-1792649147-411178_1792649171.jpg)
মধ্যপ্রাচ্যে হামলা ও সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা ৩৪ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ ডলার ২৯ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ১১ সেন্টে দাঁড়ায়। এর আগে দাম ছিল ১০৮ ডলার ৮২ সেন্ট। অন্যদিকে, ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৯৭ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ ডলার ১২ সেন্টে পৌঁছায়।
সৌদি আরবে জ্বালানি অবকাঠামো ও বিমানবন্দর ঘিরে হামলার ঘটনা বাড়তে থাকায় বাজারে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। একই দিনে সৌদি আরামকোর শায়বাহ তেলক্ষেত্রের কাছে প্রতিহত করা একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুই বিদেশি কর্মী নিহত হন। আহত হন আরও দুজন। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে ড্রোনটি পাঠানো হলেও এর কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি।
জাহাজ চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে ওই অঞ্চলে জাহাজে অন্তত ১৮টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি থেকে ওমান উপসাগর পর্যন্ত জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তাঝুঁকি ছড়িয়ে পড়ায় তেল পরিবহন ও জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর ব্যাহত হতে পারে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে। বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, আত্মরক্ষার জন্য প্রস্তুত রয়েছে তেহরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও বলেছেন, অবরোধ ও সামরিক হুমকি অব্যাহত রেখে ওয়াশিংটন কূটনৈতিক আলোচনার প্রত্যাশা করতে পারে না।
তেলের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়ার তথ্যও। দেশটির জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেলের মজুত ৩০ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল কমে ৪১ কোটি ২৫ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। অথচ রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা মজুত ৮ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
তবে একই সময়ে ডিজেল ও হিটিং অয়েলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুত ১৬ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল বেড়ে ১০ কোটি ৪৩ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকেরা এ খাতে মজুত কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
এ পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন নর্থইস্ট হোম হিটিং অয়েল রিজার্ভ থেকে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ১৫ হাজার ব্যারেল জ্বালানি সরবরাহের পরিকল্পনা করেছে। সাময়িক বিনিময় ব্যবস্থার আওতায় জ্বালানি গ্রহণকারী কোম্পানিগুলোকে অতিরিক্ত পরিমাণসহ তা ফেরত দিতে হবে। শীত মৌসুমের আগে জ্বালানির সম্ভাব্য ঘাটতি মোকাবিলা এবং ঘর গরম রাখার ব্যয় কমানোই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তাঝুঁকি বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধির চাপ আরও জোরালো হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।
আরটিভি/এসকে


