
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নারী রোগীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে প্রায় ৩০ বছর ধরে পলাতক বাংলাদেশি চিকিৎসক জাহিদুল ইসলামকে খুঁজছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। ১৯৯৬ সালে ওই ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে অভিযোগ এবং পরে ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তবে এত বছরেও তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
এফবিআইয়ের বর্তমান ‘ওয়ান্টেড’ তালিকাতেও জাহিদুল ইসলামের নাম রয়েছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৩ অক্টোবর ফিলাডেলফিয়ার একটি বড় হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসাধীন এক নারী রোগীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
এফবিআই বলছে, চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় জাহিদুল ওই রোগীকে এমন একটি ওষুধ দিয়েছিলেন, যাতে তিনি ঝিমিয়ে পড়েন বা প্রায় অচেতন অবস্থায় চলে যান। এরপর হাসপাতালের কক্ষে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার সময় ওই নারী অস্ত্রোপচার থেকে সেরে উঠছিলেন।
ঘটনার পর জাহিদুলের বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে অভিযোগ আনা হয়। এরপর বিচার এড়াতে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে পেনসিলভানিয়ার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টে তার বিরুদ্ধে ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিচার এড়ানোর উদ্দেশ্যে বেআইনিভাবে পলায়ন এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
এফবিআইয়ের পোস্টার অনুযায়ী, জাহিদুল ইসলামের ব্যবহৃত জন্মতারিখ ১ অক্টোবর ১৯৫৫। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া এই চিকিৎসকের উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় ১৬০ পাউন্ড। তার চুল কালো ও চোখ বাদামি। প্রয়োজনে তিনি চশমা ব্যবহার করতে পারেন বলেও উল্লেখ করেছে এফবিআই।
তদন্তকারীদের ধারণা, নিউইয়র্ক স্টেট এবং কানাডার মন্ট্রিয়লের সঙ্গে জাহিদুলের যোগাযোগ রয়েছে। তিনি তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণ করে থাকতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তার স্ত্রীও পেশায় চিকিৎসক।
তবে বর্তমানে জাহিদুল ইসলামের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। এফবিআই তাকে ‘সশস্ত্র ও বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচনা করছে এবং তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে স্থানীয় এফবিআই অফিস অথবা নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে যোগাযোগ করতে বলেছে। মামলাটি ফিলাডেলফিয়া ফিল্ড অফিসের অধীনে রয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতেও জাহিদুলকে খুঁজে পেতে জনসাধারণের সহযোগিতা চেয়েছে এফবিআই। ১১ জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ফক্স ২৯ ফিলাডেলফিয়া জানায়, ওই সময় পর্যন্ত তিনি প্রায় ২৯ বছর ধরে পলাতক ছিলেন এবং তার অবস্থান অজানা ছিল।
তবে জাহিদুল ইসলামকে আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। এফবিআইয়ের নোটিশে তিনি অভিযোগের ভিত্তিতে একজন পলাতক আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
আরটিভি/এসকে


