
শৈশবে রাজসিংহাসনে বসে বিশ্বজুড়ে তাক লাগিয়ে দেওয়া উগান্ডার ঐতিহ্যবাহী তোরো রাজ্যের রাজা ওইয়ো নিম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থ মাত্র ৩৪ বছর বয়সে মারা গেছেন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরে তোরো রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ক্যালভিন রওমিরে আকিকি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজার প্রয়াণের তথ্য নিশ্চিত করেন।
রাজার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো উগান্ডাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। তোরো রাজপ্রাসাদ সূত্র জানায়, রাজপরিবারের এই অভিভাবক কিছুদিন ধরে এক অজ্ঞাত অসুস্থতায় ভুগছিলেন এবং বিদেশে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর আগে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গুরুতর অসুস্থতার কথা জানানো হলেও তিনি জীবিত আছেন বলে প্রজাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল। ফলে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে তার এই হঠাৎ প্রয়াণ স্তব্ধ করে দিয়েছে সবাইকে। উগান্ডার পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার থমাস তাইয়েবা শোক প্রকাশ করে বলেন, 'এত অল্প বয়সে তার চলে যাওয়া মেনে নেওয়া সত্যিই ভীষণ কঠিন।'
রাজা ওইয়ো নামে সমধিক পরিচিত এই রাষ্ট্রপ্রধান মাত্র তিন বছর বয়সে ১৯৯৫ সালে তার বাবার মৃত্যুর পর তোরো রাজ্যের সিংহাসনে আরোহণ করেন। সে সময় বিভিন্ন প্রথাগত আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে তাকে অভিষিক্ত করা হয় এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী রাজশাসকের খেতাব পান। ১৮ বছর বয়সে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগপর্যন্ত রাজ্য মনোনীত অভিভাবকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো তার রাজত্ব।
জীবদ্দশায় অত্যন্ত শান্ত ও নিভৃতচারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন রাজা ওইয়ো। তিনি ব্যক্তিগত জীবন লোকচক্ষুর অন্তরালে রাখতেই ভালোবাসতেন। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি অবিবাহিত ছিলেন। লিবিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফির সঙ্গে তোরোর রাজপরিবারের গভীর সুসম্পর্ক ছিল। গাদ্দাফি বহুবার উগান্ডা সফর করেছিলেন এবং ২০১১ সালে নিজের মৃত্যুর আগপর্যন্ত রাজা ওইয়ো ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করে গেছেন।
উগান্ডার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজ্যগুলোর অন্যতম হলো তোরো। দেশের সংবিধানে রাজাদের কোনো প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক ক্ষমতা না থাকলেও নিজ জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতির প্রধান রক্ষক হিসেবে সামাজিক অঙ্গনে তাদের প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। কঙ্গো সীমান্তবর্তী পশ্চিম উগান্ডার প্রত্যন্ত এলাকায় এই রাজ্যের রাজধানী অবস্থিত এবং সেখানকার অধিবাসীরা 'বাতোরো' নামে পরিচিত।
এদিকে তোরোর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজমুকুটের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে। রাজা ওইয়ো এক যুবরাজকে তার উত্তরাধিকারী হিসেবে রেখে গেছেন। তোরো রাজ্যের দীর্ঘদিনের রীতি ও প্রথা মেনে উপযুক্ত সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন রাজার পরিচয় প্রকাশ্যে আনা হবে।
আরটিভি/এআর


