ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

ফের ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলার পরও আগে থেকে মজুত থাকা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ সুরক্ষিত আস্তানায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ আবারও শুরু করেছে ইরান। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের কর্মকর্তাদের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য জানিয়েছে।

কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধের শুরুতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও শিল্প স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক হামলা চালিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ‘ধ্বংস’ করার যে দাবি ওয়াশিংটন ও তেল আবিব করেছিল, নতুন এই তৎপরতায় তাদের সেই সাফল্য অনেকটাই ম্লান হতে বসেছে। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের খোজির ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাসহ বেশ কয়েকটি ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে পুরোদমে তরল ও কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজনের কাজ চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় প্রাথমিক ধাক্কা খাওয়ার পর গ্রীষ্মের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি এবং যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে তেহরান এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করে। সিআইএ-র সাবেক কর্মকর্তা ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের আগেই ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত ওয়ারহেড, গাইডেন্স ও কন্ট্রোল সিস্টেমের মতো বিপুল পরিমাণ খুচরা যন্ত্রাংশ ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে জমা করে রেখেছিল। এসব দিয়ে আরও কয়েক শ থেকে কয়েক হাজার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হামলায় ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং তাদের যন্ত্রাংশ আমদানির পথও সীমিত। তবে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের এমন দাবির পরও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির এ উদ্যোগ যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার ক্ষেত্রে তেহরানের সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ইতোমধ্যে সিরিয়া, জর্ডান এবং লোহিত সাগরে মার্কিন ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের ধারাবাহিক হামলা ও ক্লাস্টার ওয়ারহেড ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, ক্ষেপণাস্ত্রের বৈচিত্র্য ও বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ নেটওয়ার্কের কারণে হামলা চালিয়ে তেহরানের এই প্রতিরোধ প্রযুক্তি পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক চাপ যতই বাড়ুক না কেন, নিজস্ব সুরক্ষায় এই ব্যালিস্টিক সক্ষমতার ওপরই চূড়ান্ত ভরসা রাখছে ইরান।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সৌদি প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর
সৌদি আরবে অবস্থানরত অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রক্রিয়া আরও সহজ করল দেশটির সরকার। নতুন নিয়মে স্বামী বা স্ত্রী, ২৫ বছরের কম বয়সী ছেলেসন্তান এবং অবিবাহিত মেয়েসন্তানকে সঙ্গে নেয়ার সুযোগ থাকছে। সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ বলছে, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এর মাধ্যমে অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য পরিবার নিয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করল দেশটির সরকার। নতুন এই নিয়মে অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের কাজের ভিসার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাদের পরিবারের যোগ্য সদস্যদের সৌদি আরবে আনার সুযোগ দিয়েছে দেশটির সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য সৌদি আরবে বসবাসরত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আরও সহজ করা। নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য বিদেশি কর্মীরা তাদের স্ত্রী বা স্বামী, ২৫ বছরের কম বয়সী ছেলেসন্তান এবং অবিবাহিত মেয়েসন্তানকে সৌদি আরবে নিয়ে যেতে পারবেন। সংবাদমাধ্যম বলছে, পরিবারের যোগ্য সদস্যদের প্রবেশ ভিসা বিদেশি কর্মীর ওয়ার্ক ভিসার প্রক্রিয়া চলার সময়ই দেয়া যাবে। তবে এ জন্য আবেদনের সব শর্ত পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ পরিবারকে সৌদি আরবে আনার প্রক্রিয়া শুরু করার আগে নিজের ওয়ার্ক ভিসা পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রবাসী কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর দেশটির প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী তাদের বসবাসের অনুমতিপত্র বা রেসিডেন্স পারমিট দেয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। আরটিভি/এসআর
সৌদি প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর
সৌদির দুই বিমানবন্দরে হামলা
