ভারতের তরুণদের প্রতিবাদের ধরন বদলে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মিম, ছোট ভিডিও ও ব্যঙ্গ-রসকে সঙ্গে নিয়েই এবার রাজপথে নেমেছেন হাজারো তরুণ-তরুণী। শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং জবাবদিহির দাবিতে তাদের এই আন্দোলন নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে সংসদের উদ্দেশে ডাকা পদযাত্রায় অংশ নিতে যাওয়ার আগে অনেক তরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মজার ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করেন। পরে সেই কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জের ঘটনাও ঘটে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি ছিল ভারতের নতুন প্রজন্মের এক ভিন্নধর্মী আন্দোলন। তারা শুধু স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাকার্ড, মিম এবং ছোট ছোট ভিডিওর মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছে। অনেকের হাতে ছিল এমন লেখা, যা একদিকে হাস্যরস তৈরি করেছে, অন্যদিকে সরকারের প্রতি ক্ষোভও প্রকাশ করেছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস, চাকরির অনিশ্চয়তা, শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা থেকেই তরুণদের মধ্যে এই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তাদের দাবি, এসব বিষয়ে সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে।
আন্দোলনের একটি বড় অংশজুড়ে ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। অনেকেই কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে নিজেদের প্রস্তুতির ভিডিও প্রকাশ করেন। আবার পুলিশের ব্যারিকেড এড়িয়ে দৌড়ানোর দৃশ্য, প্রতিবাদের মুহূর্ত এবং নানা ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মাধ্যমে। এতে আন্দোলন আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শুধু দিল্লি নয়, কলকাতা, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, চণ্ডীগড়সহ দেশের বিভিন্ন শহরেও সংহতি কর্মসূচি পালিত হয়। যাঁরা সরাসরি অংশ নিতে পারেননি, তাঁদের অনেকেই আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার পাঠান। কোথাও কোথাও বিনা মূল্যে চা বিতরণের ব্যবস্থাও করা হয়।
আন্দোলনের শুরুতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনশন করছিলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। পরে তাকে মোদি প্রশাসনকর্তৃক জোরপূর্বক হাসপাতালে নেওয়ার পর আন্দোলন আরও গতি পায়। এরপর সংসদ অভিমুখে সোমবার (২০ জুলাই) পদযাত্রার ডাক দেওয়া হলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও তরুণ এতে অংশ নেন।

হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, ভারতের নতুন প্রজন্ম প্রতিবাদকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছে। তারা হাসি-ঠাট্টা, মিম, গান, ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে আন্দোলনের অংশ বানিয়েছে। তবে এসবের আড়ালে তাদের মূল লক্ষ্য একটাই নিজেদের দাবি ও ক্ষোভ সবার সামনে তুলে ধরা।
আরটিভি/জেএমএ



