
নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে জেন জির আন্দোলনের পর এবার ভারতের রাজপথে নেমেছে জেন আলফা। তবে তাদের দাবি আরও মৌলিক। ভালো স্কুল, পর্যাপ্ত শিক্ষক, বিশুদ্ধ পানি, নিরাপদ সড়ক, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, ভালো খাবার এবং স্কুলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। এসব দাবিতে ভারতের একাধিক রাজ্যে ছোট ছোট শিক্ষার্থীর বিক্ষোভে চাপে পড়ছে প্রশাসন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের পর এই নতুন প্রবণতা সামনে এসেছে। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলনের চাপে ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপর ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে গ্রামাঞ্চলের সরকারি স্কুলের উন্নয়নের দাবিতে স্কুল ঠিক করো প্রচারণা শুরু করেন।
এর মধ্যেই উত্তর প্রদেশ থেকে মহারাষ্ট্র, বিহার থেকে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ থেকে উত্তরাখণ্ড, বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সামনে এসেছে।উত্তর প্রদেশের হামিরপুরে গত ১১ আগস্ট একদল খুদে শিক্ষার্থী পাকা সড়কের দাবিতে হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ের দিকে যায়। বৃষ্টিতে রাস্তা কাদায় পরিণত হওয়া এবং বিকল্প পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে।ফতেহপুরের কিশানপুরে ২৮ জুলাই প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী সুপেয় পানি, শ্রেণিকক্ষে পাখা, স্কুলের অবকাঠামো মেরামত এবং ভালো মধ্যাহ্নভোজের দাবিতে চার ঘণ্টা অবস্থান করে। পরে প্রশাসন তাদের দাবি পূরণের লিখিত প্রতিশ্রুতি দেয়।
রাজস্থানের বারমেরে শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে স্কুলের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা। জালোর ও জয়পুরেও প্রতিবাদ হয়েছে।বিহারের গয়া জেলার সিমুয়ারা মধ্য বিদ্যালয়ের ৪০ জনের বেশি শিক্ষার্থী নিম্নমানের খাবার, ভাঙা চাপকল, অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার এবং খেলাধুলার সরঞ্জামের অভাবের প্রতিবাদে মহকুমা কর্মকর্তার দপ্তরে যায়। পরে প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে।
মধ্যপ্রদেশের সিরোঞ্জে বাসভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে ছাত্রীদের বিক্ষোভ হয়েছে। মহারাষ্ট্রের ধরাশিবে শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছে। নাগপুরে সাত কিলোমিটার কাদামাটির রাস্তা পেরিয়ে স্কুলে যাতায়াতের সমস্যার কারণে বাস সার্ভিসের দাবি উঠেছে। নাশিকের শিক্ষার্থীরা প্লাস্টিকের বোতলকে মাইক্রোফোন বানিয়ে ভাঙাচোরা রাস্তা নিয়ে ভিডিও প্রতিবেদনও তৈরি করেছে।
উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, আর্থিক সহায়তা এবং স্থায়ী পরিচালক নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন করেছে।সব মিলিয়ে ভারতের রাজপথে নতুন এক দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। এবার শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা নয়, স্কুলের ছোট শিক্ষার্থীরাও নিজেদের অধিকার ও মৌলিক সুবিধার দাবিতে প্রশাসনের দরজায় কড়া নাড়ছে। জেন জির আন্দোলনের পর জেন আলফার এই প্রতিবাদ ভারতের সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলোকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
আরটিভি/এসকে


