ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

নাসাসহ যুক্তরাষ্ট্রের সংবেদনশীল বিভিন্ন সংস্থায় চীনা হ্যাকারদের হানা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৮ পিএম
প্রতীকী ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, নাসা, সিনেট ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সংবেদনশীল বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় সম্প্রতি বড় ধরনের সাইবার অভিযান চালিয়েছেন চীনা হ্যাকাররা। মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের তৎপরতায় অবশ্য চীনা হ্যাকারদের এই অভিযান অনেকাংশে ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বিচার বিভাগ বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা কিউস্ক্যান ও কিউটিআরাউটার নামে দুটি হ্যাকিং প্ল্যাটফর্মের ব্যবহৃত ডোমেইন জব্দ করেছে। এসব প্ল্যাটফর্ম ওই সাইবার অভিযানের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে দাবি করেছে তারা।

মার্কিন বিচার বিভাগ আরও জানিয়েছে, হ্যাকারদের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চারটি কোম্পানিও ছিল।

ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র ই-মেইলে বলেন, বিচার বিভাগের বিবৃতিতে উল্লেখ করা নির্দিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে তারা অবগত নন। তবে তিনি বলেন, ‘চীনা সরকার সব ধরনের সাইবার হামলার দৃঢ় বিরোধিতা করে এবং আইন অনুযায়ী এর বিরুদ্ধে লড়াই করে।’

একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সাইবার নিরাপত্তার বিষয় ব্যবহার করে ‘চীনকে কলঙ্কিত বা অসম্মান করার চেষ্টা’ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন বিচার বিভাগের দাবি, কিউস্ক্যান ও কিউটিআরাউটার পরিচালনা করত চীনে অবস্থিত নানজিং শিনজিউয়েই নেটওয়ার্ক টেকনোলজি কোম্পানি। তাদের গ্রাহকদের মধ্যে চীনের বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় এবং সামরিক বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মিও রয়েছে বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ।

আরও পড়ুন

আদালতে দেওয়া হলফনামায় বলা হয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে নিজেদের তৈরি বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং সংবেদনশীল নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে আসছে চীনা হ্যাকাররা। তবে, তাদের সব চেষ্টা সফল হয়নি। ২০১৯ সালের আগস্টে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কের একটি দুর্বলতাকে লক্ষ্য করে নাসার নেটওয়ার্কে ঢোকার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয় বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হ্যাকাররা জ্বালানি বিভাগের তিনটি গবেষণাগার, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের একটি অজ্ঞাত সংস্থা এবং একটি মার্কিন নিরাপত্তা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়।

এফবিআই, এনএসএ এবং মার্কিন সাইবার কমান্ডের সাইবার ন্যাশনাল মিশন ফোর্সের যৌথ সাইবার নিরাপত্তা পরামর্শপত্রে বছরের পর বছর ধরে চালানো একাধিক হ্যাকিং প্রচেষ্টার বিস্তারিতও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের মে মাসে অজ্ঞাত কয়েকটি প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফলভাবে তথ্য চুরির ঘটনাও ছিল।

হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে হ্যাকাররা মার্কিন সিনেট এবং একটি মার্কিন হাসপাতালের নেটওয়ার্কে প্রবেশের ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল। নাসার এক মুখপাত্র নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগও প্রশ্নগুলো বিচার বিভাগের কাছে পাঠিয়েছে। তবে, অতিরিক্ত তথ্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি বিচার বিভাগ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংবেদনশীল নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের মার্চে এফবিআই কংগ্রেসকে জানিয়েছিল, হ্যাকাররা এফবিআইয়ের তদন্তের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সংস্থার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করেছিল। পরে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ওই অনুপ্রবেশের সঙ্গে চীনের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়।

চীনা হ্যাকারদের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকটি কমিটির নেটওয়ার্ক এবং একাধিক বড় টেলিযোগাযোগ কোম্পানিতে অনুপ্রবেশের সঙ্গেও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যুক্তরাষ্ট্রে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর উপস্থিত বুদ্ধিতে প্রাণ বাঁচল স্কুলবাস চালকের!
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের সিডার র‍্যাপিডস শহরে স্কুলবাসে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী বেলা স্কট। তার এক সিদ্ধান্তে প্রাণে বাঁচেন বাসচালক। ঘটনাটি ঘটে ভায়োলা গিবসন এলিমেন্টারি স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরার পথে। সেদিন বাস চালাচ্ছিলেন ক্রিস্টিন হিউস্টন। হঠাৎ তীব্র সুগন্ধির গন্ধে তাঁর কাশি শুরু হয়। ধীরে ধীরে শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে কথা বলতেও সমস্যা হচ্ছিল তাঁর। বাসে থাকা বেলা বুঝতে পারে, চালকের অবস্থা স্বাভাবিক নয়। অন্যদের মতো অপেক্ষা না করে সে নিজের ফোন বের করে বাবাকে কল করে। কয়েকবার ফোন করে বাবাকে পরিস্থিতি জানায় এবং বাসটি কোথায় রয়েছে, সেই অবস্থানও বুঝিয়ে বলে। বেলার বাবা নিক স্কট কাছাকাছি ছিলেন। প্রথমে তিনি মেয়ের ফোনের গুরুত্ব বুঝতে পারেননি। কিন্তু বারবার ফোন আসার পর মেয়ের কণ্ঠে আতঙ্ক টের পেয়ে দ্রুত বাসটির কাছে পৌঁছান। বাসে উঠে তিনি দেখেন, চালক সত্যিই গুরুতর শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তিনি জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। একই সঙ্গে বাসে থাকা প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থীকে শান্ত রাখার এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করেন। পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্রিস্টিনকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি গুরুতর হাঁপানির আক্রমণে আক্রান্ত হয়েছিলেন, যার কারণে শ্বাস নেওয়া ও কথা বলা কঠিন হয়ে পড়েছিল। বাসচালক জানান, বেলা শিক্ষার্থীদের বাস নিরাপত্তা প্রশিক্ষণে শেখানো নিয়ম অনুসরণ করেছে—বিপদের সময় পরিচিত ও বিশ্বস্ত কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সাহায্য নিতে হবে। ঘটনার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বেলার সাহসিকতার স্বীকৃতি দেয়। বাসচালক ক্রিস্টিনও বেলার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।  তার ভাষায়, বেলা তার জীবন বাঁচিয়েছে। সব নায়ককে বিশেষ পোশাক পরতে হয় না; কখনো স্কুলব্যাগে রাখা একটি ফোনও জীবন রক্ষার মাধ্যম হতে পারে। একটি স্কুলবাসের সাধারণ যাত্রা মুহূর্তেই জরুরি পরিস্থিতিতে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু ছোট্ট বেলার উপস্থিত বুদ্ধি, সাহস এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত বড় বিপদ সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আরটিভি/এসআর
যুক্তরাষ্ট্রে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর উপস্থিত বুদ্ধিতে প্রাণ বাঁচল স্কুলবাস চালকের!
পিটিশনকারী মারা গেলেও যে শর্তে চলতে পারে গ্রিন কার্ডের আবেদন
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কোনো সদস্যের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করার পর পিটিশনকারী মারা গেলে সাধারণ নিয়মে অনুমোদনে বাধা তৈরি হয় এবং সেই পিটিশন বাতিলও হতে পারে। তবে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, বিশেষ তিনটি পরিস্থিতিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ডের আবেদনের জন্য সাধারণত মার্কিন নাগরিক ফর্ম আই-১৩০ জমা দিয়ে থাকেন। এই আবেদনকে ফ্যামিলি পিটিশন বলা হয়। এর মাধ্যমে পিটিশনকারী ও বিদেশি স্বজনের মধ্যে যোগ্য পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হয়। তবে আই-১৩০ পিটিশন করলেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত নয়। ভিসার প্রাপ্যতা, আর্থিক স্পনসরশিপ, অভিবাসনসংক্রান্ত যোগ্যতা এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। আবেদন চলাকালে পিটিশনকারীর মৃত্যু হলে সেই প্রক্রিয়ায় নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। যে বিশেষ তিনটি পরিস্থিতিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব প্রথম সুযোগটি রয়েছে মার্কিন নাগরিকের বিধবা বা বিপত্নীকদের জন্য। কোনো মার্কিন নাগরিক তার বিদেশি স্বামী বা স্ত্রীর জন্য আই-১৩০ পিটিশন জমা দিয়ে মারা গেলে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের মাধ্যমে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আই-৩৬০ বিধবা বা বিপত্নীক পিটিশনে রূপান্তরিত হয়। পিটিশনটি মৃত্যুর সময় মুলতবি ছিল কিংবা আগেই অনুমোদিত হয়েছিল, উভয় পরিস্থিতিতেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে শুধু পিটিশনকারী স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে নতুন করে পুরো পরিবারভিত্তিক আবেদন শুরু করতে হয় না। তবে আই-৩৬০-এর এই সুবিধা পাওয়ার জন্য বৈবাহিক সম্পর্কের বৈধতা এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে মৃত ব্যক্তিকে মৃত্যুর সময় মার্কিন নাগরিক হতে হবে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আইনগত বিচ্ছেদ থাকা যাবে না এবং জীবিত সঙ্গীর পুনর্বিবাহসংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে।  মৃত মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রী আগে আই-১৩০ পিটিশন জমা না দিয়ে থাকলেও যোগ্য বিধবা বা বিপত্নীক সাধারণত মৃত্যুর দুই বছরের মধ্যে নিজে আই-৩৬০ জমা দিতে পারেন। তবে এই সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব গ্রিন কার্ডধারী পিটিশনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।   দ্বিতীয় সুযোগটি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২০৪(এল) ধারায়। এই বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিবারভিত্তিক পিটিশনের সুবিধাভোগী পিটিশনকারীর মৃত্যুর সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে থাকলে এবং মৃত্যুর পরও যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চাইলে আবেদন এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করতে পারেন। আই-১৩০ পিটিশন মৃত্যুর সময় মুলতবি থাকলেও এ আবেদন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব। একইভাবে আগেই অনুমোদিত পিটিশন থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি অনুযায়ী ধারাটি ব্যবহার করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর একটি হলো আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের যথার্থ তথ্য দিতে হবে। শুধু মৃত্যুর সময় যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে উপস্থিত থাকলে হবে না, সেখানে নিয়মিত বসবাস করতে হবে। ইউএসসিআইএস আবেদনকারীর প্রকৃত বসবাসের পরিস্থিতি বিবেচনা করতে পারে। পাশাপাশি মূল আবেদনকারীর মৃত্যু, পারিবারিক সম্পর্ক ও আবেদনসংক্রান্ত নথি জমা দিতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে প্রধান সুবিধাভোগীর পরিবর্তে তাঁর যোগ্য পরিবারের অন্য সদস্যও ২০৪(এল) ধারার সুরক্ষার আওতায় আসতে পারেন। ২০৪(এল) ধারার আওতায় আবেদন চালিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলেই অনুমোদন নিশ্চিত হয় না। ইউএসসিআইএসকে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই করতে হয়। আইনের বিধান অনুযায়ী, অনুমোদন জনস্বার্থের পরিপন্থী হওয়ার বিশেষ কারণ থাকলে সংস্থা আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারে। আবার পিটিশন অনুমোদনের পরও গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করতে হবে। ফলে এই ধারাটি মৃত পিটিশনকারীর কারণে তৈরি হওয়া নির্দিষ্ট বাধা দূর করার সুযোগ দেয়, কিন্তু অন্য সব অভিবাসনসংক্রান্ত যোগ্যতার বিকল্প নয়। তৃতীয় সুযোগটি হলো মানবিক কারণে পিটিশন পুনর্বহাল বা হিউম্যানিটারিয়ান রিইনস্টেটমেন্ট। কোনো পরিবারের সদস্য বিদেশি স্বজনের জন্য আই-১৩০ পিটিশন জমা দিয়ে সেটি অনুমোদের পরে, পিটিশনকারি যদি মারা যান। তখন এ সুবিধার জন্য আবেদন করা সম্ভব। সাধারণ নিয়মে পিটিশনকারীর মৃত্যুর কারণে অনুমোদিত পিটিশন বাতিল হলেও মানবিক বিবেচনায় ইউএসসিআইএস সেটির অনুমোদন পুনর্বহাল করতে পারে। তবে হিউম্যানিটারিয়ান রিইনস্টেটমেন্ট সবার জন্য স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়। ইউএসসিআইএস প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে বিবেচনা করে। আবেদনকারীর পারিবারিক পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা স্বজনদের সঙ্গে সম্পর্ক, আবেদনের বিলম্বের প্রভাব এবং অন্যান্য মানবিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে মৃত্যুর আগে পিটিশনটি অনুমোদিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। পিটিশন মুলতবি থাকা অবস্থায় পিটিশনকারীর মৃত্যু হলে সাধারণভাবে শুধু মানবিক পুনর্বহালের এই পথ ব্যবহার করা যায় না। মানবিক পুনর্বহালের ক্ষেত্রে সুবিধাভোগী ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাস করলেও আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। এখানেই এটি ২০৪(এল) ধারার সুরক্ষা থেকে আলাদা। উদাহরণ হিসেবে, একজন মার্কিন নাগরিক বাংলাদেশে থাকা ভাই বা বোনের জন্য আই-১৩০ পিটিশন করেছিলেন এবং পিটিশনটি অনুমোদিত হয়েছিল। কিন্তু ভিসার অপেক্ষায় থাকার সময় ওই মার্কিন নাগরিক মারা যান। এমন পরিস্থিতিতে যোগ্য সুবিধাভোগী মানবিক কারণে পিটিশন পুনর্বহালের আবেদন করতে পারেন। তবে আবেদন অনুমোদিত হবে কি না, তা ইউএসসিআইএস সিদ্ধান্ত নেবে। এই দুটি প্রক্রিয়ায় আর্থিক স্পনসরশিপের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ডের অনেক আবেদনে আই-৮৬৪ অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট প্রয়োজন হয়। মূল পিটিশনকারী মারা গেলে তাঁর পরিবর্তে নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন বিকল্প আর্থিক স্পনসর প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণভাবে বিকল্প স্পনসরকে মার্কিন নাগরিক, মার্কিন ন্যাশনাল অথবা গ্রিন কার্ডধারী হতে হবে এবং আইন অনুযায়ী নির্ধারিত পারিবারিক সম্পর্ক ও আর্থিক যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। আরটিভি/টিআর
পিটিশনকারী মারা গেলেও যে শর্তে চলতে পারে গ্রিন কার্ডের আবেদন
এবার ইরানের পিকঅ্যাক্সে হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের, বললেন ‘১০ মিনিটে শেষ করতে পারব’
ইরানের রহস্যময়ী পিকঅ্যাক্স পাহাড়সহ আরও দুই একটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসব স্থাপনা ধ্বংস করতে তাদের মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) পাম সমুদ্র সৈকতে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমরা তাদের পারমাণবিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছি। তবে আমাদের এখনো, আমি বলব এক থেকে দুটি স্থাপনা দেখতে (হামলা চালাতে) হবে। তবে আমরা এটি মাত্র ১০ মিনিটে করতে পারব। ‘আপনার পিকঅ্যাক্স পাহাড়ের দিকে দেখতে পারেন, আমাদের ওই পাহাড়টি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা যা খুব দ্রুত সময়ে করতে পারব।’ পশ্চিমা গোয়েন্দারা মনে করেন, ইরান তাদের পারমাণবিক উপকরণ পিকঅ্যাক্স পাহাড়ের নিচে থাকা গোপন স্থানে রেখেছে। যদিও এটি শুধুমাত্র তাদের ধারণা। যুক্তরাষ্ট্র গত দুই বছরে ইরানে দুইবার হামলা চালালেও পিকঅ্যাক্স পাহাড়কে একবারও টার্গেট করেনি। তবে দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন তাদের এ পাহাড়ে হামলা চালানো উচিত। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল আরটিভি/এসআর
এবার ইরানের পিকঅ্যাক্সে হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের, বললেন ‘১০ মিনিটে শেষ করতে পারব’
ইরানের হামলার আগে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বললেন ট্রাম্প
ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা শুরু করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে টেলিফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রোববার (১ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে এ বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, শনিবার সকালে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপ হয়। এ সময় ইরানে ফের হামলা শুরুর পরিকল্পনা করছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, ইরান সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান চান ট্রাম্প। তবে সামরিকভাবে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের সক্ষমতা ওয়াশিংটনের রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাবে নাকি চালাবে না এ নিয়ে অস্পষ্টতায় রয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বিভাগ। তাই যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে আলোচনায় ফেরার জন্য আরেকটি সুযোগ দিতে চায়। তবে ইসরায়েলি সেনা কমান্ডারদের মতে, ইরান অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি করবে না, যেখানে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। পারমাণবিক কার্যক্রমের সঙ্গে ইরানকে শর্ত দেওয়া হচ্ছে তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎপাদনও বন্ধ করে দিতে হবে। যা ইরান কোনোভাবেই মানবে না। ইরসায়েলি কমান্ডারদের ধারণা ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণ করছে। যেন মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুদ্ধের প্রভাব পড়ে। তারা আরও বলছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন হামলার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে যদি মার্কিনিরা বুঝতে পারে ইরান আকস্মিক হামলা চালাতে পারে; তখনই শুধু নির্বাচনের আগে হামলা হতে পারে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে। যেখানে দেশটির আইনসভা কংগ্রেসের সব আসন এবং সিনেটের এক তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হবে। সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরটিভি/এসআর
ইরানের হামলার আগে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বললেন ট্রাম্প
এক চার্জে ২২১ মাইল চলে পুরোনো টেসলা, অবাক নতুন মালিক!
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে আলোচনায় এসেছে ১৩ হাজার ডলারেরও কম দামে কেনা একটি পুরোনো টেসলা মডেল এস। প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার মাইল চালানোর পরও গাড়িটি একবার চার্জে ২২১ মাইল চলতে সক্ষম হয়েছে। সম্প্রতি গাড়ি বিষয়ক গবেষণা ও পর্যালোচনা প্রতিষ্ঠান এডমন্ডসের পরিচালিত এক পরীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে।  নতুন অবস্থায় প্রায় ৭০ হাজার ডলার বা তার বেশি দামের এই বিলাসবহুল গাড়ি এখন মূল দামের তুলনায় অনেক কম খরচে পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরও গাড়িটির এমন পারফরম্যান্স পুরোনো বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। এডমন্ডস জানিয়েছে, তারা ১৩ হাজার ডলারের কম দামে গাড়িটি কেনার পর নিজেদের প্রচলিত ইভি রেঞ্জ টেস্টের মাধ্যমে এর কার্যক্ষমতা যাচাই করে। পরীক্ষায় বাস্তব পরিস্থিতিতে এক চার্জে গাড়িটি ২২১ মাইল চলেছে। গাড়ি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইনসাইডইভিএস এই ফলাফলকে গাড়িটির ক্রয়মূল্য বিবেচনায় বেশ ভালো পারফরম্যান্স হিসেবে উল্লেখ করেছে।  বিশেষ করে ১ লাখ ৩৫ হাজার মাইল চলার পরও গাড়িটি যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করতে পেরেছে, তা পুরোনো টেসলা কেনার সম্ভাব্যতা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। গাড়িটির সুনির্দিষ্ট ট্রিম বা সংস্করণ নিশ্চিত করা হয়নি। তবে এর চলার দূরত্ব ও পারফরম্যান্স বিবেচনায় এটি টেসলা মডেল এস ৮৫ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সংস্করণের নতুন অবস্থায় ঘোষিত রেঞ্জ ছিল প্রায় ২৬৫ মাইল।  সেই হিসাবে পরীক্ষায় পাওয়া ২২১ মাইল যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। তবে এটি গাড়িটির ব্যাটারির অবশিষ্ট সক্ষমতার চূড়ান্ত পরিমাপ নয়, বরং নির্দিষ্ট পরীক্ষায় পাওয়া বাস্তব রেঞ্জ। শুধু ব্যাটারির পারফরম্যান্স নয়, গাড়িটির গতিও পরীক্ষকদের নজর কেড়েছে। পুরোনো ও একে অপরের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন টায়ার ব্যবহার করা সত্ত্বেও গাড়িটি শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতিতে পৌঁছাতে সময় নিয়েছে মাত্র ৫ সেকেন্ড।  এক-চতুর্থাংশ মাইলের দৌড় শেষ করতেও সময় লেগেছে ১৩ দশমিক ৩ সেকেন্ড। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরও গাড়িটির এমন গতিশীলতা এর মোটর ও ড্রাইভিং পারফরম্যান্স সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দিয়েছে। এডমন্ডসের পরীক্ষায় গাড়িটির ভেতরের পরিবেশও বেশ প্রশংসা পেয়েছে। পরীক্ষকদের মতে, গাড়িটি এখনো বেশ নীরব, আরামদায়ক এবং রাস্তায় স্থিতিশীল। পুরোনো হলেও এর বিলাসবহুল অনুভূতি পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। তবে সবকিছুই যে ভালো অবস্থায় রয়েছে, তা নয়। গাড়িটির পেছনের মোটর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ আসছে, চালকের সামনের ডিসপ্লেতে ক্ষতি রয়েছে এবং পাওয়ার টেইলগেটের কার্যক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যতে এসব অংশে মেরামতের প্রয়োজন হতে পারে। গাড়িটি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো এর কোনো ওয়ারেন্টি নেই। ফলে ব্যাটারি, মোটর কিংবা গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিলে মেরামতের পুরো খরচ নতুন মালিককেই বহন করতে হবে। কম দামে বিলাসবহুল টেসলা কেনার সুযোগ থাকলেও ভবিষ্যতের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় নতুন মালিকের জন্য বড় বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। আরটিভি/এসআর
এক চার্জে ২২১ মাইল চলে পুরোনো টেসলা, অবাক নতুন মালিক!
আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর উপস্থিত বুদ্ধিতে প্রাণ বাঁচল স্কুলবাস চালকের!
পিটিশনকারী মারা গেলেও যে শর্তে চলতে পারে গ্রিন কার্ডের আবেদন
এবার ইরানের পিকঅ্যাক্সে হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের, বললেন ‘১০ মিনিটে শেষ করতে পারব’
এক চার্জে ২২১ মাইল চলে পুরোনো টেসলা, অবাক নতুন মালিক!