ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

এবার ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারীর হাতে উঠলো নোবেল শান্তি পুরস্কার 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক আইনজ্ঞ নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। ।  ছবি: সংগৃহীত

শান্তি প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক আইন শক্তিশালী করা এবং যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক বিশিষ্ট আইনজ্ঞ নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে তার দীর্ঘদিনের ভূমিকার প্রশংসা করেছে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি এ পুরস্কারের বিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে। এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মনোনয়ন পেয়েছিল। তাদের মধ্য থেকে নাভি পিল্লাইকে নির্বাচিত করা হয়।

১৯৬৩ সালে নাভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার নাটাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি এবং ১৯৬৫ সালে আইনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ল স্কুলে পড়াশোনা করেন। সেখান থেকে ১৯৮২ সালে আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং ১৯৮৮ সালে আইন বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। নাভি পিল্লাই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকান, যিনি হার্ভার্ড ল স্কুল থেকে আইন বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।

নোবেল কমিটির ভাষ্য, অসাধারণ সাহস ও সততার সঙ্গে নাভি পিল্লাই বিশ্বজুড়ে আরও কার্যকর আন্তর্জাতিক আইনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ দেখিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত নাভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে বর্ণবাদী শাসনামলে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের শুরু থেকেই তিনি বর্ণবৈষম্য, বিচ্ছিন্নতা ও সামাজিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্যদের পক্ষে আইনি লড়াইও করেছেন তিনি।

পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার উচ্চ আদালত, রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নাভি পিল্লাই। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন। সম্প্রতি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। বর্তমানে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় নাভি পিল্লাইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো যৌন সহিংসতাকে গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা। রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতা মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার অংশ হতে পারে—এমন আইনি স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠায় তার প্রভাব ছিল গুরুত্বপূর্ণ। একই মামলায় প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে গণহত্যায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগেও একজন আসামির বিচার হয়। এ ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য ছিল।

নোবেল কমিটি বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যুদ্ধ ও সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব—নাভি পিল্লাইয়ের কর্মজীবনে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রনেতাদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সহিংসতা ও সংঘাতের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচারের আশা জোগাতে তিনি কাজ করেছেন। তার স্বাধীনতা, দক্ষতা ও দৃঢ় অবস্থান তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সম্মানিত আইনজ্ঞদের একজন করে তুলেছে।

নোবেল কমিটির মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। কেবল শক্তিশালী রাষ্ট্রের ইচ্ছা বা সামরিক শক্তির ভারসাম্যের ওপর নয়, বরং আইনি নীতির ভিত্তিতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। কূটনীতি, চুক্তি ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির গুরুত্বও বেড়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক আইনব্যবস্থা এখন নানা চাপে রয়েছে। শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর অনেক সময় দায় এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা এবং আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার ওপর আক্রমণ আইনের শাসনকে দুর্বল করছে বলে মনে করে নোবেল কমিটি। তাদের মতে, আইনের বদলে শক্তির প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হলে স্থিতিশীলতা, পারস্পরিক আস্থা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এমন পরিস্থিতিতে নাভি পিল্লাইকে পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসনের গুরুত্ব তুলে ধরতে চেয়েছে নোবেল কমিটি। তাদের বক্তব্য, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যায়বিচার অপরিহার্য। আইনের শাসন ছাড়া বিশ্বব্যবস্থা অন্যায্য, অদূরদর্শী ও অমানবিক হয়ে ওঠে।

নোবেল কমিটি আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনকে শক্তিশালী করা এবং বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা রক্ষা করতে সাহসী ও দৃঢ়চেতা মানুষের প্রয়োজন। নাভি পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবন ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় আশার আলো দেখায়। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে তিনি দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন।


