
আরব বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পাঠ প্রতিযোগিতা ‘আরব রিডিং চ্যালেঞ্জ’-এর দশম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন মিসরের ১১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মায়ার ওসমান। বিজয়ীর নাম ঘোষণার পরপরই মঞ্চে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তার এই আবেগঘন মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দশম আসরের বিজয়ী হিসেবে মায়ারের নাম ঘোষণা করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। তিনি মায়ারের হাতে বিজয়ীর সম্মাননা তুলে দেন।
প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ৬০টিরও বেশি বই পড়েছে মায়ার। প্রথম স্থান অর্জনের জন্য সে পেয়েছে ৫ লাখ দিরহাম পুরস্কার। প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়েছে ফিলিস্তিনের ১৬ বছর বয়সী গাজাল তিম এবং তৃতীয় হয়েছে সৌদি আরবের ১১ বছর বয়সী রিয়ান আল জাকরি।
প্রতিযোগিতার আয়োজকদের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের নাম বিজয়ী হিসেবে ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই মঞ্চে সিজদা করে মায়ার। মুহূর্তটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
মিসরের উত্তরাঞ্চলীয় কাফর আল-শেখ প্রদেশের বাসিন্দা মায়ার দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত বাছাইপর্বে বিজয়ী হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।
বিজয়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মায়ার বলে, পুরস্কারের অর্থ দিয়ে নিজের স্কুলে একটি ছোট পাঠাগার গড়ে তুলতে চায় সে। যাতে বই পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা সেখানে এসে বই পড়ার সুযোগ পায়।
মায়ার বলে, ‘আমি পিরামিড ও সভ্যতার দেশ থেকে এসেছি। আমি মিসরের মেয়ে, আরব বিশ্বের হৃদয়ের সন্তান। আমি ৭০টিরও বেশি বই পড়েছি এবং পড়া চালিয়ে যাব।’
পাঠাভ্যাস তার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে উল্লেখ করে মায়ার জানায়, বই তাকে নতুন চিন্তা ও ধারণার সঙ্গে পরিচিত করেছে এবং ব্যক্তিত্ব গঠনে সহায়তা করেছে। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং পড়াশোনা ও বই পড়ার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেও শিখেছে সে।
মায়ারের মতে, প্রকৃত পাঠক শুধু বই পড়েন না; বরং বই থেকে অর্জিত জ্ঞান নিজের জীবনে প্রয়োগ করেন এবং অন্যদের জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়ামের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিযোগিতার দশম আসরে ৬০টি দেশের ৪ কোটি ২৮৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। এ ছাড়া ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ১ লাখ ৬১ হাজার ৫০৭ জন শিক্ষক ও তত্ত্বাবধায়ক এ আয়োজনে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মধ্যে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ৭৪ হাজার ৬২ জন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দশম আসরে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আগের আসরের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৫ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে প্রতিযোগিতাটির দশটি আসরে ২০ কোটি ৩০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, আরবি ভাষায় পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের অনুধাবন, বিশ্লেষণ ও প্রকাশের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০১৫ সালে ‘আরব রিডিং চ্যালেঞ্জ’ চালু করা হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের ৫০টি বই পড়ার পাশাপাশি সেগুলোর সারসংক্ষেপ তৈরি করতে হয়। এরপর বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধাপের বাছাই পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান তারা।
তথ্যসূত্র : দ্য ন্যাশনাল
আরটিভি/এসকে


