ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

কলকাতা গিয়ে বিপদে হাজার হাজার বাংলাদেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একের পর এক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সেখানে অবস্থানরত হাজারো বাংলাদেশি পর্যটক। মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যুর পর অগ্নিনিরাপত্তা বিধি মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ে অভিযান শুরু করে কলকাতা পুলিশ, পৌরসভা, দমকল ও বিদ্যুৎ বিভাগ। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে কলকাতার ‘মিনি বাংলাদেশ’ খ্যাত মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিটে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দুই শতাধিক হোটেল। এমন অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি পর্যটক।

পর্যটক সুরক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান নেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। মির্জা গালিব স্ট্রিটের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ওই দিন সন্ধ্যা থেকেই অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে অভিযান শুরু করে নিউমার্কেট থানার পুলিশ। উপমুখ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল নিজেই অভিযানে অংশ নিয়ে বেশ কয়েকটি হোটেল বন্ধ করেন।

এর মধ্যেই কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পৌরসভা, দমকল ও সিইএসসি (বিদ্যুৎ বিভাগ)-এর সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিটি কলকাতার সাড়ে ৩ হাজারের বেশি হোটেলের নিরাপত্তাবিধি পর্যালোচনা করবে। বৃহত্তর কলকাতার ক্ষেত্রে এই তদন্ত কমিটি এতটা সক্রিয় না হলেও নিউমার্কেট এলাকায় রীতিমতো কড়া অবস্থান নিয়েছে এই কমিটি।

গত শনিবার থেকে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ২২১টি হোটেল ও ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তাবিধি না মানায় একাধিক হোটেলের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

একের পর এক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কলকাতার নিউমার্কেটে অবস্থান করা বাংলাদেশি নাগরিকেরা। কলকাতায় এই মুহূর্তে অবস্থান করছেন প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি পর্যটক। তাদের মধ্যে ৭ হাজার রয়েছেন নিউমার্কেট এলাকায়। তাদের অনেকে বাধ্য হয়ে কলকাতা ছাড়ছেন। কেউ নতুন হোটেল খুঁজছেন, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

দালাল ধরে নতুন করে হোটেল পাওয়া গেলেও কোথাও কোথাও আগের তুলনায় অনেক বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। কিছু হোটেলের ভাড়া দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে।

কলকাতার পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই এলাকায় বাংলাদেশি পর্যটকদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে হোটেল, খাবারের দোকান, পরিবহন, কেনাকাটা ও বিভিন্ন পরিষেবার ব্যবসা। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে নানা কারণে এই ব্যবসায় ধাক্কা লেগেছিল।

img-20260824-12334646-20260824130859-20260824134007

কলকাতার গ্রিন লাইন পরিবহনের শ্যামল ঘোষ বলেন, সীমান্ত থেকে প্রতিটি বাসে যাত্রী পরিপূর্ণ হয়ে যাত্রীরা কলকাতায় আসছেন। কিন্তু যাত্রীদের থাকার মতো হোটেল এই মুহূর্তে নেই। অনেকেই আশপাশের এলাকার হোটেল খুঁজে সেদিকে যাচ্ছেন। তবে ভাড়া দ্বিগুণ-তিন গুণের বেশি বেড়ে গেছে। সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান নিয়েছে, আমরা এই অবস্থানকে সমর্থন জানাই। তবে হোটেল মালিকদের কিছুটা সময় দিলে ভালো হতো।

আরও পড়ুন

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল থেকেই নিউমার্কেটে পর্যটকদের হোটেল থেকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। অনেক পর্যটক এই ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে রীতিমতো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

নিউমার্কেটের অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় রিকশাচালক থেকে পেশাজীবী মানুষেরাও সরকারের এমন অতিসক্রিয় অবস্থানে এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, টুরিস্ট ভিসা শুরু হওয়ার পর পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা বাড়তে শুরু করার সময় নতুন করে হোটেল বন্ধের ঘটনা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। তবে প্রশাসন বলছে, পর্যটকদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানা হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চলবে।

হোটেল মালিকদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তার হোটেলে প্রায় ৫০ জন বাংলাদেশি পর্যটক ছিলেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) তাদের হোটেল ছাড়তে বলা হয়।

নিউমার্কেটের একটি হোটেলের কর্মচারী সেলিম বলেন, ব্যবসার অবস্থা খুব খারাপ। মির্জা গালিব স্ট্রিটে আগুন লেগেছে, আর হোটেল বন্ধ করার নোটিশ দিচ্ছে আমাদের এখানে। আমাদের পেটে লাথি মেরে দিয়েছে।

ঢাকার বাসিন্দা নাসিব পাপ্পু চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছেন। তিনি জানান, গতকাল বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় এসে বিকেলে একটি হোটেলে ওঠেন। হোটেলে ওঠার সময় তাকে কিছু জানানো হয়নি। পরে বাইরে থেকে ফিরে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানতে পারেন, থানা থেকে হোটেল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে হোটেল ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে।এরপর সকালে তিনি হোটেল ছেড়ে দেন।

নাসিব বলেন, চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসে হোটেল নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এ কারণে ভবিষ্যতে কলকাতায় আসার বিষয়ে তাকে নতুন করে ভাবতে হবে।

তার মতে, দীর্ঘদিন পর পর্যটন ভিসা খুলেছে। তারপর এ ধরনের ঘটনা ঘটলে কলকাতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন বাংলাদেশি পর্যটকরা।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গভীর রাতে কলকাতার নিউমার্কেটের ১৫জি, মির্জা গালিব স্ট্রিটে ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেছে ৯ জনের। এর মধ্যে ৭ জনই বাংলাদেশি নাগরিক, বাকি ২ জন ভারতীয়। নিহতদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ১টি শিশু ছিল।

নিহত বাংলাদেশিরা হলেন—আকরাম আলী (৭৪), দেবাশীষ দত্ত (৩৯), আফসানা শিরমিন (২৭), সর্নাশীষ দত্ত (২), বাবু আহমেদ (৩৭), রেবতী সরকার এবং এস. এম. আলিমুজ্জামান।

