
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক আসন পেতে পারে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো। বুথফেরত জরিপের প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, দেশটির পার্লামেন্টে ১২০ আসনের মধ্যে যৌথভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে যৌথ তালিকা ও রা’আম দল। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিকদের ভোটদানের হারও কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবারের (২৭ অক্টোবর) নির্বাচনে এক-তৃতীয়াংশের বেশি ভোট গণনার পর যৌথ তালিকা ৯ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে বলে প্রাথমিক হিসাবে দেখা গেছে। তবে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ নেতৃত্বাধীন জোটের চেয়ে পিছিয়ে ছিল।
ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের মধ্যে ভোটদানের হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ১৯৯৯ সালের পর এটি সর্বোচ্চ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটিতে সামগ্রিক ভোটদানের হারও ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ।
রা’আম দলের নেতা মানসুর আব্বাস আশা প্রকাশ করেছেন, চূড়ান্ত ফলাফলে নেতানিয়াহুবিরোধী জোট প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে পারবে। তবে প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, কোনো পক্ষেরই সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত আসন নিশ্চিত হয়নি।
ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত আলোন পিনকাস বলেছেন, আরব দলগুলোকে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন বিরোধী জোটের জন্য কঠিন হতে পারে। নির্বাচনের আগে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিরোধী পক্ষের কয়েকটি দল। ফলে সরকার গঠনের আলোচনায় আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে, আরব নাগরিকদের ভোটদানের হার বেড়ে যাওয়ায় নেতানিয়াহু ও তার জোটের নেতারা সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান। আরব রাজনীতিকেরা এ প্রচারকে বর্ণবাদী ও উসকানিমূলক বলে সমালোচনা করেন।
ইসরায়েলের মোট প্রায় এক কোটি জনসংখ্যার ২১ শতাংশ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নাগরিক। তাদের ভোটদানের এই উচ্চ হারকে এবারের নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
আরটিভি/জেএমএ



