
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে মাত্র তিনটিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন অসন্তোষের চেয়ে বেশি বলে এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় এই পতন রিপাবলিকানদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রাজ্যভিত্তিক জনমত জরিপের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের ইতিবাচক জনসমর্থন এখন মূলত তার শক্তিশালী ঘাঁটিগুলোতেই সীমাবদ্ধ। অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে তার কাজের প্রতি সমর্থনের চেয়ে অসন্তুষ্ট মানুষের সংখ্যা বেশি।
তবে বিভিন্ন জরিপ প্রতিষ্ঠানের হিসাব ও পদ্ধতিতে পার্থক্য রয়েছে। কিছু সাম্প্রতিক জরিপে আইডাহো, নর্থ ডাকোটা, ওয়াইওমিং ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়াসহ চারটি অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের প্রতি ইতিবাচক জনমত দেখা গেছে। ফলে তিনটি অঙ্গরাজ্যের তথ্যটি একটি নির্দিষ্ট বিশ্লেষণের ফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক এক জাতীয় জরিপে ট্রাম্পের সামগ্রিক জনপ্রিয়তা নেমে এসেছে ৩৩ শতাংশে। একই জরিপে ৬৪ শতাংশ মানুষ তার কাজের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তার সর্বনিম্ন জনপ্রিয়তার হার।
চলতি মেয়াদের শুরুতে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ছিল ৪৭ শতাংশ। এরপর থেকে তার জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।
জনমত কমে যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি। জরিপে বিপুলসংখ্যক মার্কিন নাগরিক মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।
একই সঙ্গে পেট্রলের দাম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প নিত্যপণ্যের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পণ্যের দাম আরও বেড়েছে।
অর্থনীতি নিয়েও ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের ওপর আস্থা রাখা মানুষের সংখ্যা রিপাবলিকানদের চেয়ে সামান্য বেশি পাওয়া গেছে। কংগ্রেস নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন।
তবে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে আগামী নির্বাচনে সব অঙ্গরাজ্য ডেমোক্র্যাটদের দিকে চলে যাবে। প্রেসিডেন্টের কাজের প্রতি সন্তুষ্টি এবং দলীয় প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত এক বিষয় নয়।
তারপরও মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় এই নিম্নমুখী ধারা রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে এর প্রভাব কতটা পড়বে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
আরটিভি/জেএমএ


