ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

বাসচালক থেকে যেভাবে প্রেসিডেন্ট হন নিকোলাস মাদুরো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:১২ পিএম
নিকোলাস মাদুরো। ছবি: সংগৃহীত

কয়েক মাস ধরেই ভেনেজুয়েলা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে। ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ মহড়া, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর যুদ্ধপ্রস্তুতির ঘোষণায় দেশটির পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

নিকোলাস মাদুরোর রাজনৈতিক জীবনের শুরু একেবারেই সাধারণ এক পেশা থেকে। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ছিলেন একজন বাসচালক। ওই সময় থেকেই তিনি শ্রমিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং ধীরে ধীরে শ্রমিক আন্দোলনের নেতৃত্বে উঠে আসেন। দীর্ঘদিন শ্রমিক রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পর তিনি জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

হুগো চাভেজের নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে মাদুরো দ্রুত রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন। ২০০৬ সালে তিনি ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত হন এবং চাভেজের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। চাভেজের মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ২০১৩ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন মাদুরো।

২০১৮ সালের ২০ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোট পাওয়ার দাবি করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ এ নির্বাচনকে বিতর্কিত বলে আখ্যা দেয়। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তার সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র সংকুচিত করা, বিরোধী দমন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে।

২০১৪ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়ে। তেলের দামে পতন, দুর্নীতি ও নীতিগত দুর্বলতার কারণে দেশটিতে চরম মুদ্রাস্ফীতি ও খাদ্যসংকট দেখা দেয়। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং লাখ লাখ মানুষ প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়, যা লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে নজিরবিহীন।

২০১৭ সালে মাদুরো জাতীয় সাংবিধানিক পরিষদ গঠন করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেন, যা নিয়েও দেশ-বিদেশে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ঐক্য ও শান্তির নামে নেওয়া কর্মসূচিগুলো মূলত ক্ষমতা সুসংহত করার কৌশল।

