ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

এবার ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রীকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সাথে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত এখন এক অনির্দিষ্ট ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই রণক্ষেত্রে হামলা ও পাল্টা হামলার তীব্রতা কেবল বাড়ছেই না, বরং তা রূপ নিচ্ছে এক ভয়াবহ অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে।

এই চরম উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতির ২০তম দিনে এসে ইরানের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাঠামোর ওপর আরও এক ভয়াবহ আঘাত হানার দাবি করেছে ইসরায়েল।

দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি এবং উপ-প্রধান আলীরেজা বায়েতকে হারানোর ক্ষত দগদগে থাকতেই এবার ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী এসমাইল খাতিবকে হত্যার দাবি করেছে তেল আবিব।

বুধবার (১৮ মার্চ) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই তথ্য জানান।

যদি এই দাবি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি হবে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ইরানের প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা বিভাগের সর্বোচ্চ তিন নীতিনির্ধারকের প্রয়াণ। লারিজানি ও বায়েতের জানাজা বুধবার তেহরানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, তার আগেই গোয়েন্দা প্রধানের মৃত্যুর খবর ইরানজুড়ে শোক ও আতঙ্কের ছায়া ফেলেছে। ইসরায়েল দাবি করছে, এই সুনির্দিষ্ট হামলার মাধ্যমে তারা ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও গোপন তথ্য সংগ্রহের মূল মস্তিষ্ককে অচল করে দিয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি এবং আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি। এর পরপরই উপ-প্রধান আলীরেজা বায়েতের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া যায়।

আরও পড়ুন

তবে এই বিশাল ধাক্কার মুখেও ইরান বলছে, তাদের নেতৃত্ব কাঠামো ভেঙে পড়বে না। এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখনো বুঝতে পারেনি যে ইরানের সরকার কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়।

আল-জাজিরাকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, একজন নেতাকে হত্যা করা হলেও রাষ্ট্রীয় কাঠামো অটুট থাকে এবং কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলতে থাকে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, গোয়েন্দামন্ত্রী এসমাইল খাতিবকে লক্ষ্য করে চালানো অপারেশনটি ছিল অত্যন্ত নিখুঁত এবং দীর্ঘ পরিকল্পনার ফসল। এর মাধ্যমে ইরানের অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক গোয়েন্দা কার্যক্রম বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

