ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

বিশ বছরের তরুণী এখন স্পেনের রাণী!

সুপ্তি রায়, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম

বিশ বছর বয়সী একজন তরুণীর স্বাভাবিক জীবন কাটার কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস কিংবা বন্ধুদের আড্ডায়। কিন্তু স্পেনের রাজকুমারী লিওনরের গল্পটা একদমই আলাদা কারণ তিনি এখন নিজেকে তৈরি করছেন একটি দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে। প্রায় দেড়শ বছর পর স্পেন আবার একজন নারী শাসকের অধীনে যাওয়ার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। রাজা ফেলিপে ষষ্ঠ-এর বড় কন্যা লিওনরই হতে যাচ্ছেন দেশটির পরবর্তী রাণী যা স্পেনের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

২০০৫ সালে জন্ম নেওয়া লিওনরের শৈশব থেকেই প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল সিংহাসন প্রাপ্তির লক্ষ্য সামনে রেখে। সাধারণ পড়াশোনার পাশাপাশি তাকে রপ্ত করতে হয়েছে সাংবিধানিক আইন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং একাধিক ভাষা। বর্তমানে স্পেনের রাজতন্ত্রের নিয়ম মেনে তিনি সামরিক একাডেমিতে কঠোর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ভোরের ব্যায়াম থেকে শুরু করে রণকৌশল শিক্ষা—সবই এখন তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ কারণ ভবিষ্যৎ রাণীকে হতে হবে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।

আরও পড়ুন

স্পেনের ইতিহাসে সর্বশেষ শাসনক্ষম রাণী ছিলেন দ্বিতীয় ইসাবেলা যিনি উনিশ শতকে রাজত্ব করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর লিওনর যখন সিংহাসনে বসবেন তখন তিনি হবেন আধুনিক স্পেনের প্রথম নারী শাসক। রাজতন্ত্রের উত্থান-পতন আর গণতন্ত্রের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া স্পেনের জন্য এই তরুণী এখন স্থিতিশীলতার প্রতীক। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তার আত্মবিশ্বাসী ভাষণ এবং মার্জিত উপস্থিতি ইতিমধ্যেই স্প্যানিশ জনগণের মনে আশার সঞ্চার করেছে।

লিওনরের এই প্রস্তুতি কেবল একটি পরিবারের উত্তরাধিকার রক্ষা নয় বরং একবিংশ শতাব্দীতে রাজতন্ত্রকে নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ইতিহাস আর আধুনিকতার সেতুবন্ধন হয়ে তিনি যেভাবে নিজেকে গড়ে তুলছেন তা বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেড়শ বছর পর স্পেনের সিংহাসনে একজন নারীর অভিষেক কেবল সময়ের অপেক্ষা যা দেশটির রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইতিহাস গড়েছেন মিশরীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিক আবদুল এল-সায়েদ। দেশটির মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এই প্রার্থী। তার বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম ব্যক্তি নির্বাচিত সিনেটর হতে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন তিনি। বুধবার (৪ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত নির্বাচনী ফলাফল ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) পূর্বাভাসে তার বিজয় নিশ্চিত করা হয়। মিশিগানের বিদায়ী ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের ছেড়ে দেওয়া আসনে জয় পেয়েছেন তিনি। মিশরীয় পরিবারে জন্ম, বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রে আবদুল এল-সায়েদের পূর্ণ নাম আবদুলরহমান মোহাম্মদ এল-সায়েদ। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রচেস্টার হিলসে তার জন্ম। তার বাবা-মা দুজনই মিশরীয় বংশোদ্ভূত অভিবাসী। তার বাবা মোহাম্মদ এল-সায়েদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায়। উচ্চশিক্ষা অর্জনের উদ্দেশ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং ডেট্রয়েটের ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করেন। তার মা ফাতেন এল-কোমি পেশায় একজন নার্স প্র্যাকটিশনার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে কর্মরত। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে মিশিগানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শেষে তিনি ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে ভর্তি হন। সেখানে জীববিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। এ সময় তিনি মর্যাদাপূর্ণ রোডস স্কলারশিপ লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমডি ডিগ্রিও অর্জন করেন। জনস্বাস্থ্য থেকে রাজনীতির মাঠে পেশাগত জীবনে আবদুল এল-সায়েদ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, মহামারিবিদ ও প্রশাসক হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন। তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পাবলিক হেলথে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৫ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে ডেট্রয়েট শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শহরটির আর্থিক সংকটের পর স্বাস্থ্য বিভাগ পুনর্গঠন এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করে তিনি পরিচিতি পান। পরবর্তী সময়ে ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য, মানবসেবা ও ভেটেরানস সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সে নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। তবে রাজনীতিতে তার সক্রিয়তা অব্যাহত থাকে। ২০২৬ সালের ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারিতে কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেনসকে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন লাভ করেন তিনি। এরপর সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে সিনেটের আসনটি নিজের করে নেন। নীতিগত অবস্থান ও ঐতিহাসিক বিজয় নির্বাচনী প্রচারে আবদুল এল-সায়েদের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবাকে সবার জন্য সহজলভ্য করা এবং রাজনীতিতে করপোরেট অর্থ ও প্রভাব সীমিত করা। তিনি সবার জন্য সরকারি অর্থায়নে স্বাস্থ্যসেবা বা ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে তার বক্তব্য তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলে। তার এই বিজয় শুধু মিশিগানের রাজনীতিতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর মুসলিম ও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর মধ্য দিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম নির্বাচিত প্রতিনিধি যুক্ত হতে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে মোট ১০০ জন সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচিত আবদুল এল-সায়েদের দায়িত্ব গ্রহণের কথা ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি। মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সদস্য নির্বাচিত হওয়া আবদুল এল-সায়েদের এই অর্জন অভিবাসী পরিবারগুলোর নতুন প্রজন্মের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আরটিভি/টিআর
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ
ওহাইওর প্রথম নারী গভর্নর নির্বাচিত হলেন অ্যামি অ্যাক্টন
ওহাইওর পরবর্তী গভর্নর হওয়ার লড়াইয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ড. অ্যামি অ্যাক্টন। তিনি বর্তমান রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ডিওয়াইনের স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ওহাইওর প্রথম নারী গভর্নর নির্বাচিত হলেন অ্যামি অ্যাক্টন
নিউইয়র্কের আইনসভায় নির্বাচিত হলেন প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভা নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী আবের কাওয়াস।
নিউইয়র্কের আইনসভায় নির্বাচিত হলেন প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর ডেব হাল্যান্ড
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী ডেব হাল্যান্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর ডেব হাল্যান্ড
পঞ্চমবারের মতো কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হলেন ইলহান ওমর
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের পঞ্চম কংগ্রেসনাল আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী ইলহান ওমর।
পঞ্চমবারের মতো কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হলেন ইলহান ওমর
আরও পড়ুন
এক বছরে দুই ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, পদত্যাগের ঘোষণা স্পেনের মন্ত্রীর
মাঠে আঘাতের পর হাসপাতালে ফুটবলারের মৃত্যু
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত বাংলাদেশ-স্পেন
স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬৮, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক