ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

ভাঙারি কুড়িয়ে চলা বৃদ্ধের ব্যাংকে ৭৭ লাখ টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
কাল্পনিক ছবি

২১ বছর ধরে ভাঙারি কুড়িয়ে জীবন চালিয়েছেন চীনের ৭১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। অর্থকষ্ট, ঋণ আর স্বজনদের সঙ্গে দূরত্ব সব মিলিয়ে একসময় নিজের শহর ছেড়ে অন্য শহরে চলে যান তিনি। সেখানে পরিত্যক্ত ভবনে দিন কাটলেও শেষ বয়সে এসে জানতে পারেন, তার ব্যাংক হিসাবে জমেছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।

ওই বৃদ্ধের নাম রু। তার বাড়ি চীনের হুনান প্রদেশের জুঝো শহরে। কারিগরি স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দোকানে চাকরি নেন তিনি। সেখানে প্রায় ৩০ বছর কাজ করার পর ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে ছাঁটাই হন। সে সময় ক্ষতিপূরণ হিসেবে কিছু অর্থ পেয়েছিলেন রু।

তবে সেই অর্থ বেশিদিন ধরে রাখতে পারেননি তিনি। নিজের কিছু অভ্যাসের কারণে দ্রুতই ক্ষতিপূরণের টাকা খরচ হয়ে যায়। পরে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গেও তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

এরপর জীবিকার তাগিদে ভাঙারি কুড়ানো শুরু করেন রু। একপর্যায়ে নিজের শহর ছেড়ে হুনান প্রদেশের সাংদে শহরে চলে যান। সেখানে দীর্ঘদিন ভাঙারি সংগ্রহ করেই জীবন কাটান তিনি।

২০২৪ সালে সাংদে শহরের একটি সামাজিক সহায়তা কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা একটি পরিত্যক্ত ভবনে রুর সন্ধান পান। পরে তাকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে আত্মসম্মানবোধের কারণে শুরুতে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন রু। পরে অবশ্য আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে রাজি হন এবং সেখানে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য জানান।

সম্প্রতি রুর জীবনে আসে অবিশ্বাস্য এক খবর। সাংদে ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসের শেষ দিকে তিনি তার পেনশন অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত একটি ব্যাংক কার্ড পান। ওই হিসাবে জমা রয়েছে ৪ লাখ ২৪ হাজার ২০৪ ইউয়ান। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৭৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকার বেশি।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, প্রায় এক দশক ধরে রু এই পেনশন পেয়ে আসছিলেন বকিন্তু এ বিষয়ে তার কোনো ধারণাই ছিল না।

ছাঁটাই হওয়ার পর রু পেনশন বিমার কিস্তি পরিশোধ করতে পারেননি। ফলে তিনি ধারণা করেছিলেন, আর কোনো পেনশন পাওয়ার সুযোগ নেই। এ ছাড়া তার কোনো মোবাইল ফোনও ছিল না। তাই পেনশন-সংক্রান্ত নতুন নিয়ম বা নিজের অ্যাকাউন্টে টাকা জমার বিষয়েও কোনো তথ্য পাননি তিনি।

দীর্ঘদিন ভাঙারি কুড়িয়ে জীবন কাটানো রুর জন্য ব্যাংক হিসাবে ৭৭ লাখের বেশি টাকা পাওয়ার খবরটি তাই অনেকটা ভাগ্যের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতোই।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মায়ের পেটে থাকা শিশুর অস্ত্রোপচার, চিকিৎসকদের অসাধারণ সাফল্য
মায়ের পেট থেকে পৃথিবীর আলো দেখার আগেই অস্ত্রোপচার করে এক অনাগত শিশুর জীবন বাঁচিয়েছেন চীন ও হংকংয়ের চিকিৎসকরা। গর্ভে থাকা শিশুটির বুকে দ্রুত বেড়ে ওঠা টিউমারে সফলভাবে মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশন করেছেন তারা। শেনজেনের বাওয়ান ওমেনস অ্যান্ড চিলড্রেনস হসপিটাল এবং চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের চিকিৎসকদের একটি দল এ জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন চলতি বছরের ২০ আগস্ট ‘আলট্রাসাউন্ড ইন অবস্টেট্রিকস অ্যান্ড গাইনিকোলজি’ জার্নালে প্রকাশিত হয়। চিকিৎসকদের হাতে অস্ত্রোপচারের সময় ছিলেন ৪০ বছর বয়সী এক নারী। তিনি তখন ২২ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। পরীক্ষায় তার গর্ভে থাকা শিশুর মাইক্রোসিস্টিক কনজেনিটাল পালমোনারি এয়ারওয়ে ম্যালফরমেশন (সিপিএএম) শনাক্ত হয়। এটি একটি বিরল জন্মগত সমস্যা। এতে ভ্রূণের ফুসফুসের স্বাভাবিক টিস্যুর পরিবর্তে অসংখ্য ছোট ছোট সিস্ট বা তরলপূর্ণ থলি তৈরি হয়। দ্রুত বাড়তে থাকলে এ ধরনের টিউমার ভ্রূণের হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে হার্ট ফেইলিওর এবং শরীরে অতিরিক্ত তরল জমার মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে। স্ক্যানে দেখা যায়, শিশুটির বুকের ডান পাশের প্রায় পুরো অংশজুড়ে ৫ সেন্টিমিটার আকারের একটি টিউমার রয়েছে। টিউমারটির চাপে শিশুটির হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। একই সঙ্গে শিশুটির পেটে বিপজ্জনক মাত্রায় তরল জমে অ্যাসাইটিস দেখা দেয়। সাধারণত এ ধরনের ক্ষেত্রে বড় তরলপূর্ণ সিস্ট খালি করে দেওয়া কিংবা টিউমারের প্রধান রক্ত সরবরাহ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। তবে এই শিশুর টিউমারটি ছিল অসংখ্য ক্ষুদ্র সিস্টে গঠিত এবং এর কেন্দ্রে কোনো বড় রক্তনালী ছিল না। ফলে প্রচলিত পদ্ধতি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা ছিল কম। এ অবস্থায় চিকিৎসকরা বেছে নেন অভিনব একটি পদ্ধতি। হাই-ডেফিনিশন ও রিয়েল-টাইম আল্ট্রাসাউন্ডের সাহায্যে টিউমারে পৌঁছানোর নিরাপদ পথ নির্ধারণ করা হয়। এরপর মায়ের পেট, জরায়ুর দেয়াল এবং ভ্রূণের বুকের দেয়াল ভেদ করে একটি সূক্ষ্ম অ্যাবলেশন নিডল সরাসরি টিউমারের কেন্দ্রে প্রবেশ করানো হয়। এরপর মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তির মাধ্যমে টিউমারের ভেতরের পানির অণুগুলোকে দ্রুত উত্তপ্ত করে টিস্যু ধ্বংস করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে সময় লাগে মাত্র দুই মিনিট। অস্ত্রোপচারের পুরো সময় আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে টিউমারে ছড়িয়ে পড়া তাপের মাত্রা ও পরিসর পর্যবেক্ষণ করেন চিকিৎসকরা, যাতে অনাগত শিশুর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। অস্ত্রোপচারের মাত্র তিন দিন পরই এর সুফল দেখা যায়। টিউমারের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে এবং নতুন করে তরল জমাও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ৩৭ সপ্তাহ পর্যন্ত সফলভাবে গর্ভধারণের পর ওই নারী সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল ২ দশমিক ৯ কেজি। নবজাতকের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নের অ্যাপগার স্কেলে শিশুটি পায় পূর্ণ ১০ নম্বর। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জন্মের চার মাস পরও শিশুটির শরীরে টিউমার পুনরায় বেড়ে ওঠার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। চিকিৎসকদের এই সাফল্য গর্ভে থাকা শিশুর জটিল জন্মগত রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট আরটিভি/এসকে
মায়ের পেটে থাকা শিশুর অস্ত্রোপচার, চিকিৎসকদের অসাধারণ সাফল্য
‘কিডনি আবার গজাবে’ দালালের প্রতারণায় যে গ্রাম হয়ে ওঠে কিডনি ভ্যালি
দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে কিডনি বিক্রির ফাঁদে ফেলা হয়েছিল নেপালের একটি গ্রামের অসংখ্য মানুষকে। দালালদের প্রলোভন আর মিথ্যা আশ্বাসে একসময় গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবারেই কেউ না কেউ কিডনি বিক্রি করেন।
‘কিডনি আবার গজাবে’ দালালের প্রতারণায় যে গ্রাম হয়ে ওঠে কিডনি ভ্যালি
ইন্দোনেশিয়ায় ২ সুমাত্রান গণ্ডারের গর্ভধারণ, মহাবিপন্ন প্রজাতি রক্ষায় আশার আলো
বিশ্বের সবচেয়ে বিরল ও বিপন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণীদের একটি এই প্রজাতিকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে এ ঘটনা নতুন আশার সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ইন্দোনেশিয়ায় ২ সুমাত্রান গণ্ডারের গর্ভধারণ, মহাবিপন্ন প্রজাতি রক্ষায় আশার আলো
নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়ের ৩৭ দিন পর পর্যটককে জীবিত উদ্ধার
নেপালে ভয়াবহ বন্যা বিপর্যয়ের ৩৭ দিন পর এক মালয়েশিয়ান পর্যটককে জীবিতে অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গেছে, হিমালয়ের লাংটাং লিরুং পর্বতের হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট বন্যায় নিখোঁজ হওয়া ওই মালয়েশিয়ান পর্যটক নিরাপদে দেশে ফিরে গেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। খবর দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের।
নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়ের ৩৭ দিন পর পর্যটককে জীবিত উদ্ধার
সরকারি কর্মীদের জন্য ডেটিং অ্যাপ চালু করল সিঙ্গাপুর
দিন দিন জন্মহার কমে যাওয়ায় জনসংখ্যা সংকটে সিঙ্গাপুর। চলতি বছর রেকর্ড পরিমাণ কম জন্মহারের কারণে সরকারি কর্মীদের জন্য ডেটিং অ্যাপ চালু করেছে দেশটি। 
সরকারি কর্মীদের জন্য ডেটিং অ্যাপ চালু করল সিঙ্গাপুর