
ভারতের মহারাষ্ট্রের কোনকানকাদা পাহাড় থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন গুজরাটের এক যুবক। মৃত্যুর আগে ১৩ মিনিটের একটি ভিডিও রেকর্ড করেন তিনি। সেখানে সাবেক স্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে বৈবাহিক বিরোধ এবং আইনি লড়াই নিয়ে গভীর হতাশার কথা জানান ওই যুবক।
নিহত যুবকের নাম বিশ্বরাজসিংহ ময়ূরসিংহ গোহিল। তিনি গুজরাটের ভাবনগরের বাসিন্দা এবং ডাক বিভাগে কর্মরত ছিলেন। কোনকানকাদা পাহাড়টি প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফুট উঁচু।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেন বিশ্বরাজসিংহ। তবে আট মাসের মধ্যেই ভেঙে যায় তাদের সংসার। গত ১২ সেপ্টেম্বর তার স্ত্রী যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় গত ৯ অক্টোবর আদালতে হাজিরাও দিয়েছিলেন তিনি।
মৃত্যুর আগে ধারণ করা ভিডিওতে বিশ্বরাজসিংহ দাবি করেন, স্ত্রীর সঙ্গে সাধারণ মতবিরোধকে তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে রূপ দিয়েছেন। তার ভাষ্য, তিনি, তার মা ও ১৬ বছর বয়সী ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট।
ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আজ আমি খাদে লাফিয়ে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছি। আপনারা হয়তো ভাবছেন, কী এমন ঘটল? যখন জীবনে আর কিছু বা কোনো আশাই অবশিষ্ট থাকে না, তখন পরিস্থিতি মানুষকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয়।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলার কারণে তাকে মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তার দাবি, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার স্ত্রীকে জোর করে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। এ ছাড়া স্বর্ণালংকার নিয়ে বিরোধের কথাও ভিডিওতে তুলে ধরেন তিনি।
বিশ্বরাজসিংহের অভিযোগ, তার স্ত্রী চলে যাওয়ার সময় তাদের দেওয়া স্বর্ণালংকার পরেছিলেন। কিন্তু পরে নিজেদের জিনিসপত্র ফেরত চাইলেও তারা কোনো প্রতিকার পাননি। তার দাবি, পুরো ঘটনায় কেবল তার পরিবারের ওপরই চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।
ভিডিওতে নিজের শ্বশুরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিশ্বরাজসিংহ। তিনি বলেন, তার শ্বশুর নিজেকে বাবার মতো বলে দাবি করতেন। অথচ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সবশেষে নিজের মা ও ছোট ভাইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ওই যুবক। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আজ আমি মারা যাচ্ছি, কিন্তু আমার মা এবং আমার ১৬ বছরের ছোট ভাইয়ের কী হবে, যাকে মিথ্যাভাবে যৌতুক ও নির্যাতনের মামলায় জড়ানো হয়েছে?’
বিশ্বরাজসিংহের ভিডিওতে তার সাবেক স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং মামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
আরটিভি/এসকে



