ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

এআই দিয়ে উপন্যাস লিখে পুরস্কার ও প্রকাশক দুটোই হারালেন জনপ্রিয় লেখক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে উপন্যাস লেখার অভিযোগে হাইতীয়-কানাডীয় লেখক থেলিসন ওরেলিয়েনের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক ছিন্ন করেছে কানাডার প্রকাশনা সংস্থা বোয়রেয়াল। একই অভিযোগে ফ্রান্সের মর্যাদাপূর্ণ গঁকুর সাহিত্য পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকেও বাদ পড়েছে তার উপন্যাস ইট ওয়াজ ইদার দ্যাট অর ডাই।

বুধবার (২১ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে লেখকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত জানায় প্রকাশনা সংস্থাটি। উপন্যাসটি লেখার কাজে এআই ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে গত সেপ্টেম্বরে অভিযোগ ওঠার পর নতুন করে তদন্ত শুরু করে বোয়রেয়াল।

প্রকাশনা সংস্থাটি জানায়, উপন্যাসটির বিভিন্ন খসড়া সংগ্রহ করে সেগুলো বিশ্লেষণের জন্য একটি বহিরাগত প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বিশ্লেষণে কয়েকটি নথির মেটাডেটায় এআই-সংক্রান্ত ট্যাগের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে লেখার কাজে এআই কতটা ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

বোয়রেয়ালের দাবি, অভিযোগের বিষয়ে লেখকের অবস্থান যাচাই করতে এবং তাঁর নির্দোষিতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। পরে ওরেলিয়েন আর কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি বলে জানায় প্রকাশনা সংস্থাটি। নতুন তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, শুরু থেকেই এআই দিয়ে উপন্যাস লেখার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন ওরেলিয়েন। এ মাসের শুরুতে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগগুলোকে ‘মানহানি ও ধর্মদ্রোহিতা’ বলে অভিহিত করেন তিনি।

তবে লেখক স্বীকার করেছেন, বিদেশি ভাষার বাগধারা সম্পর্কে জানতে এবং গবেষণার কাজে এআই-সংশ্লিষ্ট কিছু সরঞ্জাম ব্যবহার করেছিলেন। তার দাবি, উপন্যাসের কোনো বাক্য, গল্পের অর্থ কিংবা কাঠামো যন্ত্রের মাধ্যমে তৈরি করা হয়নি। পুরো গল্পের ধারণা ও সৃজনশীলতা তার নিজের।

বুধবার ফরাসি সংবাদপত্র লিবারাসিওঁকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওরেলিয়েন বলেন, ঐতিহাসিক গবেষণার কাজে বইটির সৃজনশীল প্রক্রিয়ায় তিনি এআই ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর দাবি, ২০১৭ সালের শেষ দিকে উপন্যাসটি লেখা শুরু করেন তিনি, যখন চ্যাটজিপিটির মতো এআই পরিষেবা ব্যাপকভাবে চালু হয়নি।

গত সেপ্টেম্বরে প্রথম অভিযোগ ওঠার পর লেখক আরও সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে এই আক্রমণের পেছনে বর্ণবাদ কাজ করতে পারে।

অভিবাসনকে কেন্দ্র করে লেখা উপন্যাসটির মূল ফরাসি নাম ‘সেতে সা উ মুরির্’। বইটি ২০টিরও বেশি দেশে অনুবাদের পরিকল্পনা ছিল। তবে এআই ব্যবহারের অভিযোগের জেরে ফ্রান্সের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার গঁকুরের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকেও বাদ পড়ে উপন্যাসটি।

এআই শনাক্তকারী টুল প্যাংগ্রামের পরীক্ষায় বইটিতে কম্পিউটার-তৈরি লেখা থাকার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ বলে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। তবে এ ধরনের শনাক্তকরণ পরীক্ষার ফল একাই লেখায় এআই ব্যবহারের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।

এআই ব্যবহারের অভিযোগে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি ওরেলিয়েন। অন্যদিকে, প্রকাশনা সংস্থাটি জানিয়েছে, তদন্তে পাওয়া নতুন তথ্যের ভিত্তিতেই লেখকের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন চাম্পি
সুপার টাইফুন চাম্পির প্রভাবে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে তাইওয়ান। ঝড়টির আশঙ্কায় বাতিল করা হয়েছে ১২৫টি ফ্লাইট। উপকূলীয় এলাকায় উচ্চ ঢেউ ও ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া সংস্থাগুলো।
ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন চাম্পি
বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে হামলা ও সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম
বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তাঝুঁকি, হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলার খবর এবং সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোকে ঘিরে হুমকির কারণে বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
কলম্বিয়ায় সোনার খনি ধসে নিহত ১৪
কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি অবৈধ সোনার খনি ধসে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন। দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ রয়েছেন ১২ থেকে ১৫ জন শ্রমিক। সোমবার (১৯ অক্টোবর) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
কলম্বিয়ায় সোনার খনি ধসে নিহত ১৪
খ্রিস্টধর্ম প্রচারে সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ, সিস্টার ডেইজির জীবনের গল্প
ক্যাথলিক পরিবারে জন্ম, বোন সন্ন্যাসিনী, পরিবারের অন্য সদস্যরাও যুক্ত গির্জার সঙ্গে। শৈশব থেকেই খ্রিস্টীয় ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠা সেই নারী একসময় খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে যান সৌদি আরবে। কিন্তু সেখানে মুসলমানদের ঈসা (আ.) ও মরিয়ম (আ.)-এর প্রতি শ্রদ্ধা, পবিত্র কুরআনের শিক্ষা এবং আজানের ধ্বনি তার চিন্তাজগতে পরিবর্তন আনে। দীর্ঘ সাত বছরের প্রশ্ন, অনুসন্ধান ও পারিবারিক বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ইসলাম গ্রহণ করেন সিস্টার ডেইজি। সিস্টার ডেইজির ইসলাম গ্রহণের ঘটনাটি তার ধর্মীয় বিশ্বাস ও সত্য অনুসন্ধানের দীর্ঘ যাত্রার গল্প হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ধর্মপ্রাণ আইরিশ ক্যাথলিক পরিবারে বেড়ে ওঠেন তিনি। তার বোন ছিলেন কারমেলাইট সন্ন্যাসিনী। পরিবারের অন্য সদস্যদেরও গির্জার সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল। শৈশব থেকেই গির্জা, প্রার্থনা ও খ্রিস্টীয় ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে বেড়ে ওঠেন ডেইজি। তবে খ্রিস্টধর্মের কিছু মৌলিক বিশ্বাস নিয়ে তার মনে প্রশ্ন ছিল। বিশেষ করে ত্রিত্ববাদ এবং যিশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি তাকে ভাবিয়ে তুলত। ঈশ্বর সর্বশক্তিমান হলে তার মৃত্যুবরণের ধারণা কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায় এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেন তিনি। পরবর্তী সময়ে গির্জার সংশ্লিষ্টতা এবং মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুবাদে সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ পান ডেইজি। সেখানে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের পরিকল্পনা ছিল তার। তার ধারণা ছিল, আরবের মানুষ যিশু ও মরিয়ম সম্পর্কে খুব বেশি জানেন না। কিন্তু সৌদি আরবে গিয়ে তার সেই ধারণায় পরিবর্তন আসে। তিনি দেখতে পান, মুসলমানেরা ঈসা (আ.) ও মরিয়ম (আ.)-কে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পবিত্র কুরআনেও তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। বিষয়টি ডেইজির মনে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করে এবং ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। সৌদি আরবের তায়েফ অঞ্চলের পাহাড়ি পরিবেশ ও আজানের ধ্বনিও তার মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল বলে বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। মুসলমানদের ইবাদত, আল্লাহর প্রতি নিবেদন এবং ধর্মীয় জীবনযাপন তাঁকে নতুনভাবে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার পরও সৌদি আরবের অভিজ্ঞতা তাকে তাড়িত করত। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনীনির্ভর চলচ্চিত্র ‘দ্য মেসেজ’-এর একটি অংশ দেখার পর ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ আরও বাড়ে। এরপর তিনি ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন এবং নিজের দীর্ঘদিনের প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে থাকেন। তবে তার এই পরিবর্তন পরিবার সহজভাবে মেনে নেয়নি। বিশেষ করে সন্ন্যাসিনী বোনসহ পরিবারের সদস্যরা তার সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাকে বিভিন্ন যাজক, সন্ন্যাসী ও বিশপের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় সাত বছর ধরে তাকে নানা প্রশ্ন, সমালোচনা ও বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছিল বলে বর্ণনায় বলা হয়েছে। এ সময় এক সন্ন্যাসী তার দেওয়া ইংরেজি কুরআন রাগ করে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ওই সন্ন্যাসী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যায় নিজের আচরণের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন এবং ডেইজির কাছে ক্ষমা চান বলে বর্ণনায় দাবি করা হয়েছে। দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যে ডেইজির সঙ্গে ফাদার টম নামের এক যাজকেরও আলোচনা হয়। পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, তার বক্তব্যে ডেইজি নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন। তবে বর্ণনা অনুযায়ী, ফাদার টম তাকে নিজের বিবেক ও সত্য অনুসন্ধানের গুরুত্ব বোঝান। এতে নিজের বিশ্বাস নিয়ে স্বাধীনভাবে চিন্তা করার সুযোগ পান ডেইজি। একপর্যায়ে ছোট দুই পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে একটি ফিলিস্তিনি মসজিদে যান তিনি। সেখানে এক ফিলিস্তিনি নারী তাকে নামাজের নিয়ম শেখান। এরপর জীবনে প্রথমবারের মতো মুসলমানদের মতো নামাজ আদায় করেন ডেইজি এবং আল্লাহর সামনে সিজদায় অবনত হন। বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথম সিজদার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। দীর্ঘদিনের প্রশ্ন, দ্বিধা ও অনুসন্ধানের পর এই অভিজ্ঞতাকে তিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে অনুভব করেন। ডেইজির ইসলাম গ্রহণের পেছনে ঈসা (আ.) ও মরিয়ম (আ.) সম্পর্কে ইসলামের শিক্ষা বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল বলে বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামের বিশ্বাস অনুযায়ী, আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। ঈসা (আ.) আল্লাহর সম্মানিত নবী ও রাসুল এবং মরিয়ম (আ.) পবিত্র ও মর্যাদাবান নারী। পবিত্র কুরআনে তাদের জীবন ও ঈসা (আ.)-এর অলৌকিক জন্মের বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে ডেইজির জীবনযাপনে পরিবর্তন দেখে তার মেয়েও ইসলাম গ্রহণ করেন। সিস্টার ডেইজির এই কাহিনি ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত অনুসন্ধান ও পারিবারিক বাধার মধ্য দিয়ে একটি নতুন জীবনদর্শন গ্রহণের গল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে তার ইসলাম গ্রহণের ঘটনা, জীবনের বিভিন্ন পর্যায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সূত্র এখানে উল্লেখ নেই। তাই ঘটনাগুলোকে নিশ্চিত ঐতিহাসিক তথ্য হিসেবে উপস্থাপনের আগে নির্ভরযোগ্য সূত্রে যাচাই করা প্রয়োজন। আরটিভি/এসকে
খ্রিস্টধর্ম প্রচারে সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ, সিস্টার ডেইজির জীবনের গল্প
আরও পড়ুন
ছয় মাসে ৮০ বিলিয়ন ডলার লোকসান এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের
৩০ সেকেন্ডে বুঝবেন ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি কি না
ব্যাংকের নামে ফোন, কণ্ঠস্বর নকল করে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার ডলার
স্বপ্নের নারীকে বিয়ে করতে ১২০০ মাইল পাড়ি, গিয়ে জানলেন প্রেমিকা এআই