
নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ত্রিশূলি গ্রামের বাসিন্দারা ধীরে ধীরে নিজেদের ঘরবাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পড়ে থাকা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধারের পাশাপাশি একে অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন বন্যার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ও বেঁচে ফেরার গল্প।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বন্যার পর ত্রিশূলি গ্রামের চিত্র এখন অনেকটাই বিধ্বস্ত। ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারিয়ে অনেকেই গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন।
৪৩ বছর বয়সী সারস্বতী ঘালে জানান, বন্যার পানির সঙ্গে কাদামাটির স্রোত যখন দ্রুত ছুটে আসছিল, তখন তার মনে হচ্ছিল যেন ভূমিকম্পে মাটি কেঁপে উঠছে। আশপাশের পাহাড়ের ঢাল পানিতে ভরে যাওয়ায় একপর্যায়ে তিনি মনে করেছিলেন, এই দুর্যোগ থেকে হয়তো আর বেঁচে ফেরা সম্ভব হবে না।
তবে কোনোভাবে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিতে সক্ষম হন ঘালে। সেখান থেকে তিনি দেখেন, কাদামাটির প্রবল স্রোতে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভেসে যাচ্ছে। পরে চারপাশে কাদা জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
বন্যার সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এখনো তাড়া করে বেড়াচ্ছে তাকে। নিজের সবকিছু হারিয়ে গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন ঘালে। তিনি বলেন, এখন তার মনে হচ্ছে যেন পৃথিবীটাই আর নেই। তার ভাষায়, ‘আমার আর কিছুই নেই।’
গ্রামের ১৭ বছর বয়সী রিশিকা কালওয়ারও বন্যায় তাদের বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যে জায়গায় তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা, সেই জায়গাটিই এখন ধ্বংস হয়ে গেছে। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিনের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সেখানে জীবন গড়ে তুলেছিলেন।
রিশিকার ভাষায়, পরিবারের সেই সংগ্রামের কথা তিনি কোনোদিন ভুলতে পারবেন না।
গত বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটে। বন্যায় বহু ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনো অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি পুনর্বাসন কার্যক্রমও চলছে।
আরটিভি/এসকে


