
কোনো শুটিং স্পটে যাওয়া লাগবে না, রোদে পুড়ে গায়ের রং তামাটে করা লাগবে না, পরিচালকের বকা খাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। আপনার চেহারা ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে বানানো চরিত্র করবে অভিনয়। আর তাতেই আপনি পেয়ে যাবেন মোটা অঙ্কের অর্থ। নিজেদের চেহারা বা মুখাবয়বের লাইসেন্স দিয়ে এই নতুন আয়ের পথ তৈরি করেছেন চীনের সাধারণ মানুষ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনে সাধারণ মানুষ এখন আক্ষরিক অর্থেই ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের কাছে নিজেদের চেহারা ‘ভাড়া’ দিচ্ছেন। সেই মুখাবয়ব ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে এআই অভিনেতা-অভিনেত্রী, যাদের বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল কনটেন্টে কাজে লাগানো হচ্ছে।
জানা গেছে, ছবি বা ভিডিও ব্যবহারের ধরণ অনুযায়ী এর মূল্য ৫০ ইউয়ান (প্রায় ৭ ডলার) থেকে শুরু করে ১ লাখ ইউয়ান বা প্রায় ১৫ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ১৮ লাখ ৪৬ হাজার টাকা) পর্যন্ত হতে পারে। এই নতুন ব্যবসায়িক মডেলের মাধ্যমে মানুষ ক্যামেরার সামনে সরাসরি উপস্থিত না হয়েও নিজেদের চেহারা বা অবয়ব ‘ভাড়া’ দিতে পারছেন।
বিষয়টি জানার পর হুয়াং নামের ২৭ বছর বয়সী এক ব্যাংক কর্মকর্তা ভাবলেন, তিনিও চেহারা ভাড়া দিয়ে বাড়তি কিছু অর্থ আয় করবেন। যে–ই ভাবা সে–ই কাজ। অনলাইনে নিজের চেহারার স্বত্ব বিক্রির বিজ্ঞাপন দিতেই মাত্র তিন দিনে তার ডিজিটাল চেহারা সাতবার বিক্রি হয়ে গেল। কোনো খাটুনি ছাড়াই পকেটে চলে এল প্রায় ২ হাজার ৬০০ ইউয়ান বা প্রায় ৩৭০ মার্কিন ডলার।
চীনের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এখন নিজেদের চেহারা ভাড়া দিতে আগ্রহী ব্যক্তিদের সঙ্গে এআই কনটেন্ট নির্মাতাদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কার চেহারা কী ধরনের কাজে ব্যবহার করা হবে এবং চুক্তির শর্ত কী, তার ওপর নির্ভর করছে পারিশ্রমিকের পরিমাণ।
চীনে এখন এআই দিয়ে বানানো স্বল্পদৈর্ঘ্য নাটকের বাজার দ্রুত বড় হচ্ছে। সেখানে প্রতিটি দৃশ্যের জন্য চড়া পারিশ্রমিকে অভিনেতা নেওয়ার চেয়ে এআইয়ের মাধ্যমে ডিজিটাল চরিত্র তৈরি করা অনেক সাশ্রয়ী।
এআই প্রযুক্তির সাহায্যে স্টুডিওতে না গিয়েই ওই চরিত্রের পোশাক, পরিবেশ, অঙ্গভঙ্গি ও সংলাপ মুহূর্তেই বদলে ফেলা যায়।
আরটিভি/এসআর


