ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্বের দ্বিতীয় শীতলতম রাজধানীতে দাবদাহে রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের দ্বিতীয় শীতলতম রাজধানী হিসেবে পরিচিত কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানা। বছরের বড় একটি সময় তীব্র শীতের জন্য পরিচিত এই শহর এখন নজিরবিহীন তাপপ্রবাহের কবলে। চলতি গ্রীষ্মেই ভেঙেছে কয়েক দশকের পুরোনো তাপমাত্রার রেকর্ড। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সাময়িক কোনো আবহাওয়াগত অস্বাভাবিকতা নয়; বরং মধ্য এশিয়াজুড়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা জলবায়ুরই স্পষ্ট প্রতিফলন। এর প্রভাব ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য, কৃষি, পানি ও খাদ্যনিরাপত্তার ওপর আরও গভীর হবে।

গ্রীষ্ম মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই আস্তানায় দুটি রেকর্ড গড়া তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। গত ১৪ জুলাই শহরটির তাপমাত্রা ওঠে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এতে ৩৪ বছর আগে একই দিনে রেকর্ড হওয়া ৩৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা ভেঙে যায়। এরও আগে, ২৩ জুন তাপমাত্রা পৌঁছায় ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা ১৯৪১ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যায়।

শুধু রাজধানী নয়, তীব্র গরমে পুড়ছে পুরো কাজাখস্তান। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি, আর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কোথাও কোথাও তা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা কাজহাইড্রোমেট জানিয়েছে, জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে ৩৫ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অব্যাহত থাকতে পারে।

অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে, গত সপ্তাহজুড়ে জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা ‘১১২’-এর মাধ্যমে নাগরিকদের বারবার সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ভিডিওও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে প্রচণ্ড রোদের উত্তাপে গরম হয়ে যাওয়া রাস্তার ওপর ডিম ভেজে দেখাচ্ছেন স্থানীয়রা।

জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) জানিয়েছে, কাজাখস্তানের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকা জলবায়ুজনিত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্যকর অভিযোজনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ২০৫০ সালের মধ্যে ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার শহরগুলোতে তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুর সংখ্যা তিন গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

তবে কাজাখস্তানে তাপপ্রবাহে প্রতিবছর কত মানুষ মারা যান, তার নির্দিষ্ট কোনো জাতীয় পরিসংখ্যান নেই। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ধরনের মৃত্যুর জন্য এখনো আলাদা কোনো তথ্যভাণ্ডার বা সূচক চালু হয়নি।

এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সুপারিশ অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ হিট-হেলথ অ্যাকশন প্ল্যানও এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। যদিও প্রবীণ, শিশু এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য তাপপ্রবাহ-সংক্রান্ত সতর্কতা ও স্বাস্থ্যপরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

ডব্লিউএইচওর ইউরোপ অঞ্চলের পরিচালক হ্যান্স অঁরি পি. ক্লুজের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে মধ্য এশিয়ায় তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুর হার দ্রুত বাড়বে। বিশেষ করে কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকবে। তাই পরবর্তী গ্রীষ্মের আগেই প্রতিটি দেশের কার্যকর হিট-হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়ন করা জরুরি।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, যেসব দেশ এমন পরিকল্পনা কার্যকর করেছে, সেখানে তাপপ্রবাহজনিত অতিরিক্ত মৃত্যু প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান তাপপ্রবাহ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা বৈশ্বিক উষ্ণায়নেরই ফল।

আরও পড়ুন

কাজহাইড্রোমেটের তথ্য বলছে, বিশ্বের গড়ের তুলনায় দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে কাজাখস্তান। ২০২৫ সাল ছিল দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর। ওই বছর গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ দশমিক ৯৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

এর ফলে ৩০ ও ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার দিনের সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে খরা ও দাবানলের ঝুঁকি। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন বনাঞ্চলে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। যদিও অধিকাংশ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে, তবু দীর্ঘস্থায়ী গরমের কারণে নতুন করে দাবানলের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

