগুলো ব্যবহার করা যাবে না। টিস্যু পেপার, পেপার টাওয়েল বা সাদা পরিষ্কার কাগজ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে টিস্যু ব্যবহারের ক্ষেত্রে রঙ্গিন টিস্যু ব্যবহার করা যাবে না। কখনোই খবরের কাগজ বা হাতে লেখা বা প্রিন্টিং কাগজ ব্যবহার করা উচিত না। এক্ষেত্রে ক্রেতাদের সচেতনতাও জরুরি। ক্রেতারা সক্রিয়ভাবে এই ধরনের কাগজ পরিহার করলে বিক্রেতা বা হকাররা এর ব্যবহার কমিয়ে দিবেন।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৭, রেকর্ড ভর্তি ২২৪৯
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বছরের সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৪৯ জন।
ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৭, রেকর্ড ভর্তি ২২৪৯
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর প্রাণহানি
দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর প্রাণহানি
ছেলেকে বাঁচাতে কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, দেশে নেই পর্যাপ্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা!
বড় ভাইয়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘ডিটিপিএ রেনোগ্রাম উইথ স্প্লিট ফাংশন অ্যান্ড জিএফআর’ পরীক্ষা করাতে পারছেন না সাংবাদিক নূরে আলম সিদ্দিকী জুয়েল। দেশের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ করেও পরীক্ষাটি করানোর ব্যবস্থা করতে পারেননি তিনি।
ছেলেকে বাঁচাতে কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, দেশে নেই পর্যাপ্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা!
গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতকে ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের স্বাস্থ্য খাতকে ধ্বংস করে দিয়েছে এবং লুটপাটের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থাপনাকে ভেঙে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনামন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্য খাতে গতি ফিরিয়ে আনা এবং জনগণের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দিনরাত কাজ করছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় সব জেলা হাসপাতালের পরিস্থিতি একই রকম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৯ সালে ১৯ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে এসব হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০-এ উন্নীত করা হয়। এরপর আর কোনও সরকার হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ায়নি বলে দাবি করেন তিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রতিটি হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ১৫১-এ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনকালে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিদর্শনের সময় তিনি হাসপাতালের ডেঙ্গু, হামসহ বিভিন্ন রোগের ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। এ সময় রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণে তাদের কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না, তা জানতে চান। এ সময় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার, জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, এসপি কামরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে শনিবার সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ময়মনসিংহের ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। আরটিভি/এসআর  
গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতকে ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১২৯৯
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ৩৭১ জনে দাঁড়াল।
ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১২৯৯
আরও পড়ুন
অবরুদ্ধ চুয়েট উপাচার্যের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ
সাবধান! ভেপ টেনে মৃত্যুকে কাছে ডাকছেন দ্রুত!
ধূমপানের বিকল্প ভ্যাপিং নিরাপদ নয়, আছে ক্যানসারের ঝুঁকি: নতুন গবেষণা
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন? বাড়ছে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি