
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসা অনেক প্রবাসীই জরুরি পরিস্থিতি মানেই ৯১১ মনে করেন। কিন্তু সব ধরনের সমস্যা ৯১১-এর আওতাভুক্ত নয়। জীবন বা সম্পদের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি না থাকলে স্থানীয় নন-ইমার্জেন্সি সেবা, পয়জন কন্ট্রোল বা মানসিক সংকটের জন্য ৯৮৮-এর মতো আলাদা নম্বর রয়েছে। সঠিক পরিস্থিতিতে সঠিক নম্বরে যোগাযোগ করলে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া সহজ হয়।
৯১১ হলো জীবনহানির আশঙ্কা, গুরুতর অপরাধ চলমান থাকা, আগুন, গুরুতর মেডিকেল ইমার্জেন্সি বা বড় দুর্ঘটনার মতো পরিস্থিতির জন্য। কল করার সময় নিজের সঠিক লোকেশন, কী ঘটেছে এবং কেউ আহত বা বিপদে আছে কি না, তা পরিষ্কারভাবে জানানো গুরুত্বপূর্ণ। ভাষাগত সমস্যা হলে ৯১১ কল সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দোভাষী সহায়তা চাওয়া যায়।
শহরের সাধারণ সমস্যা বা নন-ইমার্জেন্সি সেবার জন্য অনেক জায়গায় ৩১১ ব্যবহার করা হয়। তবে ৩১১ জাতীয় একটি সর্বজনীন নম্বর নয়, এটি স্থানীয় সরকারের সেবা। যেমন হিউস্টনে ৩১১ দিয়ে রাস্তার গর্ত, পানি বা স্যুয়ার লিক, আবর্জনা সংগ্রহের সমস্যা ও অন্যান্য নন-ইমার্জেন্সি বিষয় জানানো যায়। জরুরি পরিস্থিতিতে হিউস্টন কর্তৃপক্ষও ৯১১-এ কল করতে বলেছে।
কেউ ভুল করে ওষুধ, ক্লিনিং কেমিক্যাল বা অন্য কোনো সম্ভাব্য বিষাক্ত পদার্থ খেয়ে ফেললে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পয়জন কন্ট্রোল নম্বর ১-৮০০-২২২-১২২২-এ যোগাযোগ করা যায়। পয়জন কন্ট্রোলের সেবা বিনামূল্যে, গোপনীয় এবং ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে। তবে আক্রান্ত ব্যক্তি অচেতন হয়ে গেলে, শ্বাস নিতে সমস্যা হলে, খিঁচুনি হলে বা জাগানো না গেলে অপেক্ষা না করে ৯১১-এ কল করতে হবে।
মানসিক সংকট বা আত্মহত্যার চিন্তার ক্ষেত্রে ৯৮৮ সুইসাইড অ্যান্ড ক্রাইসিস লাইফলাইন গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিতে পারে। এটি মানসিক সংকটে থাকা ব্যক্তি বা তার পরিবারের সদস্যদের জন্য ব্যবহার করা যায়। তবে সংকটের ধরন অনুযায়ী জরুরি শারীরিক ঝুঁকি থাকলে ৯১১-এর প্রয়োজন হতে পারে।
পুলিশের এমন ঘটনায় যেখানে তাৎক্ষণিক বিপদ নেই, স্থানীয় পুলিশ বিভাগের নন-ইমার্জেন্সি নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। যেমন চুরি বা প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে কিন্তু অপরাধী ঘটনাস্থলে নেই, কিংবা কোনো নথি হারিয়ে গেছে। এই নম্বর শহর ও পুলিশ বিভাগের ওপর নির্ভর করে, তাই নিজের এলাকার অফিসিয়াল পুলিশ ওয়েবসাইট থেকে নম্বরটি সংরক্ষণ করে রাখা ভালো।
হাইওয়েতে গাড়ি নষ্ট হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ৯১১, স্থানীয় ট্রাফিক সেবা বা গাড়ির ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির রোডসাইড অ্যাসিস্ট্যান্স ব্যবহার করতে হয়। ৫১১ নম্বরটি অনেক অঙ্গরাজ্যে ট্রাফিক ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যের জন্য ব্যবহৃত হলেও এটি সব ধরনের জরুরি সেবার বিকল্প নয়। তাই ৫১১ সব জায়গায় একই ধরনের সেবা দেবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
নতুন প্রবাসীদের জন্য আরও একটি ভালো অভ্যাস হলো ফোনে জরুরি কন্টাক্ট সংরক্ষণ করা এবং আইফোনের মেডিক্যাল আইডি বা অ্যান্ড্রয়েডের ইমারজেন্সি ইনফরমেশন সেটআপ করে রাখা। সেখানে জরুরি যোগাযোগের ব্যক্তির তথ্য ও প্রয়োজনীয় মেডিকেল তথ্য রাখা যেতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জরুরি পরিস্থিতিতে আগে বুঝতে হবে সেটি জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করছে কি না। তাৎক্ষণিক বিপদ থাকলে ৯১১-ই প্রথম পছন্দ। আর নন-ইমার্জেন্সি সমস্যার ক্ষেত্রে নিজের শহর বা অঙ্গরাজ্যের নির্দিষ্ট সেবা নম্বর ব্যবহার করাই নিরাপদ।
আরটিভি/ এসকেডি


