ঢাকা শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, বাতিল ১৩ হাজার ফ্লাইট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত

ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। দেশটির নিউ মেক্সিকো থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় তুষারপাত ও বরফের কারণে বাতিল করা হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার ফ্লাইট। এছাড়া বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছেন লাখো মানুষ এবং অন্তত এক ডজন অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। মূলত শীতকালীন ঝড় আঘাত হানার পর স্থানীয় সময় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) থেকে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। খবর এনডিটিভি

বার্তাসংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউ মেক্সিকো থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১৪ কোটি মানুষ, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি মানুষ শীতকালীন ঝড়ের সতর্কতার আওতায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণ রকি পর্বতমালা থেকে শুরু করে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী তুষারপাত, শিলাবৃষ্টি ও বৃষ্টি হতে পারে।

সংস্থাটি কয়েক দিন ধরে তীব্র শীত অব্যাহত থাকারও সতর্কতা দিয়েছে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের আবহাওয়াবিদ অ্যালিসন স্যান্টোরেলি বলেন, ‘তুষার আর বরফ খুব ধীরে গলবে এবং দ্রুত সরে যাবে না। এতে উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কাজ ব্যাহত হবে’।

এমন অবস্থায় শনিবার পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্তত এক ডজন অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণার অনুমোদন দিয়েছেন এবং আরও বেশ কিছূ অঙ্গরাজ্যে এমন ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম জানান, ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (ফেমা) বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ত্রাণসামগ্রী, কর্মী এবং উদ্ধার দল আগে থেকেই মোতায়েন করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাইকে অনুরোধ করছি, বুদ্ধিমানের মতো সিদ্ধান্ত নিন— সম্ভব হলে ঘরে থাকুন’।

এদিকে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি মেরামতে কাজ শুরু হলেও পূর্বাঞ্চলের কিছু রাজ্যে বাসিন্দাদের জন্য শেষ মুহূর্তে কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল শনিবার বলেন, ‘আমরা এমন এক ঝড়ের মুখোমুখি হচ্ছি, যা বহু বছর দেখা যায়নি’। তিনি ভারী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং মহাসড়কে সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৫৬ কিলোমিটার নির্ধারণের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘এই সপ্তাহান্তে ঘরের ভেতর থাকাই সবচেয়ে ভালো’।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বিশেষ করে যেসব এলাকায় ব্যাপক বরফ জমেছে, সেখানে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা হারিকেনের সমান হতে পারে।

এদিকে শনিবার ঝড়ের জেরে বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার বাড়িঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর মধ্যে টেক্সাস ও লুইজিয়ানায় প্রায় ৫০ হাজার করে গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। এর মধ্যে লুইজিয়ানা সীমান্তের কাছে টেক্সাসের শেলবি কাউন্টিতে বরফের ভারে পাইনগাছ ভেঙে পড়ে এবং বিদ্যুৎ লাইন ছিঁড়ে যায়। এতে কাউন্টির প্রায় ১৬ হাজার বাসিন্দার এক-তৃতীয়াংশ শনিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন।

শেলবি কাউন্টির কমিশনার স্টিভি স্মিথ বলেন, ‘শত শত গাছ উপড়ে পড়েছে, রাস্তায় ডালপালা পড়ে আছে। আমার দল দ্রুত সড়ক পরিষ্কার করছে। পরিস্থিতি সামাল দেয়া খুব কঠিন।’

এছাড়া লুইজিয়ানার ডেসোটো প্যারিশে গাছ পড়ে গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এবং বাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে বলে জানান স্থানীয় শেরিফ দপ্তরের মুখপাত্র মার্ক পিয়ার্স। তিনি বলেন, ‘ডালপালা মাটিতে ঝুলে আছে। গাছগুলো পুরোপুরি বরফে ঢেকে গেছে।’

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ও রোববার মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ১৩ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ওকলাহোমা সিটির উইল রজার্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবারের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয় এবং রোববার সকালের ফ্লাইটগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ রোববার বিকেলে পুনরায় পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা করছে।

ডালাস-ফোর্ট ওর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার ৭০০টির বেশি ফ্লাইট ছাড়েনি এবং প্রায় সমান সংখ্যক আগমন ফ্লাইটও বাতিল করা হয়। শিকাগো, আটলান্টা, ন্যাশভিল ও নর্থ ক্যারোলিনার শার্লট শহরের বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে।