অন্যদিকে, তেহরানের রাজপথে ইতিমধ্যে নিহত নেতাদের জানাজাকে কেন্দ্র করে কয়েক হাজার মানুষ সমবেত হয়েছে, যারা ‘ইসরায়েল ধ্বংস হোক’ এবং ‘কঠোর প্রতিশোধ’ নেওয়ার স্লোগান দিচ্ছে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির দপ্তরের প্রশংসাপত্র পেলেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ফরিদ আহাম্মদ রনি
বাংলাদেশের আলোকচিত্রী ও লেখক ফরিদ আহাম্মদ রনির আলোকচিত্রভিত্তিক গ্রন্থ ‘প্যারিসের ছবি’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর হাতে গ্রন্থটি উপহার দেওয়ার পর এবার রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে পাওয়া আনুষ্ঠানিক প্রশংসাপত্র তার সৃজনশীল উদ্যোগকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর হাতে নিজের প্রকাশিত গ্রন্থ ‘প্যারিসের ছবি’ তুলে দেওয়ার সুযোগ পান ফরিদ আহাম্মদ রনি। প্যারিসের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সৌন্দর্যকে আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা এই গ্রন্থ রাষ্ট্রপতির হাতে পৌঁছে দেওয়া তার দীর্ঘদিনের সৃজনশীল যাত্রার একটি স্মরণীয় ঘটনা। এর আগে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির দপ্তর এবং প্যারিসের মেয়র দপ্তর থেকেও গ্রন্থটির জন্য প্রশংসাপত্র ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার কথা জানান লেখক। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে প্রাপ্ত আনুষ্ঠানিক চিঠি তার এই উদ্যোগে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রাপ্ত চিঠিতে গ্রন্থটি উপহার দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশটির ভাবমূর্তি তুলে ধরার ক্ষেত্রে লেখকের উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্রান্স ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক বন্ধন সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে তার অবদানের স্বীকৃতিও উল্লেখ করা হয়েছে। ‘প্যারিসের ছবি’ কেবল একটি আলোকচিত্রের বই নয়, বরং ফ্রান্সের রাজধানীর ইতিহাস, স্থাপত্য, শিল্প, সংস্কৃতি ও নগরজীবনের এক নান্দনিক উপস্থাপনা। গ্রন্থটিতে আইফেল টাওয়ার, লুভর জাদুঘর, ঐতিহাসিক স্থাপনা, ভাস্কর্য, নগরজীবন এবং প্যারিসের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলা, ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত গ্রন্থটি বাংলাদেশের প্রকাশনা ও আলোকচিত্রচর্চার আন্তর্জাতিক পরিচিতি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। বহুভাষিক উপস্থাপনার মাধ্যমে বইটি বাংলাদেশ, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের পাঠক ও শিল্পানুরাগীদের কাছে প্যারিসের সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনেও গ্রন্থটির বহুভাষিক প্রকাশনা এবং ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির হাতে পৌঁছানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। ফরিদ আহাম্মদ রনির এই গ্রন্থ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের কাছে পৌঁছেছে। ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর পাশাপাশি প্যারিসের সাবেক মেয়র আন্নে ইদালগোর হাতেও বইটি তুলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্যারিসের ঐতিহাসিক গ্রঁ পালে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ChangeNOW Summit-এ মোনাকোর যুবরাজ প্রিন্স আলবার্ট দ্বিতীয়, ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লরাঁ ফাবিউস এবং জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল মেলিসা ফ্লেমিংয়ের হাতেও গ্রন্থটি পৌঁছে দেন তিনি। ২০২৬ সালের জুনে প্যারিসের বর্তমান মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগোয়ারের কাছেও গ্রন্থটি উপহার দেওয়া হয়। একই বছরের আগস্টে ফ্রান্সের সাবেক রাষ্ট্রপতি ফ্রাঁসোয়া ওলান্দের হাতেও বইটি তুলে দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। ফ্রান্স ও বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। শিল্প, সাহিত্য, আলোকচিত্র ও সংস্কৃতির মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও গভীর করার সুযোগ রয়েছে। ফরিদ আহাম্মদ রনির ‘প্যারিসের ছবি’ সেই সাংস্কৃতিক যোগাযোগের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। একজন বাংলাদেশি আলোকচিত্রীর দৃষ্টিতে ফ্রান্সের রাজধানীকে আন্তর্জাতিক পাঠকের সামনে তুলে ধরার এই প্রচেষ্টা দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময়কে নতুনভাবে পরিচিত করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে পাওয়া আনুষ্ঠানিক প্রশংসাপত্র তার ব্যক্তিগত সৃজনশীল অর্জনের পাশাপাশি বাংলাদেশের আলোকচিত্র ও প্রকাশনা জগতের জন্যও অনুপ্রেরণার বিষয়। সংস্কৃতির কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা নেই। শিল্প ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে মানুষে মানুষে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, দেশ থেকে দেশে তৈরি হয় বন্ধুত্বের সেতু। ‘প্যারিসের ছবি’ সেই সেতুবন্ধনেরই একটি নান্দনিক প্রয়াস, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আরটিভি/টিআর
ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির দপ্তরের প্রশংসাপত্র পেলেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ফরিদ আহাম্মদ রনি
বিশ্ববাজারে বাড়ল সোনার দাম
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর ডলারের দরপতনে বিশ্ববাজারে সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশ্ববাজারে বাড়ল সোনার দাম
নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হলেন লেটিশিয়া জেমস
নিউ ইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে জয়ী হয়েছেন লেটিশিয়া জেমস। তিনি রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী সারিতা কোমাতিরেডিকে পরাজিত করেছেন বলে ঘোষণা করেছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। স্থানীয় সময় বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে এই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়, যেখানে জেমস ৬০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০১৯ সাল থেকে জেমস নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কর্মজীবী ​​পরিবারগুলোর ব্যয় কমানো, অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং নিউ ইয়র্কবাসীর অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করেছেন। দায়িত্বকালে গত সাত বছরে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ৫০ বারেরও বেশি মামলা করেছেন। ২০২০ সালে ট্রাম্প কোমাতিরেডিকে নিউ ইয়র্কের পূর্বাঞ্চলীয় ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। তিনি নিউ ইয়র্কে নিরাপত্তা বৃদ্ধি, মানসিক অসুস্থতার মোকাবিলা এবং নিউ ইয়র্কবাসীর অধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আরটিভি/টিআর
নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হলেন লেটিশিয়া জেমস
নিজেদের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার পেতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এরই ধারাবাহিকতায় এবার মার্কিন কংগ্রেসে নতুন ইতিহাস গড়ার পথে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস। 
নিজেদের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার পেতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যে ৫ কারণে ভরাডুবি হলো রিপাবলিকানদের
এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের ব্যাপকতাকে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের দুই বছরের শাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন ভোটারদের জোরালো প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যে ৫ কারণে ভরাডুবি হলো রিপাবলিকানদের
আরও পড়ুন
হরমুজ পার হতে বাংলাদেশকে ইরানের নির্দেশনা মানতে হবে: রাষ্ট্রদূত
‘আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব’, তেহরানে বিশাল বিলবোর্ডে ইরানের হুমকি
নির্বাচনে ভরাডুবির পেছনে ইরান যুদ্ধকে দায়ী করলেন ট্রাম্প
হঠাৎ ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার হচ্ছে পারমাণবিক হামলা থেকে বাঁচার উপায়