
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের ব্যয়বহুল শহরগুলোতে তরুণদের বাড়ি কেনার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পার্সোনাল ফাইন্যান্স ওয়েবসাইট ওয়ালেটহাবের নতুন একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের যেসব শহরে ৩৫ বছরের কম বয়সী ক্রেতার হার সবচেয়ে বেশি, সেই তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়ার চারটি শহর শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়া সত্ত্বেও সান ডিয়েগোতে মর্টগেজ বা ঋণধারী তরুণদের হার ৮৪ শতাংশ। প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সান জোসেতে এই হার ৮২ শতাংশ, লস অ্যাঞ্জেলেসে ৭৮ শতাংশ এবং সান ফ্রান্সিসকোতে ৭৩ শতাংশ। তবে পশ্চিম উপকূলের অন্যান্য শহর যেমন সিয়াটলে ৮৭ শতাংশ এবং পোর্টল্যান্ডে ৮৬ শতাংশ তরুণ বাড়ি কিনেছেন।
জাতীয় পর্যায়ে তরুণদের বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে নর্থ ক্যারোলিনার শার্লট শহর, যেখানে ৩৫ বছরের কম বয়সী বাড়ির মালিকের হার সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ। এর ঠিক পরেই ৮৮ শতাংশ নিয়ে বাল্টিমোর এবং ৮৬ শতাংশ নিয়ে ওয়াশিংটন ডিসি অবস্থান করছে।
অন্যদিকে, বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে অন্যতম কঠিন শহর নিউইয়র্কে তরুণ মর্টগেজধারীর হার মাত্র ৬৬ শতাংশ এবং সবচেয়ে তলানিতে থাকা মিশিগানের ডেট্রয়েটে এই হার মাত্র ৪৫ শতাংশ।
ওয়ালেটহাবের এই উৎসাহব্যঞ্জক তথ্যের বিপরীতে পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউট অব ক্যালিফোর্নিয়ার আগস্ট মাসের একটি গবেষণায় কিছুটা ভিন্ন ও উদ্বেগের চিত্র দেখা গেছে। ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার অর্ধেক তরুণই প্রথম বাড়ি কেনার জন্য গড়ে ৪৭ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গড় বয়স মাত্র ৩৭ বছর।
গত ১৫ বছর ধরে ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির মালিকের চেয়ে ভাড়াটিয়ার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বর্তমানে রাজ্যটিতে নিজস্ব বাড়ির মালিকানা হার মাত্র ৫৬ শতাংশ, যা জাতীয় হার ৬৬ শতাংশের চেয়ে অনেক কম। কেবল নিউইয়র্কেই মালিকানার হার এর চেয়ে কম (৫৪%)।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, শ্বেতাঙ্গ ও এশিয়ানরা কৃষ্ণাঙ্গ ও ল্যাটিনোদের তুলনায় অনেক কম বয়সে বাড়ি কেনেন। বিশেষ করে আমেরিকান বংশোদ্ভূত এশিয়ানরা সবচেয়ে কম বয়সে (গড়ে ৩৯ বছর) বাড়ির মালিক হচ্ছেন। রিয়েল্টর ডটকমের তথ্যমতে, ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্তমানে সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি কেনার সেরা জায়গা হলো পোর্টারভিল, যেখানে একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য ৩ লাখ ২৫ হাজার ডলার।
আরটিভি/এসএস




