
ভারতের কলকাতায় নিউ মার্কেট এলাকায় মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল ‘শিখা ইন’-এ আগুন লেগে বাংলাদেশিসহ ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় হোটেলটির ইজারাদার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে সেখানকার গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়া, একই ঘটনায় আরও দুইজনকে আটক করা হলেও তাদের নাম-পরিচয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে কলকাতার এন্টালি মার্কেট এলাকা থেকে আবু জাফরকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাকে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোটেল ‘শিখা ইন’ আবু জাফরের নামেই ইজারা নেওয়া হয়েছিল। তিনি জোড়াসাঁকোর বাসিন্দা। তবে, এখন পর্যন্ত হোটেল মালিক বীরেশ্বর মিত্রের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
আনন্দবাজার জানিয়েছে, আবু জাফর ছাড়াও এ ঘটনায় আরও দুই জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের নাম-পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে সূত্রের খবর, আটক দুই জনের মধ্যে কাছের হোটেল ‘যাপন’-এর একজন কর্মী রয়েছেন। এই হোটেলটির মালিকও বীরেশ্বর মিত্র।
অগ্নিকাণ্ডের পর মির্জা গালিব স্ট্রিটের ৯টি হোটেল ও ৪টি রেস্তোরাঁকে নিরাপত্তাবিধি না মানার অভিযোগে শো-কজ করেছে দমকল অফিস। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদেরকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মির্জা গালিব স্ট্রিটের পাঁচতলা একটি ভবনে একাধিক হোটেল ও অতিথিনিবাস পরিচালিত হচ্ছিল। ভবনটির হোটেলগুলোতে ছিল একাধিক ঘুপচি ঘর। এর তৃতীয় তলায় ১১০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে চলছিল ‘শিখা ইন’। দুই কামরার একটি ফ্ল্যাটের সমান জায়গায় সেখানে ছিল পাঁচটি খুপরি ঘর।
মঙ্গলবার গভীর রাতে ওই হোটেলে আগুন লাগে। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ৯ জন। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে বুধবারই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে পুলিশ। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ওই দলই পরে শিখা ইনের ইজারাদার আবু জাফরকে আটক করে।
অভিযোগ উঠেছে, শিখা ইনসহ ওই ভবনে চলা হোটেলগুলো প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাবিধি না মেনেই গড়ে উঠেছিল। আবাসিক ভবনকে বেআইনিভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই অগ্নিকাণ্ডের জন্য পূর্বের সরকারের ‘অবহেলাকে’ দায়ী করেছেন। তার অভিযোগ, আগের সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এসব বিষয় থেকে নজর ঘুরিয়ে রেখেছিল।
আরটিভি/এসএইচএম




