
২০২২ সালে নর্ড স্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইউক্রেনের সাবেক এক সেনা কর্মকর্তার বিচার শুরু হয়েছে জার্মানিতে। গোপন অভিযানের মাধ্যমে পাইপলাইন ধ্বংসের পরিকল্পনা ও তা পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ৫০ বছর বয়সী ওই কর্মকর্তা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) জার্মানির হামবুর্গের উচ্চ আঞ্চলিক আদালতে এ বিচার শুরু হয়। দেশটির গোপনীয়তা আইন অনুযায়ী, অভিযুক্তকে শুধু সেরহি কে নামে শনাক্ত করা হয়েছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিচার চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে চলা তদন্তের পর এই প্রথম প্রকাশ্য শুনানিতে মামলার তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেরহি কে ইউক্রেনের কয়েকজন এজেন্টের একটি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ওই দলে ডুবুরি ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞও ছিলেন। আধুনিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংসের অন্যতম বড় অভিযান হিসেবে বিবেচিত এ ঘটনার পরিকল্পনায় তার ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেছেন জার্মানির আইনজীবী। এ মামলায় এখন পর্যন্ত তিনিই একমাত্র বিচারাধীন আসামি।
২০২৫ সালের আগস্টে ইতালিতে গ্রেপ্তার হন সেরহি কে। ওই বছরের নভেম্বরে তাকে জার্মানির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জার্মানির আইনজীবীদের অভিযোগ, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর অন্য সদস্যদের সঙ্গে মিলে অজ্ঞাত ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্থার পক্ষে তিনি অভিযানটির পরিকল্পনা করেছিলেন। বিস্ফোরণের প্রায় তিন সপ্তাহ আগে জাল ইউক্রেনীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে পোল্যান্ড হয়ে জার্মানিতে প্রবেশ করেছিলেন তিনি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আইনজীবীদের দাবি, দলটি জার্মানির উত্তরের শহর রোস্টক থেকে ভাড়া করা একটি পালতোলা নৌকায় করে ডেনমার্কের বর্নহোম দ্বীপের কাছাকাছি এলাকায় যায়। পরে সমুদ্রের তলদেশে থাকা গ্যাস পাইপলাইনে সময়নির্ধারিত সামরিক মানের বিস্ফোরক স্থাপন করা হয়।
জার্মানির আইনজীবীদের মতে, এভাবে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সুইডেনের ভূকম্পন বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি বিস্ফোরণের সংকেত শনাক্ত করেন। বিস্ফোরণগুলোর মধ্যে প্রায় ১৭ ঘণ্টার ব্যবধান ছিল।
এ ঘটনায় কংক্রিটের আবরণযুক্ত চারটি ইস্পাত পাইপলাইনের মধ্যে তিনটি ফেটে যায়। বিপুল পরিমাণ মিথেন গ্যাস বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে।
নর্ড স্ট্রিম-১ পাইপলাইনের মাধ্যমে জার্মানির মোট প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির প্রায় অর্ধেক সরবরাহ করা হতো। নর্ড স্ট্রিম-২ পাইপলাইন নির্মিত হলেও কখনো চালু হয়নি। রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর কিছুদিন আগে বার্লিন এটির অনুমোদন বাতিল করে।
রাশিয়া নিজেদের পাইপলাইন নিজেরাই ধ্বংস করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার জবাবে মস্কো এর আগেই গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছিল। অন্যদিকে, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউক্রেন সরকার।
রাশিয়া সোমবার (১২ অক্টোবর) জানিয়েছে, তারা এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি এবং অভিযানের নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করে ন্যায়সংগত রায় প্রত্যাশা করছে।
এ ঘটনায় আরেক সন্দেহভাজন ভ্লাদিমির জেডকেও খুঁজছে জার্মানির কর্তৃপক্ষ। আইনজীবীদের দাবি, প্রশিক্ষিত এই ডুবুরি পাইপলাইনে বিস্ফোরক স্থাপনকারী দলের সদস্য ছিলেন। আগস্টে ক্রোয়েশিয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত মাসে একটি ক্রোয়েশীয় আদালত তাকে জার্মানির কাছে হস্তান্তরের অনুমোদন দেয়।
নর্ড স্ট্রিম বিস্ফোরণের তদন্ত ও বিচার নিয়ে জার্মানি ও ইউক্রেনের সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। তবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান সমর্থক হিসেবে এখনো পাশে রয়েছে জার্মানি। এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
আরটিভি/জেএমএ


