
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, নাসা, সিনেট ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সংবেদনশীল বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় সম্প্রতি বড় ধরনের সাইবার অভিযান চালিয়েছেন চীনা হ্যাকাররা। মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের তৎপরতায় অবশ্য চীনা হ্যাকারদের এই অভিযান অনেকাংশে ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বিচার বিভাগ বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা কিউস্ক্যান ও কিউটিআরাউটার নামে দুটি হ্যাকিং প্ল্যাটফর্মের ব্যবহৃত ডোমেইন জব্দ করেছে। এসব প্ল্যাটফর্ম ওই সাইবার অভিযানের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে দাবি করেছে তারা।
মার্কিন বিচার বিভাগ আরও জানিয়েছে, হ্যাকারদের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চারটি কোম্পানিও ছিল।
ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র ই-মেইলে বলেন, বিচার বিভাগের বিবৃতিতে উল্লেখ করা নির্দিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে তারা অবগত নন। তবে তিনি বলেন, ‘চীনা সরকার সব ধরনের সাইবার হামলার দৃঢ় বিরোধিতা করে এবং আইন অনুযায়ী এর বিরুদ্ধে লড়াই করে।’
একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সাইবার নিরাপত্তার বিষয় ব্যবহার করে ‘চীনকে কলঙ্কিত বা অসম্মান করার চেষ্টা’ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন বিচার বিভাগের দাবি, কিউস্ক্যান ও কিউটিআরাউটার পরিচালনা করত চীনে অবস্থিত নানজিং শিনজিউয়েই নেটওয়ার্ক টেকনোলজি কোম্পানি। তাদের গ্রাহকদের মধ্যে চীনের বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় এবং সামরিক বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মিও রয়েছে বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ।
আদালতে দেওয়া হলফনামায় বলা হয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে নিজেদের তৈরি বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং সংবেদনশীল নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে আসছে চীনা হ্যাকাররা। তবে, তাদের সব চেষ্টা সফল হয়নি। ২০১৯ সালের আগস্টে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কের একটি দুর্বলতাকে লক্ষ্য করে নাসার নেটওয়ার্কে ঢোকার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয় বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হ্যাকাররা জ্বালানি বিভাগের তিনটি গবেষণাগার, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের একটি অজ্ঞাত সংস্থা এবং একটি মার্কিন নিরাপত্তা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়।
এফবিআই, এনএসএ এবং মার্কিন সাইবার কমান্ডের সাইবার ন্যাশনাল মিশন ফোর্সের যৌথ সাইবার নিরাপত্তা পরামর্শপত্রে বছরের পর বছর ধরে চালানো একাধিক হ্যাকিং প্রচেষ্টার বিস্তারিতও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের মে মাসে অজ্ঞাত কয়েকটি প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফলভাবে তথ্য চুরির ঘটনাও ছিল।
হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে হ্যাকাররা মার্কিন সিনেট এবং একটি মার্কিন হাসপাতালের নেটওয়ার্কে প্রবেশের ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল। নাসার এক মুখপাত্র নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগও প্রশ্নগুলো বিচার বিভাগের কাছে পাঠিয়েছে। তবে, অতিরিক্ত তথ্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি বিচার বিভাগ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংবেদনশীল নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের মার্চে এফবিআই কংগ্রেসকে জানিয়েছিল, হ্যাকাররা এফবিআইয়ের তদন্তের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সংস্থার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করেছিল। পরে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ওই অনুপ্রবেশের সঙ্গে চীনের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়।
চীনা হ্যাকারদের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকটি কমিটির নেটওয়ার্ক এবং একাধিক বড় টেলিযোগাযোগ কোম্পানিতে অনুপ্রবেশের সঙ্গেও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
আরটিভি/এসএইচএম


