
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য চারটি গুরুত্বপূর্ণ টিকার বাধ্যতামূলক শর্ত তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ। গভর্নর রন ডেসান্টিস প্রশাসনের টিকা বাধ্যবাধকতার নিয়ম শিথিল করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই প্রস্তাব আনা হয়েছে।
প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে স্কুলে ভর্তি কিংবা পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য হেপাটাইটিস বি, চিকেনপক্স, হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েনজা টাইপ বি (হিব) এবং নিউমোকক্কাল কনজুগেট টিকা নেওয়া আর বাধ্যতামূলক থাকবে না। তবে অঙ্গরাজ্যের মূল আইনে নির্ধারিত অন্যান্য টিকার শর্ত যথারীতি বহাল থাকবে।
২১ দিনের জনমত গ্রহণ প্রক্রিয়া
ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগের এই প্রস্তাবিত নিয়মটি গত ২০ আগস্ট অঙ্গরাজ্যের সার্জন জেনারেল জোসেফ লাদাপো অনুমোদন করেন। যেহেতু এসব টিকার বাধ্যবাধকতা আইনসভার পাসের মাধ্যমে নয়, বরং স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসনিক নিয়মে চালু হয়েছিল—তাই আইনসভার অনুমোদন ছাড়াই স্বাস্থ্য বিভাগ এককভাবে এগুলো বাতিলের উদ্যোগ নিতে পারছে।
তবে নিয়মটি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে ২১ দিনের জন্য জনমত গ্রহণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সাধারণ নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো প্রস্তাবটির ওপর মতামত দিতে পারবেন।
নতুন প্রস্তাবে টিকা না নেওয়ার ছাড় পাওয়ার পরিধিও বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে কেবল ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে টিকাদানে ছাড় পাওয়া যায়। তবে নতুন নিয়মে এর সঙ্গে নৈতিক ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়টি যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
যেসব টিকার বাধ্যবাধকতা বহাল থাকছে
সব টিকার বাধ্যবাধকতা বাতিল করছে না ফ্লোরিডা প্রশাসন। অঙ্গরাজ্যের মূল আইনে এখনো কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য হাম, মাম্পস ও রুবেলা (MMR), পোলিও, ডিপথেরিয়া এবং টিটেনাসের টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক। এসব শর্ত সরাসরি অঙ্গরাজ্যের আইনে অন্তর্ভুক্ত থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ এককভাবে তা বাতিল করতে পারবে না; পরিবর্তন আনতে হলে আইনসভায় আইন সংশোধন করতে হবে।
ডেসান্টিস প্রশাসনের দীর্ঘদিনের উদ্যোগ
ফ্লোরিডায় টিকার বাধ্যবাধকতা বাতিলের এই প্রক্রিয়া প্রায় এক বছর ধরে চলছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গভর্নর রন ডেসান্টিস ও সার্জন জেনারেল জোসেফ লাদাপো অঙ্গরাজ্যের সব টিকার বাধ্যবাধকতা বাতিলের আহ্বান জানান।
তবে ২০২৬ সালের একাধিক আইনসভা অধিবেশনে অঙ্গরাজ্যের মূল আইনে থাকা টিকার বাধ্যবাধকতা বাতিলের জন্য কোনো বিল পাস করা সম্ভব হয়নি। 'মেডিকেল ফ্রিডম' বা চিকিৎসা-স্বাধীনতা নামে একটি পৃথক বিল টিকার ছাড় বাড়ানো এবং চিকিৎসকদের বিকল্প টিকাদান সূচি তৈরির সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে সিনেটে পাস হলেও প্রতিনিধি পরিষদে সেটি আটকে যায়।
চিকিৎসকদের উদ্বেগ ও সতর্কতা
টিকার বাধ্যবাধকতা কমানো হলে প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকেরা।
আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের প্রেসিডেন্ট ডক্টর সুসান ক্রেসলি জানান, শিশুদের টিকা নিশ্চিত করা পুরো সমাজের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য জরুরি। স্কুলে শিশুরা দীর্ঘ সময় কাছাকাছি অবস্থান করায় সেখানে সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
অন্যদিকে, এই প্রস্তাবের সমর্থকেরা বিষয়টিকে অভিভাবকের অধিকার এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসা নেওয়ার স্বাধীনতা বলে অভিহিত করছেন। ২১ দিনের জনমত গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষে প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে এই চার টিকার বাধ্যবাধকতা বাতিলের নিয়মটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।
চিকিৎসকদের সতর্কতা
টিকার বাধ্যবাধকতা কমানো হলে স্কুলে প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসক ও বড় চিকিৎসা সংগঠনগুলো।
আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের প্রেসিডেন্ট চিকিৎসক সুসান ক্রেসলি বলেন, শিশুদের টিকা দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা পুরো সমাজের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। স্কুলে শিশুরা দীর্ঘ সময় কাছাকাছি অবস্থান করায় সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বেশি।
অন্যদিকে প্রস্তাবটির সমর্থকেরা বিষয়টিকে অভিভাবকের অধিকার ও ব্যক্তিগত চিকিৎসা সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা হিসেবে দেখছেন।
চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে এখন ২১ দিনের জনমত গ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে। এরপর অনুমোদন পেলেই চারটি টিকার বাধ্যতামূলক শর্ত বাতিলের নতুন নিয়ম কার্যকর হতে পারে।
আরটিভি/এসএস