অন্যদিকে, দুই ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে একজন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা সন্দীপ পাশওয়ান (১৯), অন্যজন শিলিগুড়ির বাসিন্দা যোগ নারায়ণ আগারওয়াল (৬৮)।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলাদেশের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চায় ভারত, জানালেন জয়সওয়াল
বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দুই দেশের বিদ্যমান কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থার মাধ্যমে সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত রয়েছে নয়াদিল্লি। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা বলেন।  তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের সাধারণ অবস্থান হলো—ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখা। এ সম্পর্ককে ইতিবাচক দিকে এগিয়ে নেওয়াই ভারতের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুখপাত্র বলেন, এ বিষয়ে কোনো নতুন তথ্য থাকলে তা জানানো হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে মুখপাত্র আরো বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থার মধ্যেই সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে ভারত প্রস্তুত। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশের যোগাযোগ রয়েছে। ভারতের বহুপক্ষীয় বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি’তে বাংলাদেশের সি-১৩০জে পরিবহন বিমান অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গেও ভারতের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়।  জবাবে মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে ভারতের মূল অবস্থান অপরিবর্তিত—নয়াদিল্লি একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চায়। আরটিভি/এসআর  
বাংলাদেশের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চায় ভারত, জানালেন জয়সওয়াল
সম্মতি ছাড়া জন্ম দেওয়ায় নিজের মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা ছেলের
নিজের সম্মতি ছাড়া জন্ম দেওয়ার অপরাধে নিজের জন্মদাতা মা-বাবার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার পরিকল্পনা করেছেন ২৭ বছর বয়সী এক ভারতীয় তরুণ।  মুম্বাইয়ের ব্যবসায়ী রাফায়েল স্যামুয়েল জানান, শিশুদের পৃথিবীতে নিয়ে আসা অনুচিত, কারণ পরবর্তীতে তাদের সারা জীবন ধরে বহু কষ্ট ও ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। রাফায়েল স্যামুয়েল বিষয়টি অনুধাবন করেন যে জন্মের আগে কারও সম্মতি নেওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব। তবে তার মতে, জন্ম নেওয়াটা তো আমাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ছিল না। তাই যেহেতু তিনি বা অন্য কেউ স্বেচ্ছায় জন্ম নিতে চায়নি, সেহেতু আজীবন বেঁচে থাকার সব ধরনের খরচ মা-বাবারই বহন করা উচিত বলে যুক্তি দেন তিনি। সাধারণ কোনো পরিবারে এমন অযৌক্তিক দাবি সম্পর্কের ইতি ঘটাতে পারত, তবে পেশায় আইনজীবী রাফায়েলের মা-বাবার ক্ষেত্রে বিষয়টি বিপরীত। তারা বিষয়টিকে হাস্যরসাত্মক ও ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।  রাফায়েলের মা কবিতা কার্নাড স্যামুয়েল এক বিবৃতিতে জানান, আমি আমার ছেলের সাহসের প্রশংসা করি যে মা-বাবা দুজনই আইনজীবী জেনেও সে আমাদের আদালতে নেওয়ার কথা ভাবছে। ও যদি কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে পারে যে আমরা কীভাবে জন্মের আগে তার সম্মতি নিতে পারতাম, তবে আমি আমার ভুল স্বীকার করে নেব। স্যামুয়েলের এই ব্যতিক্রমী চিন্তাভাবনা মূলত ‘অ্যান্টি-ন্যাটালিজম’ বা ‘জন্মবিরোধিতা’ দর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই দর্শনের অনুসারীদের মতে, মানবজীবন নানা দুঃখ-কষ্টে পূর্ণ; তাই মানুষের সন্তান জন্মদান প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। এতে ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে, যা সার্বিকভাবে এই গ্রহ এবং অন্যান্য পশুপাখির বেঁচে থাকার জন্য অনেক ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এক বছর আগে ‘নিহিলানন্দ’ (Nihilanand) নামে একটি ফেসবুক পেজ খুলে নিজের বেশ কিছু ডিজিটাল পোস্টার ছড়িয়ে দেন রাফায়েল। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি শিশুকে এই পৃথিবীতে আসতে বাধ্য করা এবং ক্যারিয়ার গড়তে চাপ দেওয়া কি অপহরণ বা দাসত্বের শামিল নয়? তবে মা-বাবার সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই বলে জানান স্যামুয়েল। তিনি জানান, তার জীবন বেশ ভালোই কাটছে এবং তিনি বিষণ্ণ নন। তবে তিনি মনে করেন, মানুষের অস্তিত্ব ছাড়া পৃথিবী আরও সুন্দর হতে পারত। যদিও কোনো বিচারক এই মামলা গ্রহণ করবেন না বলে তিনি জানেন, তবুও এই বিষয়ে বৈশ্বিক জনসচেতনতা ও আলোচনা তৈরির লক্ষ্যেই তিনি আইনি ব্যবস্থা নিতে চান বলে জানান। আরটিভি/এসআর  