সূত্র: নোবেল প্রাইজ অর্গানাইজেশন

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শান্তিতে নোবেল পুরস্কার এবার উঠছে কার হাতে?  
শিগগিরই সামনে আসতে যাচ্ছে এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম।  শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায় চলতি বছরের শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে নরওয়ের নোবেল কমিটি।
শান্তিতে নোবেল পুরস্কার এবার উঠছে কার হাতে?  
ডিসেম্বরে ঘনিয়ে আসছে মহাবিপদ!
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৯৫০ সালের পর রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী এল-নিনোগুলোর একটি হতে পারে এবারের পরিস্থিতি।
ডিসেম্বরে ঘনিয়ে আসছে মহাবিপদ!
বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল থেকে সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে যার ফলে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ২৭ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ২৮ ডলার বা ২ দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়ে ১০২ দশমিক ২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ দশমিক ৬৬ ডলার বা ১ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ৮৯ দশমিক ৯৪ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছিল। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির রেকর্ড মূল্য ও সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঠেকাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন উদ্যোগের প্রভাবেই ওই দরপতন হয়েছিল। মার্চে চালু করা একটি পরিকল্পনার আওতায় কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার পাশাপাশি ডিজেল সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। তবে ইরানকে ঘিরে মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত অষ্টম মাসে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অক্টোবরে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজের ওপর হামলার ঝুঁকি বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও জ্বালানি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। উপসাগরীয় দেশগুলোর উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়লেও গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ট্যাঙ্কারে হামলার সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর পর যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে উপসাগর থেকে বেশি পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন হলেও হামলার কারণে পণ্য ও নাবিকদের নিরাপত্তা ব্যয় এবং ঝুঁকি দুটিই বেড়েছে। সর্বশেষ হামলায় কাতারের উত্তরে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস এজেন্সি। এমএসটি মার্কির জ্বালানি বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জাহাজে ইরানি হামলার হার এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং তা আরও বাড়তে পারে। সীমিত পণ্য প্রবাহ, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরানের পক্ষ থেকে আরও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তেলের দামকে ঊর্ধ্বমুখী রাখছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে এএনজেডের বিশ্লেষক ড্যানিয়েল হাইন্স এক নোটে জানিয়েছেন, আইইএ যে তেল ছাড়ছে, তা সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর সময় সংস্থাটির ঘোষিত ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার পরিকল্পনারই অংশ। কৌশলগত মজুত থেকে অতিরিক্ত তেল উত্তোলন করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। তেলের দাম বাড়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের তথ্যও ভূমিকা রেখেছে। বিশ্বের বৃহত্তম তেল ভোক্তা দেশটিতে অপরিশোধিত তেলের মজুত বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমেছে। অন্যদিকে ডিজেলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুতও সামান্য কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, ২ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ৩২ লাখ ব্যারেল কমে ৪২ কোটি ৪১ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। অথচ রয়টার্সের এক জরিপে বিশ্লেষকেরা মজুত ১৭ লাখ ব্যারেল কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। এ সময়ে ডিজেল ও জেট ফুয়েলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুত ৪২ হাজার ব্যারেল কমে ১০ কোটি ৫১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। গত পাঁচ বছরের একই সময়ের গড়ের তুলনায় এই মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কম। আরটিভি/এসকে
বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
৪০০ কোটি বছরের রহস্যের সমাধান করলেন দুই বিজ্ঞানী
প্রকৃতিতে একই অণুর দুটি দর্পণ-প্রতিবিম্ব রূপ থাকতে পারে। দেখতে প্রায় একই হলেও একটিকে আরেকটির ওপর পুরোপুরি মেলানো যায় না। রসায়নে এই বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় কাইরালিটি।
৪০০ কোটি বছরের রহস্যের সমাধান করলেন দুই বিজ্ঞানী
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
