
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুরস্ক ও ইসরায়েলের সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটেছে। দুই দেশের মধ্যকার রাজনৈতিক তিক্ততা কেবল কথার যুদ্ধেই সীমাবদ্ধ নেই; সামরিকভাবে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতাও সমানতালে চলছে। সিরিয়া, গাজা, হর্ন অব আফ্রিকা এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরে দুই দেশের কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
চলতি মাসের শুরুতে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে ঐতিহাসিক এক সামরিক জোট গঠন করেছে তুরস্ক। ‘মক্কা প্যাক্ট’ নামে গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এ চুক্তির মাধ্যমে একজোট হয়েছে শক্তিশালী এই তিন মুসলিম দেশ। অন্য মুসলিম দেশগুলোর জন্যও জায়গা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এই জোটে। ন্যাটো জোটের যৌথ প্রতিরক্ষার নীতির আদলে তৈরি এই চুক্তির মূল শর্ত হলো— স্বাক্ষরকারী যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা তিন দেশের ওপরই আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।
বলাই বাহুল্য, নতুন এই চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে কৌশলগতভাবে বড় ব্যবধানে এগিয়ে গেছে তুরস্ক। এই পরিপ্রেক্ষিতে এবার নতুন এক পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েলও।
ঐতিহাসিকভাবে তুরস্কের অন্যতম বড় শত্রু গ্রিসের সঙ্গে সোমবার (৩১ আগস্ট) সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের এক বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দেশটি। এই চুক্তির আওতায় ইসরায়েল গ্রিসের জন্য একটি বহুস্তরীয় সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। খবর রয়টার্সের
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ নামের এই প্রকল্পে রাফায়েলের তৈরি ডেভিডস স্লিং ও স্পাইডার এবং ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের বারাক এমএক্সসহ কয়েকটি আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করা হবে। তেল আবিবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক আমির বারাম এবং গ্রিসের পক্ষ থেকে ইওনিস বুরাস চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি ইসরায়েল-গ্রিস সম্পর্কের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা রপ্তানি চুক্তি। একইসঙ্গে ইসরায়েলের ইতিহাসেও এটি অন্যতম বৃহৎ চুক্তি। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনসহ বিভিন্ন হুমকির বিরুদ্ধে কোনো দেশকে পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের ঘটনা এটিই প্রথম।
ইসরায়েল জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ইসরায়েলি প্রযুক্তি এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধে অর্জিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি করা হবে। পাশাপাশি রাফায়েলের ড্রোন ডোম ব্যবস্থা বিক্রির জন্য ২৬ মিলিয়ন ইউরোর আরেকটি সম্পূরক চুক্তিও হয়েছে। এ ছাড়া প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে গ্রিসের স্থানীয় শিল্পের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, পূর্ব ভূমধ্যসাগরের গুরুত্বপূর্ণ দুই অংশীদার দেশের মধ্যে এটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আরেকটি বড় পদক্ষেপ। গত এক দশকে গ্রিসের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী আকাশ প্রতিরক্ষা কর্মসূচিতে ইসরায়েলি প্রযুক্তিকে বেছে নেওয়া দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাসেরই প্রতিফলন।
আরটিভি/এসএইচএম