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের দুটি বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। হামলায় বিমানবন্দর দুটির বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।
সৌদির দুই বিমানবন্দরে হামলা
তুরস্কে নূহের নৌকার খোঁজে কী পেলেন গবেষকরা
ইরান সীমান্তবর্তী তুরস্কের আগ্রি প্রদেশের দোগুবেয়াজিত জেলায় জাহাজের আকৃতির একটি ভূতাত্ত্বিক কাঠামো ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে গবেষণা। অনেকের বিশ্বাস, এটি নূহ (আ.)-এর নৌকার ধ্বংসাবশেষ। সম্প্রতি সেখানে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান শেষ করেছে সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বাধীন একটি গবেষক দল। তবে এখনই নূহ (আ.)-এর নৌকার অস্তিত্ব নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। গবেষক দলের উপপ্রধান ও মার্কিন গবেষক অ্যান্ড্রু জোনস জানান, অনুসন্ধানের সময় কাঠামোটির বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় এক হাজার মাটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কোর ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে ভূগর্ভের নমুনা নেওয়া হয়েছে এবং নতুন প্রজন্মের রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাটির নিচে বেশ কিছু অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উঠে এসেছে কাঠামোটি কোনো একক পাথরের খণ্ড নয়। আগে ধারণা করা হয়েছিল, শক্ত কোনো পাথর দীর্ঘদিনের ক্ষয়প্রক্রিয়ায় জাহাজের মতো আকৃতি ধারণ করেছে। কিন্তু কোর ড্রিলিংয়ের সময় বিভিন্ন গভীরতা থেকে ধারাবাহিকভাবে মাটির নমুনা পাওয়া গেছে। তবে এর অর্থ যে কাঠামোটি মানুষের তৈরি, এমন সিদ্ধান্তেও এখনই পৌঁছানো যাচ্ছে না। জোনস বলেন, ভূগর্ভে পাওয়া গাঢ় রঙের মাটি বিশেষভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এটি পচে যাওয়া কাঠের অবশেষ কি না, নাকি অন্য কোনো প্রাকৃতিক বা মানবিক কর্মকাণ্ডের ফল ল্যাবরেটরি পরীক্ষার পর তা জানা যাবে। গত আগস্টে পরিচালিত রাডার স্ক্যানেও কাঠামোর নিচে কিছু অস্বাভাবিক বস্তু বা গঠনের সংকেত পাওয়া গেছে। গত মে মাসে শুরু হওয়া সর্বশেষ গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সেনকার আতিলা। পাঁচটি দেশের প্রায় ২০ জন বিজ্ঞানী এতে অংশ নেন। তেলচেকার ও উজেঙ্গিলি গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় টানা প্রায় ৯০ দিন ধরে চলে মাঠপর্যায়ের কাজ। গবেষকরা ওই এলাকার ভূখণ্ডের বিস্তারিত মডেল তৈরি করতে ড্রোন ব্যবহার করেন। মাটির নিচের গঠন শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হয় আধুনিক রাডার ব্যবস্থা। বিভিন্ন স্থান থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি কোর ড্রিলিংও করা হয়। এসব নমুনা ইতোমধ্যে পরীক্ষার জন্য গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। নূহ (আ.)-এর নৌকার সঙ্গে এই কাঠামোর সম্পর্কের দাবি অবশ্য নতুন নয়। ১৯৫৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তুরস্কের ম্যাপিং ইঞ্জিনিয়ার ইলহান দুরুপিনার পূর্ব আনাতোলিয়া অঞ্চলে বিমান থেকে জরিপ চালানোর সময় প্রথম কাঠামোটির সন্ধান পান। এরপর থেকেই এটি নিয়ে তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের গবেষকদের আগ্রহ তৈরি হয়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে নূহ (আ.)-এর নৌকার অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়ার দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের দাবির বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যান্ড্রু জোনস। তিনি বলেন, গবেষণার কাজ এখনো শেষ হয়নি। রাডার থেকে পাওয়া তথ্য, মাটির নমুনা ও কোর ড্রিলিংয়ের ফলাফল একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। আগামী বছরের এপ্রিল বা মে মাসে এ গবেষণার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে পারে। অর্থাৎ, এখন পর্যন্ত গবেষকদের হাতে রয়েছে কিছু অস্বাভাবিক ভূগর্ভস্থ গঠন ও মাটির নমুনা কিন্তু এগুলো নূহ (আ.)-এর নৌকার ধ্বংসাবশেষ, এমন বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। আরটিভি/এসকে
তুরস্কে নূহের নৌকার খোঁজে কী পেলেন গবেষকরা
সৌদিতে সেনা পাঠাচ্ছে পাকিস্তান, তুরস্ক
নতুন স্বাক্ষরিত ত্রিদেশীয় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সোমবার (৫ অক্টোবর) তিন দেশের পক্ষ থেকে যৌথভাবে ঘোষণা করা হয়।
সৌদিতে সেনা পাঠাচ্ছে পাকিস্তান, তুরস্ক
কুয়েতে ৪১৫ জনের নাগরিকত্ব বাতিল
কুয়েতের সরকারি গেজেট কুয়েত আল ইয়ৌমে প্রকাশিত ছয়টি অধ্যাদেশের মাধ্যমে ৪১৫ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে।
কুয়েতে ৪১৫ জনের নাগরিকত্ব বাতিল
আরও পড়ুন
ইরান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৮১ সামরিক বিমান-ড্রোন-হেলিকপ্টার হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ছয় টয়লেট অচল, মাঝ আকাশ থেকে জরুরি অবতরণ করল যাত্রীবাহী বিমান
সুগার ফ্রি পানীয়তে কিটক্যাটের সমান চিনি, স্টারবাকসের বিরুদ্ধে মামলা
নিউইয়র্কে বারান্দা থেকে ধাক্কায় মায়ের মৃত্যু, গুরুতর আহত মেয়ে