আরও পড়ুন

মাদুরোর শাসনামলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে থাকে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ তাঁর সরকার ও ঘনিষ্ঠজনদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ভেনেজুয়েলার সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করে কলম্বিয়া, ব্রাজিল ও পেরুর মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতেও।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। এ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন দাবি উঠে আসে, যা ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের ভয়ংকর ফাঁদ, শিকার পেন্টাগন-ন্যাটো-জাতিসংঘও
অনলাইনে বিজ্ঞাপনের বিশাল ফাঁদ পেতে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি এবং তাদের ডিভাইসে আড়িপাতার প্রমাণ পাওয়া গেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। এমনকি তাদের এই ভয়ংকর ফাঁদের শিকার হয়েছে পেন্টাগন, ন্যাটো এবং জাতিসংঘের মতো সংস্থাগুলোও। 
বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের ভয়ংকর ফাঁদ, শিকার পেন্টাগন-ন্যাটো-জাতিসংঘও
ক্ষুধা-দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত পাকিস্তান, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর
অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জলবায়ু বিপর্যয় এবং বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তা সংকটে থাকা পাকিস্তান ‘গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) ২০২৬’-এ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর রেকর্ড করেছে।  বুধবার (১৪ অক্টোবর) ‘নো সিকিউরিটি উইদাউট ফুড সিকিউরিটি’ (খাদ্য নিরাপত্তা ছাড়া নিরাপত্তা নেই) শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে ক্ষুধা সূচকের এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।  এটি যৌথভাবে প্রকাশ করেছে ‘ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফ’, রুহর ইউনিভার্সিটি বোখুমের ‘ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ল অব পিস অ্যান্ড আর্মড কনফ্লিক্ট’ এবং সুইজারল্যান্ডের সংস্থা ‘হেলভেটাস’। খবর দ্য ডনের। প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষুধা পরিস্থিতির অগ্রগতি ব্যাপকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের পর থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাকিস্তানে অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং খাদ্যপণ্যের তীব্র মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে এবং খাদ্যের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। দেশটিতে অপুষ্টির হার ২০১৮ সালের ‘নিম্ন’ স্তর থেকে বেড়ে ‘মাঝারি’ স্তরে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে শিশুদের তীব্র অপুষ্টির হার উচ্চ পর্যায়ের দিকে এগিয়েছে। পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়েই খাদ্য সংকট এখনও গুরুতর পর্যায়ে রয়েছে, যার আঞ্চলিক স্কোর ২৩ দশমিক ৫। যদিও ২০০০ সালের অতি আশঙ্কাজনক ৩৭ দশমিক ৫ স্কোর থেকে পরিস্থিতি অনেকটা উন্নত হয়েছিল, তবে তার অধিকাংশ অগ্রগতিই ঘটেছে ২০১৮ সালের আগে।  ২০০০ সালের পর পাকিস্তান ও আফগানিস্তান অতি আশঙ্কাজনক স্তর থেকে নেমে কিছুটা উন্নতি দেখালেও এসব দেশে শিশুদের খর্বকায়তা এখনো অনেক বেশি। পাকিস্তানে শিশুদের খর্বকায়তার হার ধীরে ধীরে কমলেও ২০১৮ সালের পর থেকে আফগানিস্তানে এটি কিছুটা বেড়েছে। তবে দুটি দেশেই ২০০০ সালের অতি উচ্চ শিশু মৃত্যুর হার বর্তমানে মাঝারি স্তরে নেমে এসেছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় চরম খাদ্য নিরাপত্তার উচ্চ ঝুঁকি বজায় থাকবে। ভারি বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কিছু কিছু জায়গায় স্থানীয়ভাবে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে গড় বৃষ্টির চেয়ে কম বৃষ্টিপাত এবং বাড়তি তাপমাত্রার কারণে আফগানিস্তানের ২০২৬ সালের শস্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইরানসহ দক্ষিণ এশিয়ার ২১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ অপুষ্টির শিকার হয়েছেন, যা বৈশ্বিক মোট সংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, প্রায় দুই দশকের অগ্রগতির পর আবারও বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকের স্কোর দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ১, যা ২০১৮ সালের ১৭ দশমিক ৬ স্কোরের চেয়ে খারাপ। ২০১৮ সালের পর থেকে বিশ্বের ৩২টি দেশে ক্ষুধা বেড়েছে এবং ৫৭টি দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুদ্রতম স্তরের ক্ষুধা কমানোর লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করতে পারবে না। সূচকের চারটি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটি- অপুষ্টি, শিশুদের খর্বাকৃতি ও শিশুদের তীব্র অপুষ্টির অবনতি ঘটেছে। কেবল শিশু মৃত্যুর হার কিছুটা কমেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র সংঘাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো এবং ঘন ঘন চরম আবহাওয়া সম্পর্কিত ঘটনা বৈশ্বিক এই অবনতির মূল কারণ। ইরানের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মানদাব প্রণালিতে নৌ-পরিবহণ ব্যাহত হওয়ার কারণে জ্বালানি, পরিবহণ এবং সারের দাম ব্যাপকভাবে বাড়ছে। পাশাপাশি ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং কৃষ্ণসাগর দিয়ে রফতানি বিধিনিষেধের কারণে গমের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের দরিদ্র মানুষের কাছে মৌলিক খাদ্যপণ্যকে নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। এই সংকট আরও ঘনীভূত করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তার অভাব। খাদ্য নিরাপত্তায় বৈশ্বিক ব্যয় ২০১৬-২০১৭ সালের স্তরে নেমে এসেছে, যার ফলে মানবিক সহায়তা কর্মসূচি ও জরুরি ত্রাণ বরাদ্দে কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা।  ভবিষ্যতেও বিশ্বজুড়ে এই ধরনের চরম সংকট প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা এবং উপাত্ত সংগ্রহের বাজেটে দেওয়া কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বিশ্বের সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রতিবেদনটি। আরটিভি/এসআর
ক্ষুধা-দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত পাকিস্তান, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর
সৌদি আরবের নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করার পরপরই দুই শহরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স।
সৌদি আরবের নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা
আমেরিকানদের দ্বিতীয় পাসপোর্ট কেনার নতুন সুযোগ দিচ্ছে আর্জেন্টিনা
বড় অঙ্কের অর্থ জমা বা সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের বিনিময়ে বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার নতুন কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে আর্জেন্টিনা।
আমেরিকানদের দ্বিতীয় পাসপোর্ট কেনার নতুন সুযোগ দিচ্ছে আর্জেন্টিনা
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও ইউক্রেনের হামলা, জেলেনস্কির হুঁশিয়ারি
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও হামলা শুরু করেছে ইউক্রেন।
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও ইউক্রেনের হামলা, জেলেনস্কির হুঁশিয়ারি
আরও পড়ুন
মাদুরোর বিরুদ্ধে নির্যাতনের নতুন অভিযোগ, কারাগারে স্ত্রীও
ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে
ভেনেজুয়েলার নাগরিককে গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত আইসিই এজেন্ট মুক্তি পাচ্ছেন
ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে মৃত্যু ছাড়াল ৬ হাজার