অন্যদিকে, আগেভাগে তুষার গলে যাওয়ায় বসন্তের বন্যা দ্রুত দেখা দিচ্ছে। এতে সেচের জন্য জলাধারে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। তুলনামূলক উষ্ণ শীতের কারণে মাটির গভীরে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতাও পৌঁছাচ্ছে না, যা কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫০ সালের পর থেকে কাজাখস্তানের হিমবাহগুলো তাদের মোট ভরের ১৪ থেকে ৩০ শতাংশ হারিয়েছে। বর্তমানে হিমবাহ দ্রুত গলার কারণে নদীতে সাময়িকভাবে পানির প্রবাহ বাড়লেও শতাব্দীর শেষ দিকে পরিস্থিতি উল্টো হয়ে ভয়াবহ পানিসংকট দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সির দরিয়া, ইলি ও অন্যান্য পার্বত্য নদীর পানিপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে মধ্য এশিয়াজুড়ে পানি, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।

বিশ্বের অন্যতম প্রধান গম রপ্তানিকারক দেশ কাজাখস্তানের জন্য দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও খরা কৃষি উৎপাদন, চারণভূমি এবং পানির সরবরাহকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এর প্রভাব শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে নয়, পুরো অঞ্চলের খাদ্যনিরাপত্তার ওপরও পড়তে পারে। সূত্র: ইউরো নিউজ

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মার্কিন ভিসাপ্রত্যাশী বিদেশি সাংবাদিকদের স্যোশাল মিডিয়ার প্রোফাইল যাচাই শুরু
যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ভিসার আবেদন করা বিদেশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল যাচাই-বাছাই শুরুর সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকে এটি কার্যকর হচ্ছে। এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ১ অক্টোবর থেকে ‘আই’ ভিসার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই নীতি প্রযোজ্য হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে যুক্তরাষ্ট্র যেতে আগ্রহী বিদেশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের ‘আই’ ভিসা দেওয়া হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই যাচাইবাছাই প্রক্রিয়া সহজ করতে আই, টিডি ও টিএন নন-ইমিগ্রান্ট ভিসা আবেদনকারীদের সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রোফাইলের প্রাইভেসি সেটিং ‘পাবলিক’ বা ‘ওপেন’ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সামাজিকমাধ্যমের প্রোফাইল উন্মুক্ত বা দৃশ্যমান রাখতে হবে। তবে আবেদনকারীদের কতদিন আগের অ্যাক্টিভিটি পর্যালোচনা করা হবে, কতদিন প্রোফাইল 'পাবলিক' রাখতে হবে কিংবা কোন ধরনের অনলাইন কনটেন্ট দেখা হবে—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকেই অধিকাংশ ভিসাপ্রার্থীর কাছ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া আইডির তথ্য নেওয়া বাধ্যতামূলক করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আই, টিডি এবং টিএন নন-ইমিগ্রান্ট ভিসার আবেদনকারীদেরও এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হলো। টিএন ভিসা মূলত ‘ইউনাইটেড স্টেটস-মেক্সিকো-কানাডা অ্যাগ্রিমেন্টের’ অধীনে সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী কানাডা ও মেক্সিকোর পেশাজীবীদের জন্য এবং টিডি ভিসা দেওয়া হয় তাদের স্ত্রী বা নির্ভরশীল সন্তানদের। আরটিভি/এসআর
মার্কিন ভিসাপ্রত্যাশী বিদেশি সাংবাদিকদের স্যোশাল মিডিয়ার প্রোফাইল যাচাই শুরু
লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্মদিনে পার্টির বদলে গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়লেন তরুণী
২১ বছর বয়সে পদার্পণ উপলক্ষে বিলাসবহুল পার্টি বা লাস ভেগাসে ভ্রমণের বদলে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক উদ্যোগ নিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন মিরিয়াম হারেগোট। নিজের বিশেষ দিনটিকে আরও অর্থবহ করে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রাণকেন্দ্রে গৃহহীনদের জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কার ও চালু করেছেন এই তরুণী। মানবিক এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে মিরিয়াম বলেন, মানুষকে মানবিকতার ছোঁয়া দিতে পেরে দারুণ লাগছে, কারণ বর্তমান বিশ্বে এর বড্ড অভাব। আপনি নিজে সমাজে যে পরিবর্তন দেখতে চান, সেই পরিবর্তনের সূচনা আপনার নিজেকে দিয়েই করা উচিত। এই আশ্রয়কেন্দ্র চালুর পরপরই মিরিয়াম প্রতিষ্ঠা করেন ‘দ্য প্যাক প্রজেক্ট’ (P.A.C.K. - People Advocating Community Kinship) নামের একটি সংগঠন।  সাউথ সেন্ট্রাল লস অ্যাঞ্জেলেসের একদল তরুণ, উদ্যোক্তা এবং সৃজনশীল ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত এই সংগঠনটি মূলত গৃহহীন ও সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের খাদ্য, বাসস্থান এবং শিক্ষার ব্যবস্থা করতে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের এই প্রজেক্টের আওতায় ‘ফিড দ্য হোমিস’ (Feed The Homies) নামের একটি মাসিক উদ্যোগের মাধ্যমে স্কিড রো এলাকায় এ পর্যন্ত হাজার হাজার সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে গরম খাবার পরিবেশন করা হয়েছে।  সমাজ পরিবর্তনের জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পদবি, বড় তহবিল বা অনুমোদনের অপেক্ষা না করে মিরিয়াম যেভাবে নিজেই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। আরটিভি/এসআর
লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্মদিনে পার্টির বদলে গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়লেন তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ নিয়ে যাওয়ার আগে যা জানা খুবই জরুরি
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সময় প্রেসার, ডায়াবেটিসসহ নিয়মিত ব্যবহারের ওষুধ সঙ্গে নিলে ইংরেজিতে প্রেসক্রিপশন বা ডাক্তারের চিঠি রাখার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)।  ওষুধ মূল প্যাকেটে রাখা এবং প্রবেশের সময় কাস্টমস কর্মকর্তাকে জানানোও জরুরি। তবে শুধু প্রেসক্রিপশন থাকলেই সব ধরনের ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া যায় না। নিউইয়র্কের জেএফকেসহ যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো প্রবেশপথে ওষুধ বহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফেডারেল নিয়ম প্রযোজ্য।  সিবিপির নির্দেশনা অনুযায়ী, সঙ্গে থাকা ওষুধ নিজের চিকিৎসায় কেন প্রয়োজন, তা বোঝাতে ইংরেজিতে বৈধ প্রেসক্রিপশন বা ডাক্তারের চিঠি রাখা উচিত। ওষুধ মূল প্যাকেটে না থাকলে প্রেসক্রিপশনের কপি অথবা রোগ ও চিকিৎসার প্রয়োজন ব্যাখ্যা করা ডাক্তারের চিঠি সঙ্গে রাখতে হবে। প্রেসক্রিপশনে রোগীর নাম, ওষুধের জেনেরিক নাম, ডোজ এবং ব্যবহারের নির্দেশনা স্পষ্ট থাকলে ওষুধ শনাক্ত করা সহজ হয়। মূল কাগজের পাশাপাশি ফটোকপি রাখা এবং ফোনে ডিজিটাল কপি সংরক্ষণ করা বাড়তি প্রস্তুতি হিসেবে কাজে আসতে পারে। ওষুধ মূল লেবেলযুক্ত প্যাকেট বা বোতলে রাখার পরামর্শ দিয়েছে সিবিপি। সম্ভব হলে প্যাকেটে ডাক্তারের ব্যবহারের নির্দেশনাও থাকতে হবে। এতে কাস্টমস পরীক্ষার সময় ওষুধ ও প্রেসক্রিপশনের তথ্য মিলিয়ে দেখা সহজ হয়। পরিমাণের ক্ষেত্রে সাধারণ নির্দেশনা হলো, নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ নেওয়া এবং সাধারণভাবে ৯০ দিনের সরবরাহের বেশি সঙ্গে না রাখা। তবে এই নির্দেশনাকে সব যাত্রীর জন্য সব ধরনের ওষুধ নেওয়ার অনুমতি হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, এফডিএ জানিয়েছে, সাময়িকভাবে আমেরিকায় আসা বিদেশি নাগরিকেরা ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য ৯০ দিনের ওষুধ আনতে পারেন। এ নির্দেশনায় বিদেশি নাগরিক বলতে আমেরিকার নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা নন, এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে। ফলে আমেরিকান নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারীদের একই সুবিধা প্রযোজ্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। এফডিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশে অনুমোদিত কোনো ওষুধ আমেরিকায় অনুমোদিত না হলে সেটি আমদানিতে বিধিনিষেধ থাকতে পারে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কিছু ক্ষেত্রে ছাড় বিবেচনা করা হলেও তা শর্তসাপেক্ষ। বাংলাদেশে ওষুধটি সহজে পাওয়া যায় কিংবা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন রয়েছে, এই কারণেই আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি নিশ্চিত হয় না।  বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন নিয়ন্ত্রিত উপাদানযুক্ত ওষুধের ক্ষেত্রে। কিছু ঘুমের, ব্যথার বা অন্য চিকিৎসার ওষুধ এই শ্রেণিতে পড়তে পারে। এসব ওষুধের ক্ষেত্রে ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ডিইএর নিয়মও মানতে হয়। তাই ভ্রমণের আগে ওষুধের জেনেরিক নাম ও উপাদান অনুযায়ী প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন থাকার পরিকল্পনা থাকলে সঙ্গে আনা ওষুধ শেষ হওয়ার আগেই স্থানীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা ভালো। প্রাইমারি কেয়ার ডাক্তারের কাছে আগের প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসার কাগজপত্র নিয়ে গেলে চলমান চিকিৎসা মূল্যায়নে সহায়তা হবে। স্থানীয় ফার্মেসি থেকে পরবর্তী ওষুধ পাওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই চিকিৎসক ও ফার্মেসির সঙ্গে নিশ্চিত করা উচিত। ভ্রমণের প্রস্তুতিতে সবচেয়ে জরুরি হলো ওষুধের পরিচয় স্পষ্ট রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নেওয়া এবং কাস্টমস কর্মকর্তাকে ওষুধের কথা জানানো। নিজের নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বাসিন্দার অবস্থান এবং ওষুধের ধরন অনুযায়ী এফডিএ, সিবিপি ও প্রয়োজনে ডিইএর নির্দেশনা মিলিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। আরটিভি/এসআর
যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ নিয়ে যাওয়ার আগে যা জানা খুবই জরুরি
স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় ভাড়ায় লোক পাঠিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ করালেন স্ত্রী
বিবাহিত বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার চরম খেসারত দিতে হয়েছে এক তরুণীকে। প্রতিশোধ নিতে লোক ভাড়া করে তাকে গণধর্ষণ করিয়েছেন ওই বন্ধুর স্ত্রী।  
স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় ভাড়ায় লোক পাঠিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ করালেন স্ত্রী
স্ত্রীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করে গিনেস রেকর্ড গড়লেন বৃদ্ধ
ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে স্ত্রীকে হারানোর পর সেই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে বিশ্বজয়ের অভিযানে নেমেছেন ৬৯ বছর বয়সী কানাডিয়ান সাইক্লিস্ট মার্ক হার্বস্ট। স্ত্রীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং প্রবীণদের অনুপ্রাণিত করার উদ্দেশ্যে সাইকেলে ৩০ হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনি। 
স্ত্রীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করে গিনেস রেকর্ড গড়লেন বৃদ্ধ
আরও পড়ুন
কাজাখস্তানকে একদিনে দুইবার হারাল বাংলাদেশ
তীব্র দাবদাহে পুড়ছে ইউরোপ, ফ্রান্সে ৪০ জনের মৃত্যু
তারেক রহমানের সঙ্গে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ 
তীব্র গরমের মধ্যে স্বস্তির খবর দিল আবহাওয়া অফিস