এছাড়া রোববার ওয়াশিংটনের রোনাল্ড রিগ্যান জাতীয় বিমানবন্দর থেকে ছাড়ার কথা রয়েছে এমন প্রায় সব ফ্লাইট শনিবার বিকেলের মধ্যে বাতিল হয়ে যায়।

জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে কর্মকর্তারা উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সূর্যাস্তের আগেই রাস্তাঘাট ছাড়ার এবং অন্তত ৪৮ ঘণ্টা ঘরে থাকার প্রস্তুতি নিতে বলেন। অঙ্গরাজ্যের প্রধান আবহাওয়াবিদ উইল ল্যানক্সটন বলেন, এটি সম্ভবত গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বরফঝড় হতে যাচ্ছে। এরপর অস্বাভাবিক ঠান্ডা পড়বে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

তিনি বলেন, বরফ আর তুষার এক নয়। বরফে কিছুই করা যায় না— গাড়ি চালানো যায় না, আর বিদ্যুৎ লাইন ও গাছ ভেঙে পড়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।

এদিকে দক্ষিণাঞ্চল অতিক্রম করার পর ঝড়টি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দিকে এগোবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। ওয়াশিংটন থেকে নিউইয়র্ক ও বোস্টন পর্যন্ত এলাকায় ৩০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত তুষারপাত হতে পারে।

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি শনিবার বলেন, সম্ভব হলে দয়া করে গাড়ি চালাবেন না, ভ্রমণ করবেন না, এমন কিছু করবেন না যাতে আপনি বা আপনার পরিবার বিপদে পড়েন’। তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘ঘরে থাকুন, গরম সোয়েটার পরুন, টিভিতে ‘মিশন ইম্পসিবল’ দশমবার দেখুন— সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বাইরে যাবেন না।

এপি বলছে, মিডওয়েস্ট অঞ্চলে অনুভূত তাপমাত্রা মাইনাস ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে নেমে গেছে। এতে ১০ মিনিটের মধ্যেই ত্বকে ফ্রস্টবাইট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। উইসকনসিনের রাইনল্যান্ডারে শনিবার সকালে মাইনাস ৩৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এটি প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।

মিনিয়াপোলিসে চরম শৈত্যপ্রবাহ কিছুটা কমলেও অভিবাসন দপ্তর আইসিইর বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের মাইনাস ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় বাইরে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে।

এদিকে ফিলাডেলফিয়া ও হিউস্টনের শিক্ষা কর্মকর্তারা সোমবার স্কুল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয় ও মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ও ক্লাস বাতিল করেছে।