সম্মতি ছাড়া জন্ম দেওয়ায় নিজের মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা ছেলের
ভারতে ৯১ বছর বয়সী বৃদ্ধার ওপর হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ল বানর, অতঃপর...
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের কোপ্পাল জেলায় বাড়ির সামনে বানরের হামলায় ৯১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।
ভারতে ৯১ বছর বয়সী বৃদ্ধার ওপর হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ল বানর, অতঃপর...
ভারতে মুসলিমদের নিয়ে বিজেপি নেতার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য
সম্প্রতি ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের রাজধানী ভোপালে এক জনসভায় বিজেপি বিধায়ক রামেশ্বর শর্মা কথিত ‘লাভ জিহাদ’ (হিন্দু নারীদের ধর্মান্তরিত করার কাল্পনিক অভিযোগ) অজুহাতে বলেছেন, মুসলিম যুবকদের একা একা গরবা অনুষ্ঠানে আসা উচিত নয়। তারা যদি আসতেই চায়, তবে নিজেদের পরিবারের বোন ও মেয়েদেরও সঙ্গে নিয়ে আসুক। আমাদের ছেলেরাও প্রস্তুত রয়েছে। বিধায়কের এই কথার পরেই সভাস্থলে থাকা তার সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়ে। বিজেপি বিধায়কের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই ভারতের রাজনৈতিক মহলে ঝড় উঠেছে।  ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এবং এআইএমআইএম এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে চরম ধর্মীয় মেরুকরণ সৃষ্টির অপচেষ্টা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি কুরুচিকর আক্রমণ বলে অভিহিত করেছে। রাজনৈতিক প্রতিবাদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ ও নেটিজেনরা বিধায়কের এই বক্তব্যকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন।  তাদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে নারীদের সম্মানকে কার্যত সামাজিক প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার এক কুরুচিকর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা চরম লিঙ্গবৈষম্যমূলক ও অবমাননাকর। ভোপাল সেন্ট্রালের কংগ্রেস বিধায়ক আরিফ মাসুদ অত্যন্ত কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, রামেশ্বর শর্মার এই মন্তব্য অত্যন্ত নোংরা ও জঘন্য। আমি কেবল এটুকুই বলব—নিজের স্বভাব শুধরে নিন। মুখ থেকে এমন নোংরা কথা উগড়ানো বন্ধ করুন। প্রথমত, সাধারণ মুসলমানেরা গরবা অনুষ্ঠানে যায় না, গরবার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। যে ধরণের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা চরম আপত্তিকর। অন্যদিকে, এআইএমআইএম-এর মধ্যপ্রদেশ সভাপতি মহসিন আলী খান তীব্র আক্রমণ চালিয়ে বিধায়ককে দেশের সংবিধান পড়ার পরামর্শ দেন।  তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই ধরণের উসকানিমূলক বক্তব্য দেশ ভাগ করার চক্রান্ত। রামেশ্বর শর্মা যদি মুসলমানদের নিজেদের বোন ও মেয়েদের গরবায় আনার কথা বলেন, তবে বিজেপির নিজস্ব মুসলিম নেতারা—যেমন শাহনেওয়াজ হোসেন বা সৈয়দ জাফর ইসলামরা কি তাদের নিজেদের বোন-মেয়েদের গরবা অনুষ্ঠানে নিয়ে যাবেন? আরটিভি/এসআর
ভারতে মুসলিমদের নিয়ে বিজেপি নেতার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য
‘এটা কি আইফোন ১৮?’, জিজ্ঞেস করেই নারীর ফোন নিয়ে পালালো ছিনতাইকারী
ভারতের গ্রেটার নয়ডা ওয়েস্টে ই-রিকশায় চেপে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় এক নারীর হাত থেকে ৩ দিন আগে কেনা আইফোন ছিনতাই করেছে দুই ছিনতাইকারী।  মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে এনডিটিভি। ভুক্তভোগী শুভি ভান্ডারি ই-রিকশার ভাড়া অনলাইনে পরিশোধ করার জন্য ফোনটি হাতে বের করলে, হেলমেট পরা দুই বাইক আরোহী তার কাছে আসে। প্রথমে তারা রাস্তার দিক জানতে চায় এবং পরে ‘এটা কি নতুন আইফোন?’ বলে প্রশ্ন করে। শুভি ইতিবাচক উত্তর দেওয়ার পরপরই একজন তার হাত থেকে ফোনটি থাবা মেরে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। শুভির স্বামী সাকেত গুপ্ত জানান, আইফোন ১৮ প্রো মডেলের ফোনটি মাত্র ৩ দিন আগে কেনা হয়েছিল। ঘটনার পর পরিবারটি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে এবং সকালে প্রধান সড়কগুলোতে পুলিশি টহল কম থাকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ভুক্তভোগীর বাবার আবেদনের ভিত্তিতে একটি অনলাইন এফআইআর নথিবদ্ধ করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। বিসরাখ থানার ওসি রঞ্জিত সিং জানান, অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। আরটিভি/এসআর
‘এটা কি আইফোন ১৮?’, জিজ্ঞেস করেই নারীর ফোন নিয়ে পালালো ছিনতাইকারী
আরও পড়ুন
কলকাতায় মুসলিম পুলিশ সদস্যদের দাড়ি রাখা নিষিদ্ধ
কলকাতার চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার পেল বাংলাদেশের দুই সিনেমা
এবার কলকাতা উৎসবে থাকবে ‘উত্তম পুরস্কার’
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান: শিশুর পড়াশোনায় এআই টিউটর, মাসিক খরচ মাত্র ২০ ডলার