ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

ফ্রান্সে হ্যাকারদের দখলে শত শত সুপারশপের ফ্রিজ, নষ্ট কোটি টাকার খাবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
ফ্রান্সের সুপারশপ।  ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সের শত শত সুপারশপে সাইবার হামলা চালিয়ে শীতলীকরণ যন্ত্রের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে হ্যাকাররা। এতে ফ্রিজ ও হিমায়কের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যায়। নষ্ট হয়েছে বিপুল পরিমাণ তাজা ও হিমায়িত খাবার। কয়েকটি দোকানে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে। দেশটির বড় বড় খাদ্যপণ্যের বিপণিবিতানে এমন হামলাকে নজিরবিহীন বলে বর্ণনা করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ফ্রান্সের একাধিক বড় বিপণিবিতান কর্তৃপক্ষ সাইবার হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে দেশটির জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা। একই সঙ্গে ইউরোপের অন্য দেশগুলোতেও এমন হামলা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের ইন্টারমার্শে ও এর সহযোগী ব্র্যান্ড নেটোর অন্তত ৩০০টি দোকান এ হামলার শিকার হয়েছে। কো-অপারেটিভ ইউর শতাধিক বিপণিবিতানেও প্রভাব পড়েছে।

এছাড়া ক্যারেফুরের ৮০টি সুপারশপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোনোপ্রির প্রায় ৪৯০টি দোকানের মধ্যে ৫ শতাংশের মতো এ হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ই লেক্লেরকের কয়েকটি দোকানেও হামলা চালানো হয়েছে।

প্যারিসের সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর জানিয়েছে, ফ্রান্সের একাধিক বড় খাদ্যপণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের ইন্টারনেট-সংযুক্ত শীতলীকরণ যন্ত্রে এ হামলা হয়েছে। এতে খাবার নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হ্যাকাররা দূর থেকে শীতলীকরণ ব্যবস্থার বরফ গলানোর প্রক্রিয়া চালু করে দেয়। এতে বিভিন্ন দোকানের ফ্রিজ ও হিমায়কের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। ফলে তাজা খাবার ও হিমায়িত পণ্য নষ্ট হয়ে যায়।

সাধারণত বড় সুপারশপে ফ্রিজ ও হিমায়কের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হয় একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে। ইন্টারনেটের সাহায্যে এসব যন্ত্রের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় প্রবেশ করা সম্ভব হওয়ায় দূর থেকেই তাপমাত্রা পরিবর্তন করতে পারেন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা। তবে এ সুবিধাই সাইবার হামলার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ইন্টারমার্শের প্রধান নির্বাহী থিয়েরি কোটিয়ার্দ ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএম টিভিকে জানান, দেশজুড়ে এক দিনেই কয়েক কোটি ইউরোর ক্ষতি হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোকে তাজা ও হিমায়িত খাবারের সব পণ্য ফেলে দিতে হতে পারে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

কো-অপারেটিভ ইউর প্রধান নির্বাহী দমিনিক শেলশে বলেন, রোববার (১১ অক্টোবর) রাত থেকেই তাদের শীতলীকরণ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে। তাজা খাবার সংরক্ষণ ও মানুষের খাদ্য সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতিকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো গুরুতর ও অগ্রহণযোগ্য।

ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু দেশটির জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাকে হামলার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান ড্যানফসের তৈরি একটি সফটওয়্যারের দুর্বলতা শনাক্ত করা হয়েছে।

ড্যানফস জানিয়েছে, ফ্রান্সে তাদের শীতলীকরণ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের কিছু যন্ত্রে সমস্যা হওয়ার বিষয়টি তারা জানে। ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রগুলোতে সফটওয়্যারের পুরোনো সংস্করণ ব্যবহার করা হচ্ছিল। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরেই গ্রাহকদের সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখা এবং পুরোনো যন্ত্র বদলে ফেলার পরামর্শ দিয়ে আসছে।

গত ৯ আগস্ট সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্ল্যারোটি ড্যানফসের কয়েকটি ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে একটি গবেষণা প্রকাশ করে। ওই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের ধাপ এড়িয়ে অননুমোদিতভাবে ব্যবস্থায় প্রবেশ করা সম্ভব হতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছিল।

তবে এই দুর্বলতাই হামলার একমাত্র কারণ কি না, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

সাইবার হুমকি বিশ্লেষক ফেলিক্স এইমের দাবি, স্পেন, পর্তুগাল, পোল্যান্ড, জার্মানি ও বেলজিয়ামেও এ ধরনের হামলার প্রভাব পড়েছে। ফ্রান্সের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ড্যানফসের কাছে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কিছু দোকানে ইতোমধ্যে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ফরাসি কর্তৃপক্ষ ইউরোপের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে ফ্রান্সের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও ঝুঁকিতে রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক স্টিভেন লাশাঁসের মতে, এমন হামলা একেবারে নতুন নয়, তবে এত বড় পরিসরে ঘটনার নজির বিরল। ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত কোনো যন্ত্রে নিরাপত্তার দুর্বলতা থাকলে হামলাকারীরা দূর থেকে সেটিতে প্রবেশ করে তার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

তিনি এ ঘটনাকে বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তার জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার আশঙ্কা, যথাযথ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা আরও বাড়তে পারে।

সুপারশপে খাবার নষ্ট করে আর্থিক ক্ষতি ঘটানোই শেষ কথা নয়। একই ধরনের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা কিংবা হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতিতে হামলা চালানো হলে ক্ষতির মাত্রা আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাই ইন্টারনেট-সংযুক্ত যন্ত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন শুধু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নয়, জননিরাপত্তারও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।


