
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা থেকে হারিয়ে যাওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ পর ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটারের বেশি দূরে নর্থ ক্যারোলাইনায় পাওয়া গেল একটি পোষা কুকুরকে। পরে তার মালিক মেলিসা বুরিস ছুটে গিয়ে কুকুরটিকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনেন।
মেলিসা যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার তুলসা এলাকার কাছে থাকেন। গত ৩০ জুলাই তার পোষা অস্ট্রেলিয়ান শেফার্ড জাতের কুকুর রিও নিখোঁজ হয়। এর আগে রিও মাঝেমধ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেও নিজে থেকেই ফিরে আসত। কিন্তু এবার অনেক খোঁজ করেও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না।
কুকুরটিকে খুঁজতে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গোষ্ঠীতে ছবি ও তথ্য ছড়িয়ে দেন মেলিসা। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে খোঁজ চালিয়ে যাওয়ার পর গত ১১ আগস্ট নর্থ ক্যারোলাইনার গ্রিনসবোরোর গিলফোর্ড কাউন্টি প্রাণীসেবা কেন্দ্র থেকে তার কাছে ফোন আসে।
ফোনে জানানো হয়, রিওকে সেখানে পাওয়া গেছে।
খবরটি শুনে অবাক হয়ে যান মেলিসা। কারণ তার বাড়ি থেকে নর্থ ক্যারোলাইনা প্রায় ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরে। কীভাবে রিও এত দূরে পৌঁছাল, সেটি এখনো রহস্য।
স্থানীয় এক ব্যক্তি রিওকে উদ্ধার করে প্রাণীসেবা কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে কুকুরটির শরীরে থাকা পরিচয় শনাক্তকারী ক্ষুদ্র যন্ত্র পরীক্ষা করে মালিকের তথ্য পাওয়া যায়। এরপর প্রাণীসেবা কেন্দ্রের কর্মকর্তারা মেলিসার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
খবর পাওয়ার পর এক মুহূর্তও দেরি করেননি মেলিসা। বিমানের টিকিট কেটে নর্থ ক্যারোলাইনা যান তিনি। সেখানে রিওকে নিয়ে গাড়ি ভাড়া করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফেরার পর রিও এখন ভালো আছে বলে জানিয়েছেন মেলিসা। তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহে রিও কীভাবে এতটা পথ পাড়ি দিয়েছে, তা হয়তো কখনো জানা যাবে না। তবে প্রিয় কুকুরটিকে আবার নিজের কাছে ফিরে পেয়ে তিনি ভীষণ খুশি।
মেলিসার ভাষ্য, বাড়ি ফেরার পর থেকে রিওকে বেশ হাসিখুশি দেখা যাচ্ছে।
এই ঘটনা পোষা প্রাণীর শরীরে পরিচয় শনাক্তকারী ক্ষুদ্র যন্ত্র রাখার গুরুত্বও সামনে এনেছে। প্রাণীসেবা কেন্দ্রের পরিচালক হোর্হে ওর্তেগা বলেন, পোষা প্রাণীর গলায় পরিচয়পত্র ও মালিকের যোগাযোগের তথ্য রাখার পাশাপাশি শরীরে স্থায়ী পরিচয় শনাক্তকারী যন্ত্র বসানো থাকলে হারিয়ে যাওয়া প্রাণীকে মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া অনেক সহজ হয়।
সূত্র: গুড মর্নিং আমেরিকা
আরটিভি/জেএমএ