পুষ্টির সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী উৎস হিসেবে ডিমের গুরুত্ব তুলে ধরে আজ (৮ অক্টোবর) বিশ্ব ডিম দিবস পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটির ৩০তম বার্ষিকী। বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ২ হাজার ৪৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডিম উৎপাদিত হয়। অর্থাৎ প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে ৬ কোটির বেশি ডিম। এতে দেশে মাথাপিছু বার্ষিক ডিমের প্রাপ্যতা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩৭টি। ২০৩০ সালের মধ্যে মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা ২০০টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা এবং বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশজুড়ে শোভাযাত্রা, সেমিনার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম। বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও পুষ্টিবিষয়ক কর্মসূচি থাকবে। পাশাপাশি এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে বিনামূল্যে ডিম বিতরণ করা হবে। ৩০ বছরে বিশ্ব ডিম দিবস ১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এগ কমিশন (আইইসি) বিশ্ব ডিম দিবস পালনের ঘোষণা দেয়। সেই হিসেবে ২০২৬ সালে দিবসটির ৩০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এবারের ৩০তম বার্ষিকীতে ‘এগউইন’ নামে একটি মাসকটও চালু করা হয়েছে। সব বয়সী মানুষের মধ্যে ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই এর উদ্দেশ্য। বিশ্ব ডিম দিবসের এবারের প্রতিপাদ্যে ডিমের উচ্চমানের সম্পূর্ণ প্রোটিনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পেশি গঠন, মস্তিষ্কের বিকাশ, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং সুস্থ বার্ধক্যে এই প্রোটিনের ভূমিকা তুলে ধরা হচ্ছে। কম দামে পুষ্টির বড় উৎস ডিমে উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি কোলিন, আয়রন ও ভিটামিন বি-১২ রয়েছে। বিশেষ করে ডিমের কুসুমে থাকা কোলিন শিশুদের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডিমে থাকা লুটিন ও জিয়াজ্যানথিন চোখের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। ডিম নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রচলিত বিভিন্ন ভুল ধারণা দূর করার ওপরও এবার গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ডিম বা মুরগি উৎপাদনে গ্রোথ হরমোন ব্যবহারের ধারণাটি সঠিক নয় বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণায়ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় গ্রোথ হরমোন ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তারা দাবি করেছেন। ডিমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর পরিবেশগত সুবিধা। গরু বা খাসির মাংসের তুলনায় ডিম উৎপাদনে কার্বন ফুটপ্রিন্ট ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কম। ফলে ডিমকে তুলনামূলকভাবে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্রোটিনের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উৎপাদন বাড়লেও চাপে খামারিরা দেশে ডিমের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়লেও খামারিরা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। পোল্ট্রি ফিড, বাচ্চা, ওষুধ ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বাড়ছে। অন্যদিকে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব ও সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যার কারণে খামার পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য এবং খুচরা বাজারের দামের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকছে। এতে অনেক সময় ভোক্তাকে বেশি দামে ডিম কিনতে হলেও খামারিরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। ফলে প্রান্তিক খামারিরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। স্কুল ফিডিংয়ে ডিম শিশুদের অপুষ্টি ও খর্বকায়তা কমানো এবং মেধার বিকাশ নিশ্চিত করতে জাতীয় স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতেও ডিম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য সপ্তাহে দুই থেকে তিনটি ডিম দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিশ্বে চীন শীর্ষে, ব্যবহারে মেক্সিকো বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ডিম উৎপাদন করে চীন। দেশটিতে বছরে প্রায় ৬১৭ বিলিয়ন বা ৬১ হাজার ৭০০ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। মাথাপিছু ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে মেক্সিকো। দেশটিতে বছরে গড়ে একজন মানুষ ৪০৯টি ডিম খান। জাপানে এই সংখ্যা ৩৩৭টি। উন্নত দেশগুলোতে মাথাপিছু বার্ষিক ডিমের ব্যবহার গড়ে ২৭০ থেকে ৩০০টির মধ্যে। সেই তুলনায় বাংলাদেশে মাথাপিছু ডিমের ব্যবহার এখনো কম। আয়োজকেরা বলছেন, ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন ও বিপণনব্যবস্থার সমস্যাগুলো সমাধান করা গেলে দেশে ডিমের ব্যবহার আরও বাড়ানো সম্ভব। এতে একদিকে মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে পোল্ট্রি খাতের খামারি ও উদ্যোক্তাদের আয়ও বাড়বে। আরটিভি/এসএস
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আরও পড়ুন
রসায়নে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী
নোবেল ইতিহাসে ক্যুরি পরিবারের অনন্য রেকর্ড
নোবেল জয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু আজ
৫ অক্টোবর থেকে শুরু নোবেল পুরস্কার ঘোষণা, বাড়ল পুরস্কারের অর্থমূল্য