আরটিভি/এএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মার্কিন ভিসাপ্রত্যাশী বিদেশি সাংবাদিকদের স্যোশাল মিডিয়ার প্রোফাইল যাচাই শুরু
যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ভিসার আবেদন করা বিদেশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল যাচাই-বাছাই শুরুর সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকে এটি কার্যকর হচ্ছে। এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ১ অক্টোবর থেকে ‘আই’ ভিসার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই নীতি প্রযোজ্য হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে যুক্তরাষ্ট্র যেতে আগ্রহী বিদেশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের ‘আই’ ভিসা দেওয়া হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই যাচাইবাছাই প্রক্রিয়া সহজ করতে আই, টিডি ও টিএন নন-ইমিগ্রান্ট ভিসা আবেদনকারীদের সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রোফাইলের প্রাইভেসি সেটিং ‘পাবলিক’ বা ‘ওপেন’ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সামাজিকমাধ্যমের প্রোফাইল উন্মুক্ত বা দৃশ্যমান রাখতে হবে। তবে আবেদনকারীদের কতদিন আগের অ্যাক্টিভিটি পর্যালোচনা করা হবে, কতদিন প্রোফাইল 'পাবলিক' রাখতে হবে কিংবা কোন ধরনের অনলাইন কনটেন্ট দেখা হবে—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকেই অধিকাংশ ভিসাপ্রার্থীর কাছ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া আইডির তথ্য নেওয়া বাধ্যতামূলক করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আই, টিডি এবং টিএন নন-ইমিগ্রান্ট ভিসার আবেদনকারীদেরও এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হলো। টিএন ভিসা মূলত ‘ইউনাইটেড স্টেটস-মেক্সিকো-কানাডা অ্যাগ্রিমেন্টের’ অধীনে সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী কানাডা ও মেক্সিকোর পেশাজীবীদের জন্য এবং টিডি ভিসা দেওয়া হয় তাদের স্ত্রী বা নির্ভরশীল সন্তানদের। আরটিভি/এসআর
মার্কিন ভিসাপ্রত্যাশী বিদেশি সাংবাদিকদের স্যোশাল মিডিয়ার প্রোফাইল যাচাই শুরু
লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্মদিনে পার্টির বদলে গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়লেন তরুণী
২১ বছর বয়সে পদার্পণ উপলক্ষে বিলাসবহুল পার্টি বা লাস ভেগাসে ভ্রমণের বদলে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক উদ্যোগ নিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন মিরিয়াম হারেগোট। নিজের বিশেষ দিনটিকে আরও অর্থবহ করে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রাণকেন্দ্রে গৃহহীনদের জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কার ও চালু করেছেন এই তরুণী। মানবিক এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে মিরিয়াম বলেন, মানুষকে মানবিকতার ছোঁয়া দিতে পেরে দারুণ লাগছে, কারণ বর্তমান বিশ্বে এর বড্ড অভাব। আপনি নিজে সমাজে যে পরিবর্তন দেখতে চান, সেই পরিবর্তনের সূচনা আপনার নিজেকে দিয়েই করা উচিত। এই আশ্রয়কেন্দ্র চালুর পরপরই মিরিয়াম প্রতিষ্ঠা করেন ‘দ্য প্যাক প্রজেক্ট’ (P.A.C.K. - People Advocating Community Kinship) নামের একটি সংগঠন।  সাউথ সেন্ট্রাল লস অ্যাঞ্জেলেসের একদল তরুণ, উদ্যোক্তা এবং সৃজনশীল ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত এই সংগঠনটি মূলত গৃহহীন ও সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের খাদ্য, বাসস্থান এবং শিক্ষার ব্যবস্থা করতে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের এই প্রজেক্টের আওতায় ‘ফিড দ্য হোমিস’ (Feed The Homies) নামের একটি মাসিক উদ্যোগের মাধ্যমে স্কিড রো এলাকায় এ পর্যন্ত হাজার হাজার সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে গরম খাবার পরিবেশন করা হয়েছে।  সমাজ পরিবর্তনের জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পদবি, বড় তহবিল বা অনুমোদনের অপেক্ষা না করে মিরিয়াম যেভাবে নিজেই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। আরটিভি/এসআর
লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্মদিনে পার্টির বদলে গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়লেন তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ নিয়ে যাওয়ার আগে যা জানা খুবই জরুরি
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সময় প্রেসার, ডায়াবেটিসসহ নিয়মিত ব্যবহারের ওষুধ সঙ্গে নিলে ইংরেজিতে প্রেসক্রিপশন বা ডাক্তারের চিঠি রাখার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)।  ওষুধ মূল প্যাকেটে রাখা এবং প্রবেশের সময় কাস্টমস কর্মকর্তাকে জানানোও জরুরি। তবে শুধু প্রেসক্রিপশন থাকলেই সব ধরনের ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া যায় না। নিউইয়র্কের জেএফকেসহ যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো প্রবেশপথে ওষুধ বহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফেডারেল নিয়ম প্রযোজ্য।  