
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির হ্যারিসন পরিবার ১৯৫৫ সালে দেশজুড়ে আলোচনায় আসে ১৩ ছেলে নিয়ে একটি ছবি প্রকাশের পর। এমোরি ও থেলমা হ্যারিসনের সন্তানদের নিয়ে তোলা ওই ছবি পরিবারটির অস্বাভাবিক বড় আকার এবং একের পর এক ছেলে সন্তানের জন্মের কারণে সে সময় ব্যাপক সংবাদমাধ্যমের আগ্রহ তৈরি করেছিল।
জোন্সবরো ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী এই পরিবারকে সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অল-বয় পরিবারগুলোর একটি হিসেবে তুলে ধরা হয়। ছবিতে হ্যারিসন দম্পতির ১৩ জীবিত ছেলেকে একসঙ্গে দেখা যায়। পরবর্তী পারিবারিক নথি অনুযায়ী, থেলমা মোট ১৪টি ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। তাদের একজন, আলভিন ল্যান্ডন হ্যারিসন, ১৯৩৫ সালে শিশুকালেই মারা যায়। ফলে পরিবারের ১৩ ছেলে বেঁচে ছিল।
পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, এমোরি ও থেলমার প্রথম সন্তান গাই লেস্টার হ্যারিসন জন্ম নেন ১৯৩৪ সালে। এরপর একে একে পরিবারে যোগ হয় আরও ছেলেসন্তান। ১৯৫৫ সালে জন্ম নেওয়া ইভান হিউস্টন হ্যারিসন ছিলেন জীবিত ছেলেদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। এত বড় একটি ছেলে-সন্তানের পরিবারই হ্যারিসনদের জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করে তোলে।
তবে পরিবারের গল্প সেখানেই শেষ হয়নি। দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে ছেলে সন্তানের পর ১৯৫৮ সালের ২৮ এপ্রিল টেনেসির জনসন সিটির একটি হাসপাতালে থেলমা জন্ম দেন কন্যাসন্তান বারবারা অ্যানকে। ওই সময়ের সংবাদপত্রে ঘটনাটিকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। সন্তান জন্মের পর এমোরি ও থেলমাকে নবজাতক মেয়েটিকে কোলে নিয়ে থাকতে দেখা যায়।
বারবারার জন্মের মধ্য দিয়ে পরিবারের দীর্ঘ ছেলে সন্তান জন্মের ধারায় পরিবর্তন আসে। ১৩ জীবিত ছেলেকে ঘিরে যে পরিবারটি কয়েক বছর আগেই জাতীয় সংবাদে পরিণত হয়েছিল, সেখানে এবার যোগ হয় একমাত্র কন্যাসন্তান।
হ্যারিসন পরিবারের পারিবারিক নথিতে মোট ১৪ ছেলে এবং পরে বারবারা অ্যানের জন্মের তথ্য পাওয়া যায়। ফ্যামিলি সার্চের নথিতেও আলভিনকে ১৯৩৫ সালে মারা যাওয়া সন্তান হিসেবে এবং বারবারাকে ১৯৫৮ সালে জন্ম নেওয়া কন্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হ্যারিসন পরিবারের এই ব্যতিক্রমী গল্পের আরেকটি অধ্যায় শেষ হয় ২০২৬ সালে। এমোরি ও থেলমার কন্যা বারবারা অ্যান হ্যারিসন রবার্টস ২৪ এপ্রিল ২০২৬ সালে ৬৭ বছর বয়সে মারা যান। তার মৃত্যুসংবাদে তাকে এমোরি ও থেলমার কন্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তার ভাইদের মৃত্যুর তথ্যও দেওয়া হয়েছে।
এমোরি হ্যারিসন ১৯৭১ সালে এবং থেলমা হ্যারিসন ১৯৭৬ সালে মারা যান। তাদের সন্তানদের পরবর্তী জীবন বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকজন টেনেসিতে থেকে গেলেও পরিবারের সদস্যরা পরবর্তীতে ইন্ডিয়ানা ও টেক্সাসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও বসবাস করেন।
তবে ১৯৫৫ সালের সেই ছবি আজও হ্যারিসন পরিবারের সবচেয়ে পরিচিত স্মৃতি হয়ে আছে। একদিকে ১৩ জীবিত ছেলেকে নিয়ে জাতীয়ভাবে আলোচিত হওয়া, অন্যদিকে চার বছর পর দীর্ঘ ছেলে সন্তান জন্মের ধারার পর একটি মেয়ের আগমন, সব মিলিয়ে পরিবারটির গল্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের এক বিরল মানবিক কাহিনি হয়ে রয়েছে।
আরটিভি/ এসকেডি


