
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে উপন্যাস লেখার অভিযোগে হাইতীয়-কানাডীয় লেখক থেলিসন ওরেলিয়েনের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক ছিন্ন করেছে কানাডার প্রকাশনা সংস্থা বোয়রেয়াল। একই অভিযোগে ফ্রান্সের মর্যাদাপূর্ণ গঁকুর সাহিত্য পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকেও বাদ পড়েছে তার উপন্যাস ইট ওয়াজ ইদার দ্যাট অর ডাই।
বুধবার (২১ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে লেখকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত জানায় প্রকাশনা সংস্থাটি। উপন্যাসটি লেখার কাজে এআই ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে গত সেপ্টেম্বরে অভিযোগ ওঠার পর নতুন করে তদন্ত শুরু করে বোয়রেয়াল।
প্রকাশনা সংস্থাটি জানায়, উপন্যাসটির বিভিন্ন খসড়া সংগ্রহ করে সেগুলো বিশ্লেষণের জন্য একটি বহিরাগত প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বিশ্লেষণে কয়েকটি নথির মেটাডেটায় এআই-সংক্রান্ত ট্যাগের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে লেখার কাজে এআই কতটা ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
বোয়রেয়ালের দাবি, অভিযোগের বিষয়ে লেখকের অবস্থান যাচাই করতে এবং তাঁর নির্দোষিতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। পরে ওরেলিয়েন আর কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি বলে জানায় প্রকাশনা সংস্থাটি। নতুন তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, শুরু থেকেই এআই দিয়ে উপন্যাস লেখার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন ওরেলিয়েন। এ মাসের শুরুতে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগগুলোকে ‘মানহানি ও ধর্মদ্রোহিতা’ বলে অভিহিত করেন তিনি।
তবে লেখক স্বীকার করেছেন, বিদেশি ভাষার বাগধারা সম্পর্কে জানতে এবং গবেষণার কাজে এআই-সংশ্লিষ্ট কিছু সরঞ্জাম ব্যবহার করেছিলেন। তার দাবি, উপন্যাসের কোনো বাক্য, গল্পের অর্থ কিংবা কাঠামো যন্ত্রের মাধ্যমে তৈরি করা হয়নি। পুরো গল্পের ধারণা ও সৃজনশীলতা তার নিজের।
বুধবার ফরাসি সংবাদপত্র লিবারাসিওঁকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওরেলিয়েন বলেন, ঐতিহাসিক গবেষণার কাজে বইটির সৃজনশীল প্রক্রিয়ায় তিনি এআই ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর দাবি, ২০১৭ সালের শেষ দিকে উপন্যাসটি লেখা শুরু করেন তিনি, যখন চ্যাটজিপিটির মতো এআই পরিষেবা ব্যাপকভাবে চালু হয়নি।
গত সেপ্টেম্বরে প্রথম অভিযোগ ওঠার পর লেখক আরও সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে এই আক্রমণের পেছনে বর্ণবাদ কাজ করতে পারে।
অভিবাসনকে কেন্দ্র করে লেখা উপন্যাসটির মূল ফরাসি নাম ‘সেতে সা উ মুরির্’। বইটি ২০টিরও বেশি দেশে অনুবাদের পরিকল্পনা ছিল। তবে এআই ব্যবহারের অভিযোগের জেরে ফ্রান্সের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার গঁকুরের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকেও বাদ পড়ে উপন্যাসটি।
এআই শনাক্তকারী টুল প্যাংগ্রামের পরীক্ষায় বইটিতে কম্পিউটার-তৈরি লেখা থাকার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ বলে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। তবে এ ধরনের শনাক্তকরণ পরীক্ষার ফল একাই লেখায় এআই ব্যবহারের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।
এআই ব্যবহারের অভিযোগে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি ওরেলিয়েন। অন্যদিকে, প্রকাশনা সংস্থাটি জানিয়েছে, তদন্তে পাওয়া নতুন তথ্যের ভিত্তিতেই লেখকের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
আরটিভি/এসকে

-1792649147-411178_1792649171.jpg)