সিবিপির নির্দেশনা অনুযায়ী, সঙ্গে থাকা ওষুধ নিজের চিকিৎসায় কেন প্রয়োজন, তা বোঝাতে ইংরেজিতে বৈধ প্রেসক্রিপশন বা ডাক্তারের চিঠি রাখা উচিত। ওষুধ মূল প্যাকেটে না থাকলে প্রেসক্রিপশনের কপি অথবা রোগ ও চিকিৎসার প্রয়োজন ব্যাখ্যা করা ডাক্তারের চিঠি সঙ্গে রাখতে হবে। প্রেসক্রিপশনে রোগীর নাম, ওষুধের জেনেরিক নাম, ডোজ এবং ব্যবহারের নির্দেশনা স্পষ্ট থাকলে ওষুধ শনাক্ত করা সহজ হয়। মূল কাগজের পাশাপাশি ফটোকপি রাখা এবং ফোনে ডিজিটাল কপি সংরক্ষণ করা বাড়তি প্রস্তুতি হিসেবে কাজে আসতে পারে। ওষুধ মূল লেবেলযুক্ত প্যাকেট বা বোতলে রাখার পরামর্শ দিয়েছে সিবিপি। সম্ভব হলে প্যাকেটে ডাক্তারের ব্যবহারের নির্দেশনাও থাকতে হবে। এতে কাস্টমস পরীক্ষার সময় ওষুধ ও প্রেসক্রিপশনের তথ্য মিলিয়ে দেখা সহজ হয়। পরিমাণের ক্ষেত্রে সাধারণ নির্দেশনা হলো, নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ নেওয়া এবং সাধারণভাবে ৯০ দিনের সরবরাহের বেশি সঙ্গে না রাখা। তবে এই নির্দেশনাকে সব যাত্রীর জন্য সব ধরনের ওষুধ নেওয়ার অনুমতি হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, এফডিএ জানিয়েছে, সাময়িকভাবে আমেরিকায় আসা বিদেশি নাগরিকেরা ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য ৯০ দিনের ওষুধ আনতে পারেন। এ নির্দেশনায় বিদেশি নাগরিক বলতে আমেরিকার নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা নন, এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে। ফলে আমেরিকান নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারীদের একই সুবিধা প্রযোজ্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। এফডিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশে অনুমোদিত কোনো ওষুধ আমেরিকায় অনুমোদিত না হলে সেটি আমদানিতে বিধিনিষেধ থাকতে পারে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কিছু ক্ষেত্রে ছাড় বিবেচনা করা হলেও তা শর্তসাপেক্ষ। বাংলাদেশে ওষুধটি সহজে পাওয়া যায় কিংবা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন রয়েছে, এই কারণেই আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি নিশ্চিত হয় না।  বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন নিয়ন্ত্রিত উপাদানযুক্ত ওষুধের ক্ষেত্রে। কিছু ঘুমের, ব্যথার বা অন্য চিকিৎসার ওষুধ এই শ্রেণিতে পড়তে পারে। এসব ওষুধের ক্ষেত্রে ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ডিইএর নিয়মও মানতে হয়। তাই ভ্রমণের আগে ওষুধের জেনেরিক নাম ও উপাদান অনুযায়ী প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন থাকার পরিকল্পনা থাকলে সঙ্গে আনা ওষুধ শেষ হওয়ার আগেই স্থানীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা ভালো। প্রাইমারি কেয়ার ডাক্তারের কাছে আগের প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসার কাগজপত্র নিয়ে গেলে চলমান চিকিৎসা মূল্যায়নে সহায়তা হবে। স্থানীয় ফার্মেসি থেকে পরবর্তী ওষুধ পাওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই চিকিৎসক ও ফার্মেসির সঙ্গে নিশ্চিত করা উচিত। ভ্রমণের প্রস্তুতিতে সবচেয়ে জরুরি হলো ওষুধের পরিচয় স্পষ্ট রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নেওয়া এবং কাস্টমস কর্মকর্তাকে ওষুধের কথা জানানো। নিজের নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বাসিন্দার অবস্থান এবং ওষুধের ধরন অনুযায়ী এফডিএ, সিবিপি ও প্রয়োজনে ডিইএর নির্দেশনা মিলিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। আরটিভি/এসআর
যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ নিয়ে যাওয়ার আগে যা জানা খুবই জরুরি
স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় ভাড়ায় লোক পাঠিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ করালেন স্ত্রী
বিবাহিত বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার চরম খেসারত দিতে হয়েছে এক তরুণীকে। প্রতিশোধ নিতে লোক ভাড়া করে তাকে গণধর্ষণ করিয়েছেন ওই বন্ধুর স্ত্রী।  
স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় ভাড়ায় লোক পাঠিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ করালেন স্ত্রী
স্ত্রীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করে গিনেস রেকর্ড গড়লেন বৃদ্ধ
ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে স্ত্রীকে হারানোর পর সেই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে বিশ্বজয়ের অভিযানে নেমেছেন ৬৯ বছর বয়সী কানাডিয়ান সাইক্লিস্ট মার্ক হার্বস্ট। স্ত্রীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং প্রবীণদের অনুপ্রাণিত করার উদ্দেশ্যে সাইকেলে ৩০ হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনি। 
স্ত্রীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করে গিনেস রেকর্ড গড়লেন বৃদ্ধ
আরও পড়ুন
ডেঙ্গু মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫ লাখ কিট পেল বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ নিয়ে যাওয়ার আগে যা জানা খুবই জরুরি
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলা বাড়াচ্ছে এআই, নতুন প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য 
ডাটা সেন্টারের বিদ্যুৎ বিলের প্রস্তাব আটকাল যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট