তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়ের ঘনিষ্ট বান্ধবী হিসেবে পরিচিত অভিনেত্রী তৃষাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে রাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা উদয়নিধি স্টালিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে চেন্নাইয়ে নিজ বাসভবন থেকে তানজাভুর পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
রাজনৈতিক সভা থেকে দেওয়া এক বক্তব্যের জেরে রাজ্য রাজনীতিজুড়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টির পর এই পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। গাড়ি পর্যন্ত হেঁটে যাওয়ার সময় হেসে উদয়নিধি সাংবাদিকদের জানান, এই গ্রেপ্তারকে তিনি একটি ‘কৌতুক’ হিসেবে দেখছেন এবং এর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি লড়াই চালাবেন।
এর আগে সোমবার (৩ আগস্ট) তানজাভুরে কাবেরী নদীর পানি বণ্টন বিরোধ নিয়ে ডিএমকে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন উদয়নিধি স্টালিন। সেখানে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়ের কড়া সমালোচনা করছিলেন। একপর্যায়ে জনসভার ভিড় থেকে কতিপয় ব্যক্তি উচ্চস্বরে জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃষার নাম ধরে স্লোগান দিতে শুরু করেন।
সাময়িকভাবে বক্তব্য থামিয়ে উদয়নিধি দ্ব্যর্থবোধক ও অশ্লীল ইঙ্গিতপূর্ণ একটি মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে তিনি মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করলেও ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।
মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে)–এর নারী শাখার পক্ষ থেকে থানায় মামলা করার পাশাপাশি জাতীয় নারী কমিশনেও (এনসিডব্লিউ) লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
টিভিকে নেতারা জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, প্রকাশ্যে একজন নারীকে অসম্মান ও হেয় করার অপরাধেই তার বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে এই গ্রেপ্তারকে ‘রাজনৈতিক প্রতিশোধ’ হিসেবে দেখছে বিরোধী দল ডিএমকে। দলের মুখপাত্র টি কে এস ইলাঙ্গোভান জানান, উদয়নিধি মূলত মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের নীতিগত ব্যর্থতা তুলে ধরে বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং তিনি সরাসরি কোনো অভিনেত্রীর নামও নেননি। ঘটনার পরপরই ডিএমকের আইনবিষয়ক দল মাদ্রাজ হাইকোর্টে উদয়নিধির আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছে।
অন্যদিকে তামিলনাড়ু বিজেপির প্রধান মুখপাত্র নারায়ণন তিরুপতি ঘটনাটিকে ‘অশ্লীল ও লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে উদয়নিধির কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার রাজনীতিবিদ ও রূপালি পর্দার ব্যক্তিদের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হতে দেখা গেছে রাজ্যটিতে।
আরটিভি/এআর




