ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিবাসী শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নথিবিহীন বা বৈধ অভিবাসন মর্যাদা না থাকা শিক্ষার্থীদের নতুন করে ভর্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডা বোর্ড অব গভর্নরসের ভোটে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যারা ভবিষ্যতে ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান, তাদের অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে অবস্থানের প্রমাণ থাকতে হবে। সিদ্ধান্তটি নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিবাসী পরিবার ও অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নতুন এই নিষেধাজ্ঞা ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হবে। তবে নিয়মটি মূলত নতুন করে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ বর্তমানে ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করছেন এমন নথিবিহীন শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্তের কারণে তাদের বর্তমান পড়াশোনা হারাবেন না। কিন্তু ভবিষ্যতে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাওয়া নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার দরজা বন্ধ হয়ে যাবে।

এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি হতাশ হয়েছেন ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী আলেকজান্ডার ভ্যালেহোস। তিনি বলেন, খবরটি শুনে তার হৃদয় ভেঙে গেছে এবং পুরো বিষয়টি তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। ভ্যালেহোসকে মাত্র এক বছর বয়সে তার বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসেন। তিনি আগে পাম বিচ স্টেট কলেজে পড়াশোনা করেছেন এবং আগামী বসন্তে ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা থেকে স্নাতক হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্তে ভ্যালেহোসের নিজের পড়াশোনায় কোনো প্রভাব পড়ছে না। তবে তার চেয়ে কম বয়সী নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তার আশঙ্কা, যারা এখনো উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার বয়সে পৌঁছায়নি, তারা ফ্লোরিডার সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ হারাবে। ভ্যালেহোস বলেন, তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। কিন্তু একই পরিস্থিতিতে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে তার খুব খারাপ লাগছে।

ফ্লোরিডায় সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের বিষয়ে এটি সাম্প্রতিক সময়ে নেওয়া দ্বিতীয় বড় সিদ্ধান্ত। এর আগে গত জুনে স্টেট বোর্ড অব এডুকেশন ফ্লোরিডা কলেজ ব্যবস্থার আওতাভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি নিয়ে নতুন নিয়ম অনুমোদন করে। ওই নিয়ম অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মার্কিন নাগরিক অথবা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে অবস্থানরত হতে হবে। ফলে ফ্লোরিডার সরকারি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের সুযোগ আরও সংকুচিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেস্যান্টিস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ফ্লোরিডার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধভাবে থাকা অভিবাসীদের ভর্তি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট। ডেস্যান্টিসের বক্তব্য, ফ্লোরিডার বাসিন্দা এবং আমেরিকান নাগরিকদের স্বার্থকে সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তার এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন অঙ্গরাজ্যের আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা।

ফ্লোরিডার লেফটেন্যান্ট গভর্নর জে কলিন্সও এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাদেরই পড়াশোনার সুযোগ থাকা উচিত যারা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে অবস্থান করছেন। ফ্লোরিডার করদাতাদের অর্থ এমন ব্যক্তিদের শিক্ষার সুযোগে ব্যয় করা উচিত নয়, যারা আইন ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ফ্লোরিডা ও আমেরিকার নাগরিকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াই রাজ্য সরকারের দায়িত্ব।

অন্যদিকে, নথিবিহীন শিক্ষার্থী ভ্যালেহোস বলেছেন, তার মতো শিক্ষার্থীরা কোনো বিশেষ সুবিধা বা সরকারি সহায়তা চাইছেন না। তারা শুধু নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ চান এবং সেই সুযোগ পেলে নিজেদের পরিশ্রমে এগিয়ে যেতে চান। তিনি বলেন, তারা কারও কাছ থেকে দান বা বিনামূল্যের সুবিধা চাইছেন না। শুধু পড়াশোনা করার সুযোগ পেলে পরবর্তী পথ তারা নিজেদের যোগ্যতা ও পরিশ্রম দিয়েই তৈরি করতে চান।

এদিকে, বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্যের জন্য ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় এর বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হবে, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ কতটা সীমিত হবে, সেটিই আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নেতানিয়াহু মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই খালি জাতিসংঘের অধিবেশন কক্ষ
যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার জন্য পোডিয়ামে দাঁড়ানোর পরপরই চরম এক নাটকীয় পরিস্থিতির তৈরি হয়। তার বক্তব্য শুরু হওয়ার সাথে সাথেই অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে দলবেধে বাইরে চলে যান বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা।
নেতানিয়াহু মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই খালি জাতিসংঘের অধিবেশন কক্ষ
জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট / মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে ধাত্রীসেবা জোরদারের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে দক্ষ ধাত্রীসেবা বা মিডওয়াইফারির কার্যকর সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কার্যকর পদক্ষেপ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের এক সাইড ইভেন্টে।
মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে ধাত্রীসেবা জোরদারের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশকে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট
মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে বাংলাদেশের নতুন করে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি সই হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বিশেষ পোস্ট দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 
বাংলাদেশকে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট
লালগালিচায় চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানালেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুসজ্জিত সামরিক বিমান উড়িয়ে এবং ১০০ ফুট (৩০ মিটার) দীর্ঘ লালগালিচা বিছিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে লালগালিচা সংবর্ধনা জানিয়েছেন।
লালগালিচায় চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানালেন ট্রাম্প
জুতা দিয়ে টেবিলে আঘাত থেকে সনদ ছেঁড়া, জাতিসংঘে স্মরণীয় সব মুহূর্ত
নিউ ইয়র্কে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন বিশ্বনেতারা। এমন সময় বিশ্বরাজনীতি, যুদ্ধ, সংঘাত ও কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি অতীতের স্মরণীয় ঘটনাগুলোও ফিরে আসছে আলোচনায়। জাতিসংঘের ইতিহাসের এমন কিছু স্মরণীয় ও আলোচিত মুহূর্ত নিচে তুলে ধরা হলো— ফিদেল কাস্ত্রোর সাড়ে ৪ ঘণ্টার ম্যারাথন ভাষণ (১৯৬০)  জাতিসংঘের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ভাষণের রেকর্ডটি কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর দখলে। ১৯৬০ সালে নিজের প্রথম ভাষণে তিনি টানা ৪ ঘণ্টা ২৯ মিনিট বক্তব্য দেন। এই সময়ে তিনি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কড়া সমালোচনা করেন এবং কিউবান বিপ্লবের আদর্শ তুলে ধরেন। Politics নিকিতা ক্রুশ্চেভের টেবিল চাপড়ানো (১৯৬০) ১৯৬০ সালের অধিবেশনে পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত সাম্রাজ্যবাদের সমালোচনা করায় ক্ষুব্ধ হয়ে সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ নিজের টেবিলে সজোরে ঘুষি মারতে থাকেন। এই অধিবেশন ঘিরেই তার জুতা খুলে টেবিলে আঘাত করার ঐতিহাসিক কিংবদন্তি চালু হয়। হুগো চ্যাভেজ ও ‘শয়তানের গন্ধ’ (২০০৬) ২০০৬ সালে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো চ্যাভেজ পডিয়ামে উঠে বুকে ক্রস আঁকেন এবং তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘গতকাল এখানে শয়তান এসেছিল। আজও এখানে গন্ধকের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।’ গাদ্দাফির সনদ ছিঁড়ে ফেলা (২০০৯)  লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ২০০৯ সালে ১৫ মিনিটের সময়সীমা ভেঙে টানা ১০০ মিনিট বক্তব্য দেন। নিরাপত্তা পরিষদকে ‘সন্ত্রাস পরিষদ’ আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে জাতিসংঘ সনদের একটি পাতা ছিঁড়ে কাঁধের ওপর দিয়ে ছুড়ে ফেলেন তিনি। নেতানিয়াহুর কার্টুন বোমা (২০১২)  ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অগ্রগতি বোঝাতে অধিবেশনে বোমার একটি বড় কার্টুন চিত্র প্রদর্শন করেন এবং একটি লাল কালি দিয়ে সেখানে সীমারেখা টানেন। ট্রাম্পের ‘রকেট ম্যান’ মন্তব্য (২০১৭)  ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক উত্তেজনার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেন এবং দেশটির নেতা কিম জং উনকে ‘রকেট ম্যান’ বলে উপহাস করেন। Politics(Right) গিলাদ এরদানের সনদ শ্রেড করা (২০২৪)  ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদের একটি প্রস্তাবের প্রতিবাদে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান একটি ছোট পেপার শ্রেডার মেশিন দিয়ে অধিবেশনের সামনেই জাতিসংঘ সনদের প্রচ্ছদ পাতা কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলেন। ট্রাম্পের ‘এস্কেলেটরগেট’  সম্প্রতি জাতিসংঘের মূল ভবনে প্রবেশের সময় এস্কেলেটর হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে হেঁটে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়। ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘নাশকতা’ বলে অভিযোগ করলেও জাতিসংঘ জানায়, ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা একজন ভিডিওগ্রাফার ভুলবশত এস্কেলেটরের ইমার্জেন্সি স্টপ বোতামে চাপ দেওয়ায় এটি বন্ধ হয়ে যায়। এসব নাটকীয় ঘটনা ছাড়াও দীর্ঘ ভাষণ ও ক্লান্তিকর সূচির কারণে জাতিসংঘ অধিবেশনে বিভিন্ন সময়ে বিশ্ব নেতাদের ঘুমিয়ে পড়ার দৃশ্যও ভাইরাল হয়েছে। ২০১৭ সালে জিম্বাবুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের ঘুমিয়ে পড়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল। সূত্র: ওয়াননিউজ আরটিভি/এসআর
জুতা দিয়ে টেবিলে আঘাত থেকে সনদ ছেঁড়া, জাতিসংঘে স্মরণীয় সব মুহূর্ত