সূত্র: আল জাজিরা

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সুইজারল্যান্ডের রাইন নদী থেকে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, বাংলাদেশি রুমমেট গ্রেপ্তার
সুইজারল্যান্ডের আর্গাউ ক্যান্টনের স্টাইন এলাকায় রাইন নদীর তীর থেকে এক ব্যক্তির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। এ ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সি এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি নিহতের সঙ্গে একই কক্ষে বসবাস করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি বুরুন্ডির নাগরিক। গত ২৪ অক্টোবর তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পরিচিতজনেরা পুলিশকে অবহিত করেন। পরদিন ২৫ অক্টোবর রাইন নদীর তীর থেকে একজনের লাশের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলটি তাদের বসবাসের আশ্রয়কেন্দ্রের কাছেই অবস্থিত। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেহের বিভিন্ন অংশ কেটে আলাদা করা হয়েছিল। পরে সেগুলো আবর্জনার ব্যাগে ভরে রাইন নদীতে এবং নদীতীরবর্তী এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়। পরে ফরেনসিক মেডিসিন ইনস্টিটিউট পরীক্ষার মাধ্যমে লাশের পরিচয় নিশ্চিত করে। এ ঘটনায় তদন্তে নামে আর্গাউ ক্যান্টন পুলিশ। আশ্রয়কেন্দ্রের কয়েকজন বাসিন্দার আচরণও তদন্তকারীদের সন্দেহের জন্ম দেয়। পরে বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় আশ্রয়কেন্দ্র ও লাশ উদ্ধারের আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তে পাওয়া আলামতের ভিত্তিতে ৪৩ বছর বয়সি বাংলাদেশি এক নাগরিকের বিরুদ্ধে সন্দেহ জোরালো হয়। তিনি নিহত ব্যক্তির সঙ্গে একই কক্ষে বসবাস করতেন। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রাইনফেলডেন-লাউফেনবুর্গ জেলা অ্যাটর্নি কার্যালয় হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা, সময়ক্রম ও উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। এ ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় কোনো উদ্দেশ্য জড়িত থাকার প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। জাতীয়রাজনীতি তদন্ত চলাকালে সন্দেহভাজন ব্যক্তির মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যার কিছু লক্ষণ দেখা গেছে। তবে এসব সমস্যার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সূত্র: ব্লু নিউজ আরটিভি/এসআর
সুইজারল্যান্ডের রাইন নদী থেকে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, বাংলাদেশি রুমমেট গ্রেপ্তার
এবার জেন-জি বিক্ষোভে উত্তাল জার্মানি, পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপ
ফ্রান্সের পর এবার শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবায় বাজেট সংকোচন, জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বিরুদ্ধে জার্মানির বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার তরুণ।  শনিবার (৩১ অক্টোবর) ‘জেন-জি রেগেল্ট’ সংগঠনের ডাকে বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখসহ প্রায় ৩৪টি শহরে এই কর্মসূচি পালিত হয়।  ইউরোপজুড়ে সম্প্রতি তরুণদের নেতৃত্বে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় জার্মানিতে এই বিক্ষোভ হলো। তবে জার্মানির আর্থিক কেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্টে বিক্ষোভের একপর্যায়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে এবং টুপি পরিহিত দাঙ্গাকারীরা কয়েকটি দোকানে লুটপাট চালায়।  ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, শহরের কেন্দ্রস্থলে বেশ কয়েকটি দোকানের জানালা ভাঙচুর করা হয়েছে এবং জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের লক্ষ্য করে মলোটোভ ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাধারণ মানুষকে শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া হামবুর্গ শহরেও কিছু জায়গায় রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে আগুন জ্বালানোর ঘটনা ঘটেছে। আয়োজক সংগঠনের মুখপাত্র লিনা ফ্রিডরিচ বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ বা বলপ্রয়োগের জন্য নয়, বরং শান্তি ও স্বাধীনতার পক্ষে লড়াই করতে এখানে এসেছি। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নত সহায়তা এবং সামরিক সেবার বিরোধিতাই আমাদের প্রধান দাবি।’ আয়োজকরা ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষের সমাগমের আশা করলেও পুলিশ জানিয়েছে, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ ও বার্লিনে সবমিলিয়ে প্রায় ১৮ হাজার বিক্ষোভকারী অংশ নেন। এদিকে সম্ভাব্য সহিংসতা ও ভাঙচুরের আশঙ্কায় বার্লিনের বিলাসবহুল কুরফুর্স্টেনডাম শপিং বুলেভার্ডসহ বিভিন্ন এলাকার অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের জানালা ঢেকে দেয় এবং দোকানপাট আগেভাগে বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করে। জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ‘চরমপন্থি’ গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে এই আন্দোলনকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে ফ্রান্সের বিক্ষোভের চিত্র স্মরণ করে হেস রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পিসেখ জানান, ফ্রান্সের মতো ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি জার্মানিতে মডেল হতে পারে না। বর্তমান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেঞ্জের সরকারের বিরুদ্ধে তরুণদের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক বোঝা চাপানোর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।  আরটিভি/এসআর
এবার জেন-জি বিক্ষোভে উত্তাল জার্মানি, পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপ
আবারও বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স
ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকটের প্রতিবাদে আবারও রাজপথে নেমেছেন লাখো মানুষ। শনিবার দেশটির বিভিন্ন শহরে তৃতীয় সপ্তাহের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় রাজধানী প্যারিস ও লিওনে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর জোটের দাবি, শনিবারের বিক্ষোভে দেশজুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে শুধু প্যারিসেই ছিলেন দুই লাখ। তবে ফ্রান্সের কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, সারা দেশে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল তিন লাখ ২০ হাজার। রাজধানী প্যারিসে অংশ নেন প্রায় ৭০ হাজার মানুষ। প্যারিসে শুরুতে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ চললেও শনিবার মূল কর্মসূচির সমাপ্তিস্থলের কাছাকাছি গিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় সড়কের বিভিন্ন স্থানে ময়লার পাত্র ও রাস্তার আসবাবে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। শহরের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। বিক্ষোভের কারণে দেশটির গণপরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। প্যারিসের গণপরিবহন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আরএটিপি তাদের ওয়েবসাইটে জানায়, শনিবার শহরের ৪০টিরও বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। আলজাজিরার প্রতিবেদন সুত্রে জানা গেছে, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশ ব্যাপক কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। পরিস্থিতি এতটাই অসহনীয় হয়ে ওঠে যে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় তার সংবাদকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়। লাউডস্পিকারে ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভকারীদের রাস্তা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ পুলিশ। অন্যথায় আরও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এ সময় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসাকর্মীরা সরিয়ে নেন। অন্যদিকে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের সামনে হাত তুলে নিজেদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান জানান দেন। প্যারিসের উপকণ্ঠে কালো পোশাক ও মুখোশ পরা কয়েক ডজন ব্যক্তি হাতুড়ি দিয়ে ফুটপাতের পাথর তুলে পুলিশের দিকে ছুড়ে মারেন। নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে অন্তত একটি অগ্নিসংযোগকারী বস্তু নিক্ষেপ করা হয়। জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবারের বিক্ষোভে দেশজুড়ে এ পর্যন্ত অন্তত ২৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরটিভি/টিআর
আবারও বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স
‘সেক্স মন্ত্রণালয়’ গঠন নিয়ে আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে তুমুল মারামারি
‘সেক্স মন্ত্রণালয়’ গঠন নিয়ে আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে তুমুল মারামারি
‘সেক্স মন্ত্রণালয়’ গঠন নিয়ে আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে তুমুল মারামারি
স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬৮, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক
স্পেনের মধ্যাঞ্চলে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬৮, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক